ঈদে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৬:২৬ অপরাহ্ণ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, আবাসিক প্রধান বান্দরবান, নিউজচিটাগাং২৪.কম॥
Screenshot_14প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এখানে রয়েছে ১১টি পাহাড়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। ১৯৮১ সালের ১৮ই এপ্রিল বান্দরবান ও লামা দুটি মহকুমার সমন্বয়ে বান্দরবানকে একটি স্বতন্ত্র জেলা ঘোষণা করা হয়। বান্দরবান নাম করণের পিছনে রয়েছে একটি কাহিনীও। প্রবীনদের মুখে শোনা যায় অতীতে বর্তমান জেলা সদরে অসংখ্য বানরে ভরপুর ছিল। বানর গুলো শহরে অবস্থিত খালের উপর দিয়ে সারিবদ্ধভাবে পাশ্ববর্তী জঙ্গলে ফলমূল খেতে যেত এবং সন্ধ্যায় আবারও ফিরে আসতো। মেসকি সেতুর উপর দিয়ে বানরের যাওয়া আসার অবাধ বিচরনের দৃশ্যটিকে এই অঞ্চলের মারমা সম্প্রদায়েরা তাদের ভাষায় ‘ম্যাগসি’ বলতো। বাংলায় ম্যাগ অর্থ-বান্দর (বানর) এবং সি অর্থ-বাধঁ (বান)। পরবর্তীতে কালের বির্বতনে বানরের বসবাসকৃত এ স্থানটির নাম করন করা হয় বান্দরবান।
Screenshot_15নীলাচল ঃ
হাতছানী দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের নীলাচল পর্যটন স্পট। জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে প্রায় দু’হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল অবস্থিত। স্পটটি স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গাড়ি এবং পায়ে হেটেও সহজে নীলাচলে যাওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র নীলাচলে যাওয়ার জন্য আলাদা কোন সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই। ভাড়া গাড়ি রিজার্ভ করে কিংবা নিজস্ব গাড়িতে করে এই স্পটে যেতে হয়। পর্যটকের সুবিধার জন্য নীলাচলে নির্মাণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় কাচের টাওয়ার, দৃষ্টি নন্দন সিঁড়ি, গোলঘর এবং চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট। রাত্রি যাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় কয়েকটি কটেজও। পর্যটকদের নজর কাড়তে সক্ষম নীলাচল পর্যটন স্পটে গিয়ে যে কোন মানুষ মুগ্ধ হতে বাধ্য। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের বিপরীতে এখানে সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ী সমুদ্রের। যেদিকে চোখ যায় পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের এই সমুদ্র প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনকে হার মানাতে বাধ্য। নীলাচল হতে খোলা চোখে অনায়াসে দেখা যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী। রাতের বেলা এখান থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অবস্থানরত জাহাজ গুলোকে মনে হয় এক একটি গ্রহ নক্ষত্র। ভূমি থেকে আকাশের তারাকে যে রুপে দেখা যায় কর্ণফুলীতে অবস্থানরত জাহাজগুলোও রাতের বেলা নীলাচল থেকে তেমনি মনে হয়। দিন আর রাতের এই বৈশিষ্টের জন্য নীলাচল পর্যটকদের কাছে আরো বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যায় নীলাচল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য অনায়াসে দেখা যায়। তবে নীলাচল পর্যটন স্পটে দিনের চেয়েও রাতের চাঁদের আলোয় সময় কাটানো যায় অতিরোমাঞ্চের মধ্যে দিয়ে।
সেনা নিয়ন্ত্রীত নীলগিরি ঃ
