চসিক-অনান্য দপ্তর সমূহের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ মে , ২০১৭ সময় ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিপত্রের আলোকে ২৩ মে মঙ্গলবার, দুপুরে নগরভবনে সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সেবা প্রদানকারী সরকারী,আধাসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত দপ্তর সমূহের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন । সমন্বয় সভায় পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষ, সিডিএ কর্তৃপক্ষ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লি. চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম, গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম, কর্ণফুলি গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোং. লি., জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম চেম্বার এর পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেব দাশ ভট্টচার্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শামসুল করিম, বিটিসিএল এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী তমাল কান্তি নন্দী, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহা ব্যবস্থাপক (পূর্ব) চৌধুরী মোহাম্মদ ইসা ই খলিল, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক, সড়ক ও জনপদ এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন খান,বিভাগী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার, কর্ণফুলি গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোং মহা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আনিস উদ্দিন আহমেদ, ফায়াস সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর এস এস ও নিউটন দাস, জেলা সমাজ সেবার উপ পরিচালক বন্ধনা দাশ,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত থেকে স্ব স্ব সংস্থার সমন্বয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। সমন্বয় সভা উপস্থাপনায় ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম। সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা,প্রধান প্রকৌশলী সহ বিভাগীয় প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবার একমাত্র জন প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থা। এ সংস্থার নিকট নাগরিক প্রত্যাশা বহুবিধ। মৌলিক অধিকার এর পাশাপাশি মানুষের নানাবিধ চাহিদা পুরন করার জন্য জনগণ মেয়রের নিকট আসেন। নির্দ্দিষ্ট সেবার বাইরে পানি,গ্যাস,বিদ্যুৎ সহ সকল বিষয়ে মেয়রকে জবাবদিহি হতে হয়। নাগরিক চাহিদা ও সমস্যা নিরসনের লক্ষে সরকার পরিপত্রের মাধ্যমে মেয়রকে সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। সরকারের স্বদিচ্ছা ও উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল ও তরান্বিত করার জন্য একে অপরের সহযোগিতা অপরিহার্য। সে লক্ষ্যে সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নাগরিক দূর্ভোগ এর একটি কারন। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার চায়না সহ অসংখ্য দাতা সংস্থার মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আশা করা যায় মেয়াদের মধ্যেই জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসবে। সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়রাম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল বলেন, মাননীয় মেয়র এর সিদ্ধান্তনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে মহেষখালে স্ল্যুইচ গেইট নির্মিত হবে। এ গেইট নির্মাণে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, কর্ণফূলী নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং আইনের বাধ্যবাধকতার কারনে দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। নৌবাহিনীর সহযোগিতায় আগামী মাস থেকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হতে পারে। এছাড়াও কর্ণফূলী নদীর সাথে চট্টগ্রাম নগরীর সংযোগ খালগুলো ড্রেজিং কার্যক্রম চালু করা হবে। তিনি বলেন, বন্দর এর হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে। বন্দর ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সমন্বয় এর মাধ্যমে বন্দর পৌরকর পরিশোধ করতে বদ্ধ পরিকর। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা জনগণের সেবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ও ভিশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে বদ্ধ পরিকর। