চসিক আয়োজিত ২০১২-১৩ অর্থবছরের কার্যক্রম অবহিতকরণ ও সুধী সমাবেশ

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ

সব সরকারই চট্টগ্রামের দিকে উদাসীন-মহিউদ্দিন
আন্তরিকতা থাকলেও সিটি করপোরেশনে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে কাঙ্খিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না-নোমান
খাল খননে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন-মনজুর

নোমান,মহিউদ্দিন,মন্জুবুধবার দুপুরে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) আয়োজিত ২০১২-১৩ অর্থবছরের কার্যক্রম অবহিতকরণ ও সুধী সমাবেশে সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান,সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিকান্দার খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ, নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এস ইউ নুরুল ইসলাম, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ, বিএমএ সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, বিএফইউজে সহ সভাপতি ইস্কান্দার আলী চৌধুরী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, চট্টগ্রামস্থ রাশিয়া ফেডারেশনের সেক্রেটারী মিসেস আইদা এন আবুবাকিরওভা, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, করপোরেশনের নির্বাহী প্রধান কর্মকর্তা আলী আহমদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ সময় তিনি বলেন,‘সব সরকারই চট্টগ্রামের দিকে উদাসীন। আমরা মিলে মিশে কাজ করলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভব।’
চসিক মেয়র মনজুর আলমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,‘আমার দূর্নাম করলে তার লাভ (বর্তমান মেয়র)। তার দুর্নাম করলে আমার লাভ। এটা ভুলে যেতে হবে। কারণ আমি আর ভবিষ্যতে সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। সময় আছে মাত্র আর দু’বছর। এই সময়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমার বুদ্ধি নিলে সমস্যা হবে না। আমি সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবো।‘
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিটি গর্ভনমেন্ট বাস্তবায়ন করার বিকল্প নেই। অনুমতি ছাড়া কোন কাজ করা যাবে না এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘শিক্ষার দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। এখন অনেক অগ্রসর হয়েছি। তিনি এসময় নগরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আন্তরিকতা থাকলেও সিটি করপোরেশনে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে কাঙ্খিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। চট্টগ্রাম থেকে বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া হলেও এর ন্যায্য হিস্যা এখানকার উন্নয়নে দেওয়া হয় না। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আলাদা বরাদ্দ দিতে হবে।’

নোমান বলেন,‘কর্ণফুলী নদী হালদা নদীতে পরিনত হচ্ছে। এ নদীটি বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন,‘যে দলই করি না কেন চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকবে দলে। প্রতিযোগীতা হবে ভোটে। কিন্তু কোন প্রতিহিংসা থাকবে না। তাহলেই চট্টগ্রামের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি সিটি মেয়র এম মনজুর আলম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা উল্লেখ করে বলেন,‘উনার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। ১৭ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনকালে উনার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেছি। এটা আমি সব সময়ই স্বীকার করি।’

এসময় মহিউদ্দিন চৌধুরী তার উপর আস্থা রেখে বেশ কয়েকবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন চসিক মেয়র।

মহিউদ্দিনের দাবি সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘আমি আগে নগরীর উন্নয়নে সিটি কো-অর্ডিনেশনের কথা বললেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের উন্নয়নে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য এবং জরুরি।’

নগরীতে জলাবদ্ধতা নেই দাবি করে মেয়র বলেন, ‘আমাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে নগরীতে বর্তমানে জলবদ্ধতা নেই। যা হচ্ছে তা কয়েক ঘন্টার জলজট। কর্ণফুলীর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে নগরীর নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলজট হচ্ছে। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্লান বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’

এসময় মেয়র ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খননের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন,‘প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চট্টগ্রামে কোন ধরণের জলাবদ্ধতা কিংবা জলজট থাকবে না।’তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।