নীলগিরি পর্যটকদের কাছে স্বপ্নীল একটি নাম। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কার না জাগে, মেঘে গাঁ ভাসানোর ইচ্ছে কার না করে। সব স্বপ্ন এবং ইচ্ছে কখনো পূরণ হয় না কথাটি সত্যি। তবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মেঘে গাঁ ভাসানো সম্ভব বান্দরবানে। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নীলগিরি পর্যটন স্পটে হাত বাড়ালেই মেঘ ছোয়া যায়। অনেকটা মেঘের দেশে ভেসে বেড়ানোর মত। বান্দরবানে অসংখ্য পর্যটনস্পট গুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। পাহাড়ী আকাবাঁকা সড়কের ৪৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় নীলগিরি পৌছাতে। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় থেকে থানচি উপজেলা সড়কে আরও ২৬ কিলোমিটার। পর্যটন স্পট নীলগিরিতে মেঘ আর রোদের মধ্যে চলে লুকোচুরি খেলা। কখন এসে মেঘ আপনাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে বুঝার অবকাশ নেই। ঘন মেঘের চাঁদরে হারিয়ে যেথে নীলগিরি হচ্ছে উপযুক্ত স্থান। নীলগিরি পর্যটন স্পটে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থাও আছে। সেনা নিয়ন্ত্রীত নীলগিরিতে গড়ে তোলা কটেজগুলোও দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। আকাশনীলা, মেঘদূত এবং নীলাতানাসহ বিভিন্ন নামে সাঁজানো কটেজগুলোর ভাড়াও খুব বেশি নয়। শুধু থাকা নয়, খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে নীলগিরিতে। মনে হয় থাইল্যান্ডের কোন শহরে অবস্থান করছি। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি। মেঘ ছুয়ে দেখতে চান। তবে এখনি ছুটে আসুন বান্দরবানে। স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পট দেখে যেথে ভুলবেন না।
মেঘলা পর্যটন কমপ্লে¬ক্স ঃ
অনেক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ একটি নাম মেঘলা পর্যটন কমপ্লে¬ক্স। শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এখানে বিশাল লেকের উপর আকর্ষণীয় দুটি ঝুলন্ত সেতু রয়েছে। ঝুলন্ত সেতু মানেই ঝুলন্ত সেতু। যা দেশে বিরল ঘটনা। দেশের কোথাও এমন নজির খোঁেজ পাওয়া যাবে না। চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে ক্যাবল কার, ট্যুরিস্ট ট্রেইন, শিশু পার্ক, সাফারী পার্ক, চিড়িয়াখানা, স্পীড বোটে ভ্রমনের সুবিধা এবং রাত্রি যাপনের জন্য রেষ্ট হাউজ। এছাড়াও কমপ্লে¬¬ক্সে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলা চা বাগান মেঘলা পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুনে। পর্যটকদের সুবিধার্থে মেঘলা পর্যটন স্পটে নীচে নামতে রাস্তার পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় সিড়িঁও। মেঘলা পর্যটনের চতুর পাশে রয়েছে ছোট ছোট গোলঘর এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থাও। সব মিলিয়ে মেঘলা পর্যটন স্পটটি অপূর্ব। এক টিকেটে এত কিছু দেখার সুযোগ আর কোথাও নেই একমাত্র মেঘলা ছাড়া।
শৈল প্রপাত ঝর্ণা ঃ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি শৈল প্রপাত। বান্দরবান-রুমা এবং থানছি সড়কের ৫ মাইল নামকস্থানে প্রাকৃতিক এই ঝর্ণার অবস্থান। শহর থেকে শৈল প্রপাতে যেথে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। শৈল প্রপাত ঝর্ণার হিমশীতল পানি সর্বদা বহমান। মনমাতানু এ দৃশ্য স্মৃতিতে ধরে রাখার মত। রাস্থার পাশে শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে দেশী বিদেশী পর্যটকদের ভীড় বেশি দেখা যায়। এখানে পর্যটকদের জন্য স্থানীয় পাহাড়ী বম জনগোষ্ঠীরা কোমর তাঁতে বুনা কাপড়সহ বিভিন্ন পন্যসামগ্রি বিক্রি করে। এছাড়াও বান্দরবানে উৎপাদিত মৌসুমি ফলমূল সবসময় পাওয়া যায় এখানে। শহর থেকে চাঁদের গাড়ী এবং সিএনজি ভাড়া নিয়েও শৈল প্রপাতে যাওয়া যায়। অনেকে পাঁয়ে হেটেও শৈল প্রপাতে চলে যায়। শহরের অদূরে শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানি বয়ে চলছে অবিরাম ধারায়।
Screenshot_16বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী ঃ
