চসিক একুশে স্মারক সম্মাননা, সাহিত্য পদক প্রদান

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:০০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ১১জন গুনীকে একুশে স্মারক সম্মাননা
এবং ৫জন কবি, গবেষক ও সাহিত্যিককে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অতীতের ধারা বাহিকতায় ২০১৫ সনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলন, সমাজ সেবা, শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প-বাণিজ্য, পেশা, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির অঙ্গণে বিরল অবদানের জন্য ১১জন গুনী এবং কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষনা, কথা-সাহিত্য, বিশ্ব সাহিত্য ও শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য ৫জনকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ খ্রি. শনিবার বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনষ্টিটিউট চত্ত্বরে বই মেলার মুক্ত মঞ্চে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম নিজ হস্তে পদক ও সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেন। ২০১৫ সনে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পক্ষে তার মেয়ে আফরোজা জামান চৌধুরী রিংকী, সমাজ সেবায় অবদানের জন্য মরহুম এল কে সিদ্দিকীর পক্ষে তার ছেলে আবছার আহমদ সিদ্দিকী, জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মরহুম জানে আলম দোভাষের পক্ষে তার ছেলে এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলহাজ্ব শাহজাদা মোহাম্মদ ফৌজুল আলি খান(মরণোত্তর) এর পক্ষে তার ছেলে শাহজাদা শরফ উদ্দিন মোহাম্মদ সওকত আলী খান শাহিন ও ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ আলী খান ফরিদ, শিক্ষায় প্রফেসর ড. সিকান্দার খান, ক্রীড়ায় মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এর পক্ষে তার নাতী সওকত আনোয়ার বাদল, আইন পেশায় এডভোকেট মোহাম্মদ কবির চৌধুরী, সাংবাদিকতায় মোহাম্মদ ইউসুফ, সংস্কৃতিতে মলয় ঘোষ দস্তিদার এর পক্ষে তার মেয়ে প্রতিমা ঘোষ দস্তিদার এবং শিল্প-বাণিজ্যে আলহাজ্ব খলিলুর রহমান। এছাড়াও সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবিতায় ময়ুখ চৌধুরী, প্রবন্ধ ও গবেষনায় ড. মনিরুজ্জামানের পক্ষে তার কন্যা জুবাইদা খানম লুছি, কথা সাহিত্যে বিশ্বজিৎ চৌধুরী, সিদ্দিক আহমদ এবং শিশু সাহিত্যে ইকবাল বাবুল। তারা সিটি মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম এর নিকট থেকে সম্মাননা পদক, ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহন করেন। একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বই মেলা আয়োজন উপ কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রশিদ আহমদ। মঞ্চে প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, রেহেনা বেগম রানু, রেখা আলম চৌধুরী,প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সিটি ম্যাজেস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন, মেয়র মহোদয়ের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা আশেক রসুল চৌধুরী টিপু সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পদক ও সাহিত্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে চসিক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম। পদক ও সাহিত্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম ভাষা শহীদ ও স্বাধীনতার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, রাষ্ট্রীয় ভাবে মহান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক অনেক গুনীজন পেয়ে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও প্রতিবছর গুনীজনকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক, সাহিত্য পুরস্কার সহ স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক দিয়ে যাচ্ছে। মেয়র বলেন, মহান একুশে বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। তিনি বলেন, রক্তসøাত গৌরবের একুশের চেতনা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরনিত করছে। মেয়র একুশের চেতনা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধকে ধারন করে দেশ সেবায় ব্রতি হতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
প্রধান আলোচক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, ১৯৯৯ সনের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে আজ ১৯৩টি দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ড. সেন বলেন, রফিক, শফিউর, সালাম, বরকত ও জব্বার ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিল। তাদের রক্তের বিনিময়ে মায়ের ভাষাই নয় স্বাধীনতার বীজও রোপিত হয়েছিল। তিনি বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবী জানান। ড. অনুপম সেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একুশ আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক। তিনি একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধকে ধারন করে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। একুশে পদক এবং সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তরা তাদের নিজ নিজ অনুভুতি ব্যক্ত করেন।


আরোও সংবাদ