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষে সচিব তাহেরা ফেরদৌস ও প্রধান পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম সমন্বয় সভায় বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হতে প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপন করবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভবন নির্মাণ নকশা অনুমোদন প্রাক্কালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলার নিশ্চয়তা বিধান,ইমারত নির্মাণ বিধি-২০০৮ অনুযায়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করন সহ নানা বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ সভায় বলেন, পানির পাইপ লিক হয়ে রাস্তার ক্ষয় ক্ষতির বিষয়টি ওয়াসার সুনজরে আছে। যেখানে লিকেজ সেখাইনেই মেরামত কার্যক্রম পরিচালার নির্দেশনা দেয়া আছে। রাস্তা কর্তন বিষয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এর মাধ্যমে রাস্তা কর্তন করা হচ্ছে। চসিক এর নালা ও খালে বিদ্যমান পানির পাইপলাইন অপসারন এবং পুঃনস্থাপন কাজ চলমান আছে। তিনি বলেন, যে সকল এলাকায় পানির সংযোগ নেই সেই সকল এলাকার কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নতুন পাইপ লাইন সংযোগ স্থাপন করা হবে। চসিক এর পৌরকর যথানিয়মে পরিশোধ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কর্ণফুলী গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন লি. এর মহা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আনিস উদ্দিন আহমেদ সভায় বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে গ্যাস লাইন স্থাপন করা হবে। নালা ও খাল থেকে পাইপলাইন অপসারন ও পুঃনস্থাপনের কাজ চলমান আছে। তিনি পৌরকর পরিশোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. ইসা ই খলিল সভায় বলেন, পুরাতন রেল ষ্টেশন এর পানি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে এ জটিলতা নিরসনে পানি ডাইভারট এর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য চসিককে অনুরোধ জানান। বাসাবাড়ীর হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বরাদ্ধ চেয়ে পত্র প্রেরনের কথা মেয়রকে অবহিত করেন। তিনি চসিক এর মাধ্যমে এসটিএস স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনায় আছে বলে জানান। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন খান বলেন, চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশ পথ গুলোতে আংশবিশেষ সড়ক ও জনপথের রাস্তা রয়েছে। তিনি বলেন, ৩য় কর্ণফুলী সেতু নির্মান প্রকল্প চলমান আছে। তিনি বলেন, বহদ্দারহাট ইন্টারসেকশন হতে কর্ণফূলী সেতুর উত্তর প্রান্তে এ্যাপ্রোচ চার লেইনে এবং অবশিষ্ট অংশ ৬ লেইনে উন্নিতকরন কাজ, কর্ণফূলীর দক্ষিণ এ্যাপ্রোচ থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত ৪ লেইনে উন্নিতকরন, উত্তর পাশে ৪ টি ব্রিজ, ২ টি আন্ডারপাস, উত্তর এবং দক্ষিণ পাশ মিলে ৮ টি কালবার্ট এবং সড়কের উভয়পাশে ফুটপাত ও ড্রেইন নির্মাণকাজ চলমান আছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশ কোং লি. এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী তমাল কান্তি নন্দী বলেন, সম্প্রসারিত সড়ক থেকে টেলিফোন লাইনের খুটি ও অপ্রয়োজনীয় তার অপসারন করার কার্যক্রম চলমান আছে। তিনি বিটিসিএল ছাড়া অন্যকোন অপারেটরকে রাস্তা কাটার অনুমতি প্রদান করার পূর্বে বিটিসিএলকে অবহিত করার অনুরোধ জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শামসুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প সংশোধন করে পরিকল্পনা পরিষদের মতামতের লক্ষে ডিপিপি পুনঃগঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর এস এস ও নিউটন দাশ বলেন, সচেতনতা ও জন সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, ওয়ার্ড ভিত্তিক দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূর্যোগ, ঝুঁকি এড়াতে করনীয় সম্পর্কে মহড়া দেয়া হচ্ছে। জেলা সমাজ সেবা উপ পরিচালক বন্ধনা দাশ বলেন, হিজড়াদের সঠিক কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। কারন হিজড়া রা ভাসমান এবং জেলা থেকে জেলায় ঘুরে বেড়ায় তাদেরকে নিয়ন্ত্রনে রাখা কষ্টসাধ্য বিষয়। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বিধবা ভাতার প্রচলন নেই। তিনি বিধবা ভাতা চালু করার জন্য মেয়র মহোদয়কে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় মেয়রের সহযোগিতা কামনা করেন। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, আসন্ন রমজান মাসে যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ,ইপিজেড থেকে এয়ারপোর্ট রোডে রাস্তা সম্প্রসারন, রোড মার্কিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। মাদকমুক্ত নগরী গড়ার মেয়রের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান। খাল নালা সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি কর্পোরেশনকে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।