প্রায় ষোলশ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপত্যের অপূর্ব নির্দেশণ বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে এটি তীর্থ স্থান হলেও পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীসহ ১৪টি সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছেও বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী পবিত্র স্থান। এটি সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। যথই কাছে যায় ততই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পাহাড়ের চূড়ায় এত সুন্দর বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদী নিয়ে নানা রহস্য সৃষ্টি হয় মনে। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় কাছে যায়। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের ¯¦র্ণ মন্দির। জেলা শহরের মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটা এলাকায় গড়ে উঠেছে বুদ্ধ ধাতু জাদি (¯¦র্ণ জাদী)। যাকে সংক্ষেপে লোকজন জাদি বা ¯¦র্ণ মন্দির বলেই সম্বোধন করে। এটিকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধ জাদি বলা হয়। এর নির্মাণশৈলী, কারুকার্য, স্বর্ণখচিত অবকাঠামো যে কারোই মন কাড়ে। লাখ লাখ ধর্মীয় নারী-পুরুষের কাছে এটি যেমন পবিত্র স্থান, তেমনি এটি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত দর্শনীয় স্পট হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ধর্মানুরাগী ও পর্যটকদের একশ তেইশটি সিড়ি বেঁয়ে উঠতে হয় বৌদ্ধ জাদীতে। মায়ানমার, শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র থেকে আনা শ্রমিক এবং শিল্পীরা নির্মাণ করেছে এই বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় এক বছর। জাদিতে রয়েছে ছোট, বড় প্রায় শতাধিকেরও বেশি বৌদ্ধ মূর্তি। এসব মূর্তির কিছু স্থানীয় ভাবে নির্মাণ করা হলেও বেশির ভাগ মূর্তি আনা হয়েছে শ্রীলংকা, চীন, মায়ানমার, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। বৌদ্ধ জাদী এলাকায় প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হয়েছে একটি ছোট পুকুর। পুকুরের মাঝখানে ধ্যানরত বৌদ্ধমূর্তি সদৃস পাথুরে প্রাকৃতিক মূর্তি, উচ্চতর পর্বতের ডগায় পরীর দীঘি দেবতার পুকুর বলেও খ্যাতি অর্জন করেছে। দেবতার এই পুকুরের পানি পান করলে না রোগ বালাই দূর হয় এমন বিশ্বাস স্থানীয় বৌদ্ধ, হিন্দু ধর্মানুরাগীদের। ¯¦র্ণ জাদি দর্শণে আসা লোকজন বোতল বা পাত্রে করে নিয়ে যায় দেবতার পুকুরের পানি। প্রতি বছর জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে বৌদ্ধ ধাতু জাদী এলাকায় বসে মেলা। সপ্তাহ এবং মাস ব্যাপী চলে এই বৌদ্ধ ধাতু জাদি মেলা।
চিম্বুক বাংলার দার্জিলিং ঃ
চিম্বুক পাহাড়ের পরিচিতি সারাদেশে। ইদানিং বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিতি প্রসারিত হয়েছে বিদেশেও। শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় তিন হাজার দুইশ ফুট। চিম্বুক পাহাড়কে ঘিরেই পাহাড়ী মুরুং (ম্রো) জনগোষ্ঠীর বসবাস। জেলায় সবকটি উপজেলার সাথে টেলিযোগাযোগের ব্যবস্থা রক্ষার জন্য চিম্বুকে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড একটি বেইজ ষ্টেশন ও টাওয়ার স্থাপন করেছে। পর্যটকদের দৃষ্টিতে এ টাওয়ার খুবই আকর্ষণীয়। চিম্বুকের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়। এখান থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। শীত ও বর্ষায় চিম্বুক পাহাড়ে দাড়িঁয়ে মেঘ স্পর্শ করা যায়। মহুর্তের মধ্যে মেঘের পাল্টে যাওয়া সাদা-কালো-রঙিন খেলার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ইচ্ছে করলে মেঘে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে হারিয়ে যাওয়া যায়। দেখবেন মহুর্তেই মেঘ এসে আপনার গাঁ ভিজিয়ে দিয়ে গেছে। