চসিকের শিক্ষা নীতিমালা নতুন দিগন্তের শুভ সূচনা-ছাত্রলীগ

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ সময়ের ঔপ-নিবেশিক শাসনের যাতাকলে পৃষ্ঠ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পাওয়া আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্বভার যখন আমাদের মমতাময়ী বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পালন করছেন যখন কিনা তার নতুন স্বপ্ন ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। যার ধারাবাহিকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগসহ প্রতিটি সহায়ক সংগঠনের কর্মী বাহিনী। তার-ই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ২৬ জুলাই আমাদের প্রাণপ্রিয় পরীক্ষিত আওয়ামীলীগের রাজনীতির অন্যতম একজন কর্মী মাননীয় মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন চসিকের দায়িত্ব ভার নেওয়ার সাথে সাথে দীর্ঘ সময়ে জমাট বাঁধা জঞ্জাল গুলো পরিস্কার করে গ্রীন ও ক্লিন সিটি বাস্তবায়ন করার প্রত্যয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের অংশ হিসেবেই চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা নীতিমালা প্রকাশ করেন ০৩ এপ্রিল ২০১৭। আমরা ছাত্র/ছাত্রীদের প্রতিনিধি হিসেবে ১২৪ পৃষ্ঠার অসাধারণ এই নীতিমালা গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সহিত লক্ষ্য করি, যেখানে আমরা দেখতে পাই, এই শিক্ষা নীতির মাধ্যমে অতীতের চসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশেষ কিছু ব্যক্তির দীর্ঘ সময়ের শিক্ষা বাণিজ্য চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে জাতীয় শিক্ষানীতিমালা থাকার পরেও এই শিক্ষা নীতিমালা কেন? এর উত্তরে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি চসিক কোন ২/১ বছরের সংগঠন নয়, এর রয়েছে দীর্ঘ সময়ের গৌরবময় ইতিহাস। যারা শিক্ষা ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তারা নিশ্চয় জানেন ১৯২৭ সাল হতে তৎকালীন চট্টগ্রাম পৌরসভার অধীনে থেকে বর্তমান চসিক এর শিক্ষা কার্যক্রমের উৎপত্তি। এই দীর্ঘ সময়ের বাস্তবতা এবং প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেই এই নতুন শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন। যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশা-পাশি দক্ষ এবং সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়তে সহায়তা করছে। সেখানে চসিক কেন তার ৬০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠন মূলক চিন্তা করবে না? হ্যাঁ এই চিন্তার সফলতাই হচ্ছে নতুন নীতিমালা, যা কোনভাবেই জাতীয় শিক্ষা নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর এই শিক্ষানীতি জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে রচিত। বর্তমান প্রশাসন যখন চসিক এর প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে দূর্নীতির মূল উৎপাটনে বদ্ধপরিকর, যখন কিনা তিনি অতীতে হয়ে আসা শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ বাণিজ্যের নামে দূর্নীতি দমনে নানা প্রকারের সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করছেন, তখনই দূর্নীতিবাজদের গডফাদার এবং তার সঙ্গীরা মাঠে ময়দানে প্রলাপ করে জনমনে মিথ্যা ধারণা তৈরীর অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে, যা চট্টগ্রামের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের চোখে পড়ছে। এক ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহার রোধেই ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ আছে এই নীতি মালায়। উল্লেখ্য যে, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে কিছু ছাত্র নামধারী অ-ছাত্র বিভিন্ন পর্যায়ে তারা চসিক শিক্ষা নীতিমালা নিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তারা নিজেদের বক্তব্যেই এই শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের পক্ষে বিভিন্ন তথ্যসন্নিবেশ করে। তারা দাবী করে চসিকের শিক্ষা নীতিমালা করার কোন ক্ষমতা নাই। তা ছাড়া শিক্ষা বিষয়ে কোন আলাদা নীতিমালা করা যাবে না, এমন কোন তথ্যও কোথাও নাই। দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের চাপা কান্নাকে সম্মান করে, শিক্ষার পরিবেশকে উন্নত করতে শিক্ষক/শিক্ষিকাদের স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া এই নীতিমালার মাধ্যমে সহজ করা হয়েছে, ফলে কোন রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, প্রকৃত মেধাবী শিক্ষক/শিক্ষিকারাই প্রকৃত শিক্ষা প্রদানের সচেষ্ট থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের অধিভূক্ত এমপিও ভুক্ত স্কুল সমূহের শিক্ষক/শিক্ষিকদের বয়স সীমা করা হয়েছে ৬০ বছর। উল্লেখ্য অতীতে ৫৯ বছরের অবসর গ্রহণ করলেও আরও অতিরিক্ত সময় ধরে শিক্ষাদান না করেও বেতন ভোগ করতেন, যা বর্তমান