চলে গেলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ হক

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:১৫ অপরাহ্ণ

%e0%a6%b6%e0%a7%88%e0%a7%9f%e0%a6%a6-%e0%a6%b9%e0%a6%95ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে চলে গেলেন সৈয়দ শামসুল হক। বাংলা ভাষার সব্যসাচী এই লেখক আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কুড়িগ্রামে লেখকের নিজ গ্রামের মাটিতে শেষ আশ্রয় পাবেন তিনি।

 

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতাল থেকে মরদেহ গুলশানে তার বাসভবনে নেওয়া হবে। রাতে হিমঘরে রাখার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ বুধবার সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম নামাজে জানাযার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কুড়িগ্রামে গ্রামের বাড়িতে।

 

ক্যান্সারে আক্রান্ত সৈয়দ হক লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরমধ্যেই সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিলো। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত লেখক সৈয়দ শামসুল হক উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক লন্ডনে গিয়েছিলেন এ বছরের ১৫ এপ্রিল।

 

একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক হওয়ায় লন্ডনে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের (এনএইচএস) নিয়মিত চিকিৎসকের (জিপি) মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করান তিনি। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাকডোনাল্ডের তত্ত্বাবধানে লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

 

পরে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নিউসাম ডেভিসের তত্ত্বাবধানে চেলসি অ্যান্ড ওয়েস্টমিনস্টার হাসপাতালে কেমোথেরাপি নেন। কিন্তু টানা প্রায় তিন মাসের চিকিৎসা শেষে মন খারাপ করা খবর নিয়েই দেশে ফিরেছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন মাত্র ছয় মাস বাঁচবেন কবি।

 

মৃত্যুমুখে দাঁড়ানো এই সময়টা কবি জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে চান নিজের দেশে। তাই লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ভর্তি হন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে যান তাঁকে।

 

উল্লেখ্য, ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে সৈয়দ শামসুল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী লেখক।


আরোও সংবাদ