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং বলে অনেকে। চিম্বুক পাহাড়ের দু’পাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। দুচোখ যেদিকে যায় শুধু পাহাড়ের সমুদ্র। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকে যাওয়ার পথে দৃশ্যগুলো খুবই চমৎকার। যাওয়ার পথের দৃশ্য গুলো উপভোগ না করলে চিম্বুকে দেখার কিছু নেই। যাত্রা পথের দৃশ্যগুলোই মূলত বেশি আকর্ষণীয়।
ন্যাচারাল পার্ক ঃ
প্রকৃতিকে চিনতে আসুন ন্যাচারাল পার্কে। প্রকৃতিকে চেনা, প্রকৃতিকে জানা এবং প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর মজায় আলাদা। প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুক্ষন সময় কাটানোর উপযুক্ত স্থান হচ্ছে হলুদিয়া ন্যাচারাল পার্ক। শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বান্দরবানের প্রবেশ মুখে অবস্থিত। প্রায় ৫০ একর জায়গার উপর বেসরকারী ভাবে গড়ে উঠেছে ন্যাচারাল পার্ক। প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ওষুধী বৃক্ষ রয়েছে এখানে। ন্যাচারাল পার্কে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলা ক্ষুদ্রায়াতনে চা বাগান পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুনে। ন্যাচারাল পার্কে বনাঞ্চলের ভিতরে ভিতরে রয়েছে অসংখ্য মাচাংঘর বা গোলঘর। পর্যটকদের বিশ্রামের সুবিধার্থে তৈরি ছোট ছোট গোলঘর গুলোও ন্যাচারাল। আর্টিপেশালী কিছু নেই এখানে। ন্যাচারাল পার্কে অবাধে বিচরণ করে হরিণ, বানর, খরগোশসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী। মনোরম পরিবেশে প্রিয়জনের সাথে কিছুক্ষন সময় কাটাতে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভীড় জমায় ন্যাচারাল পার্কে। বিশেষভাবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য ন্যাচারাল পার্ক উপযুক্ত একটি স্থান। ন্যাচারাল পার্কের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার মতো। শতাধিক প্রজাতির বৃক্ষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিস করবেন কেন?। ছুটির দিনে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসুন ন্যাচারাল পার্কে।
প্রাকৃতিক জলাশয় বগালেক ঃ
নীল জলের প্রাকৃতিক জলাশয় কিংবদন্তি বগালেক। লেক সৃষ্টির পেছনে রয়েছে অনেক অজানা কাহিনী। পাহাড়ীরা এটিকে দেবতার লেক বলেও চিনে। পাহাড়ের উপরে সান বাঁধানো বেষ্টনিতে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বগালেকের অবস্থান। এই লেকের পানি দেখতে নীল রঙের। সমুদ্র পৃষ্ট হতে প্রায় দু’তিনশ ফুট উচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি বগালেক। বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বগালেক। লেক সৃষ্টির পেছনে অনেক কিংবদন্তির কথা লোক মুখে শোনা যায়। বগালেকের সৌন্দর্য দেখার জন্য পর্যটকদের ভীড়ও দিন দিন বাড়ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বগালেকে যাতায়াত করা খুবই কষ্ঠ স্বাধ্য ব্যাপার। শুষ্ক মৌসুমে বগালেকে মটর সাইকেল কিংবা জীপ গাড়িতে করেও যাওয়া যায়। কিংবদন্তি বগালেক যেথে হলে সাথে শুকনো খাবার, পানি, টর্জলাইট ও জরুরী ওষুধ সাথে রাখা দরকার। শীতকালে গরম কাপর সঙ্গে নেয়ার কথা ভুলে গেলে চলবে না। পর্যটকদের রাত্রী যাপনের সুবিধার্থে বগালেকে জেলা পরিষদের রেষ্ট হাউজ এবং স্থানীয়ভাবেও আরো দুটি গেস্ট হাউজ রয়েছে। রাতে চোলার বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকিত হয় রেষ্ট হাউজের প্রতিটি কক্ষ। চাঁদের আলোয় কিংবদন্তি বগালেকের সৌন্দর্য আরও স্মৃতি মধুর।