নীতিমালায় পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী সরকারী ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিয়োগের বিধান রয়েছে ৭ম গ্রেডে। সে নিয়মই রক্ষা হয়েছে চসিক কর্তৃক গৃহীত শিক্ষা নীতিমালায়। অনেকেই বেশি কথা বলতে গিয়ে মিথ্যাচারের চরম মাত্রা অতিক্রম করেছে, যেমন : চসিক এর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোথাও টাকা জমা নেয়ার রশিদে “নগর উন্নয়ন ফি” নামে কোন খাত নেই, কিন্তু আমাদের কিছু পথভ্রষ্ট ছাত্রবন্ধুদ্বয় বলছে আছে। অতীতে যা বিবিধ ফি নামে নেওয়া হত, বর্তমানে তা “উন্নয়ন ফি” নামে নেওয়া হয়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে। চসিক কর্তৃক গৃহীত এই যুগান্তকারী শিক্ষানীতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি প্রদান, ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির ক্ষমতা ও কার্যাবলী, নিয়োগ নিয়মিতকরণ ও স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া, শিক্ষক/শিক্ষিকাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সহ ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে নানা প্রকারের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। আধুনিকায়নের মাধ্যমে চসিক নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে এমন একটি জাতি গড়ে উঠবে যার মাধ্যমে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠতে বাধ্য। তাই আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর অংশ হিসেবে এই শিক্ষানীতিকে জাতীয় স্বার্থে চট্টগ্রামের শিক্ষার এক নতুন দ্বার উম্মোচনে সহায়তা করবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা শিক্ষক/শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ এবং ছাত্র/ছাত্রীদের সহায়ক চসিক কর্তৃক গৃহীত নতুন শিক্ষানীতিমালা ২০১৬ আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করি। তাই আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এই শিক্ষা নীতিমালাকে স্বাগত জানাই। “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু”। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষে বিবৃতি দাতারা হলেন, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিথুন মল্লিক, ইমতিয়াজ বাবলা, রেজাউল আলম রনি, জাহেদুল হক চৌধুরী মার্শাল, মহিউদ্দিন মাহি, রোকন উদ্দিন রানা, সরওয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাকিল, এম কায়সার উদ্দিন,নাজিম উদ্দিন রাসেল, রাশেদুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল, মঈনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন শাহরিয়ার, হাসমত আলী রাসেল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী দেবু, আইন বিষয়ক সম্পাদক অছিউর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সোহেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক সনেট চক্রবর্ত্তী, উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইমরান আলী মাসুদ, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, উপ-তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম, উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক সাজ্জাদ আলী জুয়েল, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল আলম চৌধুরী, উপ-ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক এস.এম. হুমায়ুন কবির, উপ-স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আবু জিহাদ সিদ্দিকী, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন শুভ, উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাছির উদ্দিন কুতুবী, উপ-মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক রায়হানুল কবির শামীম, উপ-সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, সহ-সম্পাদক তোফাজ্জ্বল হোসেন জিকো, শাহেদ মিজান, অরবিন সাবিক ইভান, ওসমান গণি, সাব্বির সাদিক, অভি চৌধুরী, ফারুক রানা বাপ্পী, আবু সায়েম সেতু, সদস্য শরীফ আহমেদ, অভিজিৎ দে ঝুমুর, আসাদুজ্জামান জেবিন, মোর্শেদুল আলম বাবলু, আবু সায়েম, কায়সার হামিদ, মোঃ সজিব, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, আল মামুন জুয়েল, আব্দুল্লাহ আল রুবেল, নুরুল হক মনির, ফাহাদ আনিস, তানজিরুল হক, এস.এম. হোসাইনুর রশিদ, সুজয় মান বড়–য়া জিতু, রিদুওয়ান কবির সজিব, সৈকত দাশ, সাফায়েত বিন আমিন, সাখাওয়াত হোসেন পেয়ারু, বোরহান উদ্দিন গিফারী, মাইমুন ইসলাম রোকন, মাসুদ চৌধুরী, নিপুন চৌধুরী, রোকন উদ্দিন, জাহেদ আলম, সাঈদুল আমিন সানি, গাজী আক্কাস, নেওয়াজ খান, মোস্তফা কামাল, ইমতিয়াজ বিরু, শিবু দাশ গুপ্ত, রুবেল হাসান, মোছাদ্দেক মাওলা সৌরভ, নিউটন দে, ওমর ফারুক সুমন, মোশারফ হোসেন, কাজী শাহরিয়ার তানিক, হাসানুল করিম, জালাল আহমেদ রানা, সাজিদ মুহাম্মদ সাজ্জাদ, আমিনুল ইসলাম শাওন, সায়েদুল ইসলাম সজিব প্রমুখ।