পুলিশের চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ

ঈদের আগে ও পরে কোনো পরিবহনের কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আকতার।

হাফিজ আকতারতিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্সে থাকবে পুলিশ।’

এছাড়াও সভায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন কাজের ধীরগতি ও অসমাপ্ত কাজের জন্য এবার ঈদেও ভোগান্তি বাড়বে বলে অভিমত প্রকাশ করেন পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এর প্রেক্ষিতে এক সপ্তাহের মধ্যে খানা-খন্দ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে সওজ প্রকৌশলী।

বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপারের সাথে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সওজের কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

পুলিশ সুপার হাফিজ আকতার বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্সে থাকবে। যদি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে, সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসময় তিনি ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাস্তায় চাঁদ‍াবাজি করবেন না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে থাকব। কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে কোনভাবেই কাগজপত্র তল্লাশি করা হবেনা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কন্টোল রুম খুলেছি। কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে কন্টোল রুমে ফোন করবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ও তিনজন ট্রাফিক পরিদর্শক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সংযুক্ত থাকবেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিও থাকবেন। একটি নাম্বার থাকবে, যে কোনো সমস্যা ওই নাম্বারে ফোন করে জানানো যাবে।’

এবার ঈদে তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কাজ করবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘গতবার ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঈদুল ফিতরের আগের তিনদিন এবং পরের তিনদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল বরবারের মতো এবারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো, এবারও তা বলবত থাকবে। তবে এবার পুলিশ নতুন তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে উল্টো পথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। কোনো ভাবেই মহাসড়কে উল্টো পথে গাড়ি চলতে দেয়া যাবে না। শুধু মাত্র এ একটি কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়কের যে স্থান গুলোতে রাস্থা ভাঙ্গা আছে সেখানে পুলিশ ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া মহাসড়কে সিএনজি, নসিমন বা ভটভটি চলাচলে কঠোর ভুমিকা রাখবে পুলিশ। ’

এসময় মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধে এসি-নন এসি সব বাস ছাড়ার আগে স্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিডিও করে তা সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

সভায় বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান-ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু মোজাফফর বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা বৃষ্টিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। চার লেনের রাস্তার অনেক অংশ দেবে গেছে। এর ফলে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালনো যাচ্ছেনা। গাড়িও গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে খানাখন্দ মেরামত না করলে ঈদের সময় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে।’

এসময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা জানান, চারলেন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামত শেষ হবে।

সভা শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বাংলামেইলকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের কাজ ২০১২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে সড়কের অবস্তা কাহিল হয়ে পড়েছে। এনিয়ে ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ ছাড়াও ঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের অনেকাংশ দেবে গেছে। এতে বোঝা যায় এখানে বড় ধরনের চুরি হয়েছে। দেশে জবাবদিহিতার অভাবেই এমনটা ঘটছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁইয়া এবং পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক মালিক সমিতির মহাসচিব মো. আবু মোজাফ্ফর, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক প্রমুখ।


আরোও সংবাদ