রুমা জলপ্রপাত (রিজুক ঝর্ণা) ঃ
প্রকৃতির অপরুপ সৃষ্টি রুমা জলপ্রপাত। সব মৌসুমেই সচল রুমা জলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানি ঝড়ে পড়ে সরাসরি নদীতে। নদী পথে রুমা থেকে থানছি যাওয়ার পথে রুমা জলপ্রপাতের (রিজুক ঝর্ণা) এ দৃশ্য চোখে পড়ে। রিজুক, রেমাক্রি ওয়াহ এবং তেছরী প্রপাত-তিন অপরুপা অরণ্য কন্যার নাম। প্রথমটি সহস্র ফুট উঁচু থেকে সাঙ্গু নদীর বুকে ঝড়ে পড়া এক বিশাল ও প্রবল ঝর্ণাধারা। অপর দু’টি জলপ্রপাত। সাঙ্গু নদীর তীরে জলপ্রপাত থেকে সারাবছরই ঝমঝম শব্দে পানি ঝড়ে পড়ে। পাহাড়ের উপর থেকে জলপ্রপাতের ঝর্ণার পানি ঝড়ে পড়ার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার মত। জলপ্রপাত রুমা উপজেলার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুনে। রুমা থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় সহজেই জলপ্রপাত এবং ঝর্ণায় যাওয়া যায়। রিজুক ঝর্ণা নিজস্ব গতিতে সব মৌসুমেই থাকে সচল। রিজুক ঝর্ণার হিমশিতল স্বচ্ছ পানি খুবই ঠান্ডা। রিজুক ঝর্ণা ইতিমধ্যে পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (পর্বত চূড়া) ঃ
দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নিয়ে নতুন করে বির্তক দেখা দিয়েছে। বই পুস্তক এবং সরকারী তথ্যমতে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং। কিন্তু পরবর্তীতে জরিপ চালিয়ে দেখা যায় সবচেয়ে বড় পর্বত হচ্ছে তাজিংডং বা বিজয়। এই পর্যন্ত বই পুস্তকেও তাই লেখা রয়েছে। তাজিংডং (বিজয়) পাহাড়ের উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ট হতে প্রায় ৩৪০০ ফুট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চূড়া কেওক্রাডং পাহাড়ের উচ্চতা ৩১৭২ ফুট। দুটি পর্বত চূড়ায় রুমা উপজেলায় অবস্থিত। রুমা থেকে তাজিংডং (বিজয়) চূড়ার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং কেওক্রাডং পাহাড়ের দূরত্ব রুমা উপজেলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। পাঁেয় হেটেঁ যেথে হয় পর্বত চূড়া গুলোতে। তবে শুষ্ক মৌসুমে জীপ গাড়িতে করে তাজিংডং চূড়ার কাছাকাছি পৌছানো সম্ভব। কিন্তু বই পুস্তক এবং সরকারী জরিপকে ভুল প্রমানিত করলো ন্যাচারাল এডভেঞ্চার ক্লাব ও নর্থ আল পাইন বাংলাদেশের সদস্যরা। বান্দরবান সফরে এসে ২০০৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর দলনেতা ওয়াদুদ মহসীন রুবেলসহ ক্লাবের ৭ সদস্য সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড়ের চূড়ায় উঠেন এবং জিপিআরএস (এচঝ) যন্ত্রের সাহার্যে সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড়ের উচ্চতা নির্ণয় করেন। একই সাথে তারা কেওক্রাডং পাহাড়ের উচ্চতাও নির্ণয় করেন। নির্ণয় করে দেখা গেছে, কেওক্রাডং পাহাড়ের উচ্চতা ৩১৭২ ফুট এবং সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড়ের উচ্চতা ৩৪৮৮ ফুট। দেখা যায় ক্যাওক্রাডং এর চেয়ে সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড় ২৭৬ ফুট উচু। পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের ভাষায় পাহাড়টির নাম থ¬াংময়। এর বাংলা অর্থ পাহাড় সুন্দর। আর ত্রিপুরা পাহাড়ীদের ভাষায় সাকা হাফং। