চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হারুনকে খুন

প্রকাশ:| রবিবার, ৩ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় পরিবহন ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা মো.হারুনকে (৪০) খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তবে পুলিশ চাঁদাবাজির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ব্যবসায়িক অথবা রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধে টার্গেট কিলিংকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করে বিবৃতি পাঠিয়েছে।

রোববার (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে নগরীর সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকায় শুভপুর বাসস্ট্যান্ডের ‍পাশে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস টি ট্রান্সপোর্টে ব্যবসায়ী মো.হারুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হারুন প্রয়াত বিএনপি নেতা দস্তগীর চৌধুরীর ভাই প্রয়াত আলমগীর চৌধুরীর ছেলে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মো.জোবায়ের এবং আব্দুল কাদের শোভাযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিলেন। শোভাযাত্রার শেষদিকে পেছন থেকে হারুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় বলে পুলিশের বক্তব্য।

তিন কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রার পেছন থেকে গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ দেখছে পুলিশ।

জানতে চাইলে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্জিনা আক্তার বলেন, তিনজন কাউন্সিলর ছিলেন। র‌্যালি শেষ হয়ে গেছে। তারপর গুলি করা হল। হারুন বিএনপিঘেঁষা। রাজনৈতিক বিরোধ ‍থাকতে পারে। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনসমাগমের মধ্যে কেউ সুযোগ নিতে পারে। ব্যবসায়িক বিরোধও থাকতে পারে। আমরা এসব বিষয়ই খতিয়ে দেখছি।

হারুনের বড় ভাই হুমায়ন চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন আগে কিছু লোক আমার ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা চাইতে গিয়েছিল। আমি কারো নাম বলতে পারব না। সে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেছিল। এই কারণে খুন করা হল কি না আমি সেটা পুলিশকে তদন্ত করতে অনুরোধ করছি।

এদিকে হারুনের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যাওয়া নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর দাবি করেছেন, স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হারুণ
খুন হয়েছেন।
জানতে চাইলে ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ২৭ নভেম্বর মাদারবাড়ির মরিচ্যাপাড়া এলাকায় লিটনের গ্রুপের সঙ্গে আরেক গ্রুপের মারামারি হয়েছিল। তখন হারুনসহ ব্যবসায়ীরা ভয় পেয়ে থানায় এসেছিল। এখানে চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ছিল না। পরে ব্যবসায়ীরাও আর কোন মামলা দেননি। চাঁদাবাজি নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছি না।

নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টার্গেট কিলিং বলেই মনে হচ্ছে। হারুনকে টার্গেট করেই গুলি করা হয়েছে।

সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, হারুন এলাকার ছেলে এবং প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে। এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়েও কারো সঙ্গে বিরোধ থাকতে ‍পারে। সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি।

হারুনের ভাই হুমায়ন জানিয়েছেন, তাদের বাবা-মা বেঁচে নেই। অবিবাহিত হারুনকে বিয়ে করানোর জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাৎ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা আওয়ামী লীগের আনন্দ মিছিল থেকে গুলি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে জানিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জায় রাখতে সরকার বিএনপির বলিষ্ঠ নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করছে।