চাঁদপুরে ১৮দলের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:০৭ অপরাহ্ণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার বিকেলে ১৮দলের কর্মীদের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন।চাঁদপুরে সংঘর্ষ-গুলি, নিহত ৩
চাঁদপুরে সংঘর্ষ-গুলি, নিহত ৩
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- উপজেলার রুপসা ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বাবুল, ছাত্রদলকর্মী আরিফ হোসেন (২৮) ও যুবদলকর্মী জাহাঙ্গীর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার এবং জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক জয়নাল আবদীন ও স্থানীয় একটি পত্রিকার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা নারায়ণ রবিদাসসহ আহতদের উপজেলা হাসপাতাল ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তারা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে একটি মিছিল বের করে বিএনপি। এতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়ে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হোসাইন আহম্মেদ টিটু সমকালকে জানান, গুলিবিদ্ধ আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাসুম জানান, গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীর হাসপাতালে মারা গেছেন।

চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ হারুনুর রশিদের ব্যক্তিগত সহকারি আতিকুর রহমান সমকালকে জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা নেয়ার পথে মারা যান বাবুল।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, “পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা ফরিদগঞ্জ বাজারের দিকে আসছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে আমরা তাদের নির্ধারিত রুটে মিছিল নিয়ে যাওয়া জন্য বলি। কিন্তু তারা তা না শুনে আমাদের বাধা ঠেলে বাজারের দিকে যেতে চায় ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। এতে সংঘর্ষ বাধে।”

তিনি জানান, এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন।

তবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা হামলা চালিয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বাধ্য হয়ে পুলিশ প্রায় দুই শতাধিক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।