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে পূর্বের চূড়া। এডভেঞ্চার ক্লাবের সদস্য মহসীন ও সাজ্জাদ জানান, স্থানীয় গাইডের সহায়তায় তারা মায়ানমার সীমান্তবর্তী থানচি উপজেলার দূর্গম শালুকিয়াতে পৌছান। তারপর প্রায় তিন ঘন্টা পায়ে হেটে তারা সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড়ের চূড়ায় উঠেন। সাকা হাফং বা থ¬াংময় পাহাড়ের চূড়ায় উঠা দ্বিতীয় ব্যাক্তি হচ্ছেন এডভেঞ্চার ক্লাবের (এক্সিট্রিস্ট) সদস্যরা। এরআগে বিট্রিশ পর্বতারোহী জিং ফালেন প্রথম সাকা হাফং বা থ¬াংময় স্বপ্ন চূড়ায় উঠেন এবং চূড়ার উচ্চতা নির্ণয় করেন। অপরদিকে রোয়াংছড়িতে রয়েছে আরও একটি বড় পর্বত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শিপ্পি পর্বত। সমুদ্র পৃষ্ট হতে শিপ্পি পাহাড়ের উচ্চতা ৩০২৮ ফুট। বম ভাষার শব্দ শিপ্পি (রামজু) পাহাড়ের বাংলা অর্থ বড় পাহাড়। রোয়াংছড়ি শহর থেকে পাহাড়ীদের রনিন পাড়া হয়ে প্রায় ৮ ঘন্টা পায়ে হাটতে হবে শিপ্পি পর্বত পৌছাতে। শিপ্পি পর্বত থেকে ভারতের মিজোরাম, মায়ানমার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরসহ পাশ্ববর্তী এলাকা গুলো সহজেই দেখা যায়।
প্রান্তিক লেক ঃ
সবুজের মাঝখানে প্রাকৃতিক লেক, নাম প্রান্তিক লেক। প্রায় আড়াই একর পাহাড়ী এলাকা জুড়ে প্রান্তিক লেকের অবস্থান। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের হলুদিয়ার সন্নিকটে প্রান্তিক লেক অবস্থিত। অপূর্ব সুন্দর লেকের চারপাশ নানান প্রজাতির গাছ গাছালিতে ভরপুর। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও প্রান্তিক লেক এখনো অবহেলিত। পর্যটন স্পট হিসেবে প্রান্তিক লেকের পরিচিতি কম হলেও লেকের সৌন্দর্য সত্যি দৃষ্টি নন্দন। এখানে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য আকষর্ণীয় টাওয়ার। ছোট ছোট অসংখ্য ইটের তৈরি ব্যান্স। চলচিত্র নির্মাতাদের কাছে স্থানটি খুবই পছন্দনীয়। জেলা শহর থেকে প্রান্তিক লেকের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। প্রান্তিক লেক যাওয়ার পথে রয়েছে মনমাতানু অনেক দৃশ্য।
জীবন নগর ঃ
বান্দরবান-থানছি সড়কের আকাঁ বাকাঁ পাহাড়ি রাস্তার ৫২ কিলোমিটার পয়েন্টে জীবন নগর অবস্থিত। এখান থেকে বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পূর্ণ মাত্রায় উপভোগ করা যায়। দেশের উচু পাহড়ের উপর দিয়ে নির্মিত রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পৌছাতে হয়। চিম্বুক থেকে জীবন নগরে দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। জীবন নগর থেকে ছোটবড় অনেক পাহাড় দেখা যায়। জীবন নগরের মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা। সারাবছর ঝর্ণার পানি ঝড়ে পড়ে। জীবন নগরে ঘন কুয়াসার ফাঁেক ফাঁেক সূর্যের কিরণ প্রকৃতির অপরুপ সৌর্ন্দয। এ দৃশ্য স্মরণীয় করে রাখার মত। এখানেও মেঘ আর রোদের মধ্যে চলে লুকোচুরি খেলা। ঘন মেঘের চাঁদরে স্বল্প সময়ের জন্য নিজেকে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলে এখানে।
উপবন ঃ
প্রকৃতির অপরুপ দান উপবন পর্যটন স্পট, এখানে বনের মাঝে লেক। আর লেকের উপর আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু। মেঘলা পর্যটন কমপে¬ক্সের ঝুলন্ত সেতু দুটির চেয়ে লম্বা উপবন ঝুলন্ত সেতু। বান্দরবান জেলার নাক্ষংছড়ি উপজেলায় উপবন অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ২কিলোমিটার দূরে উপবনে রয়েছে বিশাল একটি লেক। লেকের চারপাশ নানান রকমের গাছগাছালিতে ভরপুর। প্রকৃতির ঠান্ডা বাতাস ও পাখীর কল কাকুলির শব্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায় এখানে। পর্যটকদের সুবিধার্থে লেকের চতুরদিকে রয়েছে ছোটছোট গোলঘর। কোলাহল মূক্ত পরিবেশে কিছুক্ষন সময় কাটার জন্য উপবন উপযুক্ত স্থান।
মিরিঞ্জা ঃ
