চলে গেলন সাংবাদিক হোসাইন জাকির

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:৪১ অপরাহ্ণ

প্রানোজ্জল সাংবাদিক হোসাইন জাকির (৪২) আর নেই। শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় রাজধানীর ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সোরের সঙ্গে টানা চারমাস লড়াই করেও অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে যান সকলের প্রিয় এই সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

হোসাইন জাকিরসাংবাদিক হোসাইন জাকিরের মৃত্যু সংবাদে পুরো সাংবাদিক সমাজে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় সহকর্মীকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে অনেকেই ছুটে যান হাসপাতালে। শোকাহত গণমাধ্যম কর্মী ও স্বজনদের আজাহারিতে ভারী হয়ে উঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

এদিকে, তার মৃত্যু সংবাদে শোক জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশন (ক্র্যাব), ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিেিটড, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি), চিটাগাং জানালিস্ট ফোরাম ঢাকা, রির্পোর্টাস ফোরাম অব ইলেকশন কমিশন এন্ড ডেমোক্রেসি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন অব ঢাকা (বিজেএডি), নোয়াখালী সাংবাদিক ফোরাম, কুমিল্লা জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন ঢাকা (সিজিএডি), ঢাকাস্থ কিশোরগজ্ঞ সাংবাদিক ফোরাম সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাদ এশা ঢাকা রিপোটর্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গনে হোসাইন জাকিরের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ী চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা মরহুম ডাঃ আবদুল হাফিজ এবং মা আনোয়ারা বেগমের করবের পাশে দাফন করা হবে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে সাংবাদিক হোসাইন জাকির রাজধানীর মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসা নেন। সেখান থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যলয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়।

হোসাইন জাকিরের ছোট ভাই রবিউল ইসলাম জানান, ভারতের মুম্বাই টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোর পর বেশ কয়েক মাস থেকেই ডেল্টা হাসপালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত সপ্তাহে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আইসিউতে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই হাসপাতালে চিকিসধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং কন্যা নিলয় (১৪), ছেলে আকাশ (১১) ও দেড়বছরের শিশুপুত্র স্বপ্নকে রেখে গেছেন।

চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করা হোসাইন জাকির দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সক্রিয় ছিলেন নিজের পেশায়। ঢাকায় দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক যুগান্তরে কাজ করেছিলেন দীর্ঘদিন। যুগান্তরে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার একপর্যায়ে যুক্ত হন আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে। দায়িত্ব নেন প্রধান প্রতিবেদকের। সব শেষ তিনি প্রকাশিতব্য দৈনিক আজকের পত্রিকায়ও নিয়েছিলেন প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতায় সেরা প্রতিবেদনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০০৪, ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৯ এবং ২০১১ সালে ইউনিসেফ পুরস্কার পান হোসাইন জাকির। চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স শেষে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।