বান্দরবানের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে একটি মিরিঞ্জা। বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় অবস্থিত মিরিঞ্জা পর্যটন স্পট। লামা-আলীকদম সড়কের ১৬ কিলোমিটার পয়েন্টে মিরিঞ্জা পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ট হতে মিরিঞ্জা পর্যটনের উচ্চতা প্রায় ১৫০০ফুট। এটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান। এখান থেকে পাহাড়ের কোলঘেষে প্রবাহমান মাতামহুরী নদীর আকাঁবাঁকা গতিপথ ও লামা উপজেলা স্বচক্ষে দেখা যায়। এছাড়া অনুকুল আবাহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরসহ মহেষখালী দ্বীপ দেখা যায়। সবুজে ঘেরা মিরিঞ্জা পর্যটন স্পটে রয়েছে আকর্ষণীয় টাওয়ার, পাহাড়ী পথে ঘুরে বেড়াতে অসংখ্য সিঁড়ি। এছাড়াও টাওয়ারে টাওয়ারে রয়েছে উচু সংযোগ সিঁিড় এবং বেশকিছু গোলঘর। শিশুদের বিনোদনের জন্য মিরিঞ্জায় রয়েছে শিশু পার্ক। অনেকগুলো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় মিরিঞ্জা পর্যটনে। অবশ্য গাড়িতে উঠার রাস্তাও রয়েছে।
সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমন ঃ
বান্দরবান শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ী সাঙ্গু নদীর দু-কুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরুপ। নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত বোটে চড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার মজাই আলাদা। নদীপথে ভ্রমন করলে নদীর তীরে পাহাড়ীদের বিশেষ কায়দায় তৈরি টংঘর গুলো স্বচোক্ষে দেখা যায়। সেই সাথে উচু পাহাড়ের কূল ঘেষে বয়ে চলা সাঙ্গু নদীর অপরুপ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ায় মত। শহর থেকে একটু দূরে ভাটির দিকে শীতামুড়া পাহাড় প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি দেখে ভুলার নয়। এছাড়া উজানে তারাছা রেঞ্জের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সত্যি অসাধারণ। নদী পথে ভ্রমনের জন্য শহরের বাজার সংলগ্ন সাঙ্গু ব্রিজের নীচে এবং কালাঘাটা এলাকায় পাওয়া যায় নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত বোট। চুক্তি ভিত্তিক মূল্যে মাঝিরা পর্যটকদের নৌপথে ভ্রমনের সুবিধা দিয়ে থাকেন।

কিভাবে আসবেন ঃ
ঢাকা-বান্দরবান সরাসরি বিআরটিসি (এসি), শ্যামলি (এসি-ননএসি), এসআলম, ইউনিক, সোদিয়া, হানিফ, ঈগল এবং ডলফিন সার্ভিস চালু রয়েছে। ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর এবং কলাবাগান এলাকায় সার্ভিস গুলোর টিকেট কাউন্টার রয়েছে। তবে প্রতিদিন সকাল, বিকাল এবং রাতে তিনটি সময়ে গাড়িগুলোর সার্ভিস রয়েছে। ঢাকা-বান্দরবান বাস ভাড়া ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে পূরবী-পূর্বানী ননএসি এবং কদমতলি থেকে বিআরটি এসি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে বান্দরবান। বান্দরবান-চট্টগ্রাম বাস ভাড়া ননএসি ১০০ টাকা এবং এসি ১৩০ টাকা। এছাড়াও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের কেরানীহাট স্টেশন থেকেও বান্দরবান-কেরানীহাট বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। যে ভাবে খুশী সেভাবেই বান্দরবান আসতে পারবেন।
কিভাবে ঘুরবেন ঃ
বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়াতে ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন ধরণের গাড়ি পাওয়া যায়। তবে দুএকজনের জন্য রিজার্ব গাড়ি ভাড়া খানিকটা বেশি। সেক্ষেত্রে দলবেধেঁ পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে বান্দরবান ঘুরে বেড়াতে পারলে খরচ অনেকটা সাশ্রয়ী হয়। সিএনজি এবং মহেন্দ্র গাড়িতে করেও পর্যটন স্পটগুলো সহজে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। এছাড়াও অধিকাংশ পর্যটন স্পটের রুটে বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। সেগুলোতে করে গেলে খরচ কমবে, তবে সময় লাগবে একটু বেশি।
বান্দরবান কি কিনে নিয়ে যাবেন ঃ
পাহাড়ীদের কোমর তাঁতের তৈরি বিভিন্ন কাপড় এবং হস্থ শিল্পে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন শোপিস। পাহাড়ীদের আতিতিয়তা এবং ভালোবাসা।

কোথায় থাকবেন ঃ

হলিডে ইন রির্সোট ঃ
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের বিপরীতে ছোট্ট পাহাড়ের চূড়ায় হলিডে ইন অবস্থিত। হলিডে ইন এ রয়েছে ছোটছোট অনেকগুলো কটেজ। স্ব-পরিবারে কটেজে নিরাপদে রাত্রিযাপনের সু-ব্যাবস্থা রয়েছে এখানে। হলিডে ইন এ চাইনিজ ও দেশীয় খাবারও পাওয়া যায়। হলিডে ইন এর খাবারের প্রশংসাও রয়েছে দেশজুড়ে। হলিডে ইন এর পেছনে পার্বত্য জেলা পরিষদের দৃশ্যণীয় একটি লেক। এটি নিঃসন্দহে যে কোন পর্যটকের নজর কাড়ে। হলিডে ইন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান জেলা শহর অবস্থিত। এখানে এসি-ননএসি দু’ধরণের রুম ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়াও টাবুতে রাত্রী যাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। এখানে থাকতে প্রতিদিন রুম প্রতি গুনতে হবে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। যোগাযোগ হলিডে ইন- ০১৫৫৬৯৮০৪৩২। ফোন-০৩৬১-৬২৮৯৬।

পালকি গেষ্ট হাউজ ঃ
নীলগিরি সড়কের বান্দরবান প্রধান ডাকঘর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত পালকি গেষ্ট হাউজ। পাহাড়ের উচুতে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এসি-ননএসি দু’ধরণের রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে থাকতে হলে প্রতিদিন গুনতে হবে- দেড় হাজার থেকে এক হাজার টাকা। যোগাযোগ-০৩৬১-৬৩১৫৫৫, মোবাইল-০১৮১২৬৮৬৭৫৫।

ভেনাস রিসোর্ট ঃ
বান্দরবান মেঘলা পর্যটন স্পটের পাশের অবস্থিত ভেনাস রিসোর্ট। প্রায় পচিশ একর এলাকা জুড়ে আকর্ষণীয় কটেজ, রেষ্টুরেন্ট, লেকভিউ এবং দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যে সাঁজানো হয়েছে এই রিসোর্ট। জেলা শহর থেকে ভেনাস রিসোর্টের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। এখানে থাকতে হলে গুনতে হবে-দু’হাজার থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। যোগাযোগ:-০৩৬১-৬৩৪০০।

মিলনছড়ি (হিলসাইড) রিসোর্ট ঃ
বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের ৫ কিলোমিটার দূরে মিলনছড়ি পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এখানে রয়েছে উন্নত পরিবেশে রাত্রি যাপনের সু-ব্যাবস্থা। পর্যটকদের জন্য এখানে বিভিন্ন ধরণের বেশকিছু কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্রটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট সুপরিচিত। এখানে একটি রেষ্টরেন্টও রয়েছে। রুচি সম্মত সবধরণের খাবার পাওয়া যায় রেষ্টরেন্টে। এখানে থাকতে হলে প্রতিদিন রুম প্রতি গুনতে হবে দেড় থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। যোগাযোগ মিলনছড়ি-১৫৫৬৫৩৯০২২।

পর্যটন মোটেল ঃ
মেঘলা পর্যটন কমপ্লে¬ক্সের পশ্চিমপাশে পর্যটন মোটেল অবস্থিত। সরকারীভাবে নির্মিত পর্যটন মোটেলটি এখন পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারীভাবে। এখানে রয়েছে পর্যটকদের স্ব-পরিবারে রাত্রী যাপনের সু-ব্যাবস্থা। রয়েছে পর্যটন মোটেলের নিজস্ব রেষ্টুরেন্টও। এখানে রাত্রী যাপন করতে হলে গুনতে হবে রুমপ্রতি দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্থ। যোগাযোগ ফোন-০৩৬১-৬২৭৪১।

হোটেল ফোর স্টার ঃ
বান্দরবান শহরে অবস্থিত ফোরস্টার হোটেল। মানসম্মত ফোর স্টার হোটেলে এসি এবং নন এসি দুধরণের রুম রয়েছে। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে রয়েছে টেলিভিশন। অন্যান্য হোটেল গুলোতে যা নেই। বান্দরবান জেলা কালেক্টরেট ভবনের সামনে ফোর স্টার হোটেলের অবস্থান। এখানে রাত্রী যাপনে গুনতে হবে ৮০০ থেকে দুহাজার টাকা পর্যন্ত। যোগাযোগ-০৩৬১-৬২৪৬৬।