চরে চরে বাদাম, আর্থিকভাবে সাবলম্বী চাষী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩০ মার্চ , ২০১৮ সময় ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

নদীর–খালের চরে চরে মৌসুমী ফসল বাদাম চাষ বাড়ছেই। ফলে বান্দরবানের বাদামচাষীরা ক্রমেই আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। চাষীরা এখন মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ এবং শুকানোসহ বিকিকিনিতে। প্রতিবছরের মত এবারও জেলার সদর, লামা, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সাংগু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদী–খালের চরে চরেই ব্যাপকহারে বাদাম চাষ হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসেই ক্ষেত থেকে চাষীরা বাদাম উত্তোলন করে শুকায় এবং বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় কাটায়।

জেলার রুমা উপজেলার রুমাচর গ্রামের বাদামচাষী মইছা প্রু মারমা,সামাচিং মারমা এবং কৈয়াচিং মারমা জানান, চলতি মৌসুমে বাদামের আবাদ বেশি হয়েছে সেই সাথে ক্ষেতে উৎপাদিত হয়েছে বাদাম আশানুরূপভাবে। কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় নদী–খালের চরে চরে বাদামের আবাদ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তারা জানান। ফলে চাষীরা ঝুঁকছে বাদাম চাষেরদিকে।

বান্দরবান সদরের লাংগিরচর এবং ভাংগামুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাদামচাষী মাহবুব আলম, শৈহ্লাচিং মারমা এবং বাদল দাশ বলেন, প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উন্নতমানের বাদামের বিজ বপন করা হয় ক্ষেতে।

পরে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে পরিপক্ক হওয়া গাছ থেকে বাদাম সংগ্রহ করা যায়। এখন ভরামৌসুম বাদাম তোলার। বালিমিশ্রিত দোঁআশ মাটি বাদাম চাষে উপযোগী বেশি। তাই সেভাবেই নদী–খালের চরে চরে বাদামের আবাদ করা হয় ফি বছরই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো.আলতাফ হোসেন বলেন, বান্দরবানের নদী–খালের চর কিংবা দুইতীরের মাটি বাদাম চাষের জন্যে খুবই উপযোগী। বালি–মাটি মিশ্রিত মাটির প্রকৃতি নরম হওয়ায় বাদামচাষ করা যায় সহজেই কমখরচে। মাটি উর্বর হওয়ায় অতিরিক্ত সার কিংবা কীটনাশক তেমন প্রয়োগ করতে হয়না, বিজ বপণের তিন মাসের মধ্যেই পরিপূর্ণ বাদাম ফলে ক্ষেতে। উপ পরিচালক আরও জানান, গতবছর জেলায় ৮৫৯ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ৯৭১ হেক্টর জমিতে। চাষীরাও ঝৃঁকছেন বাদামচাষের দিকে।

কৃষকরা বলছেন, প্রতিবছর এই সময় চাষীরা মরিচ, বেগুন, আলু, শীম, কফিসহ রকমারী কৃষিপণ্যের চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তুলতামুলক কমখরচের কারণে এবং বেশিলাভের আশায় বাদাম চাষেরদিকে এগুচ্ছে চাষীরা ক্রমেই। প্রতিবিঘা জামিতে ১৮কেজি বাদামের আবাদের বিপরীতে উৎপাদন হয় ৭–৮ মণ বাদাম। শুকনা বাদাম বিক্রি হয় প্রতিকেজি ৭০–৮০ টাকা হারে। সেই হিসেবে বাদামচাষীরা প্রতিমৌসুমে তাদের খেতে কেবল বাদামচাষ করে বাড়তি আয় করতে পারেন কমপক্ষে এক লাখ থেকে দেড়লাখ টাকা। সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের কেয়ামলং গ্রামের বাদামচাষী চিংহ্লা প্রু মারমা এবং জাইসাং মারমা এ তথ্য দিয়েছেন। তারা বলছেন, বান্দরবান জেলায় উৎপাদিত বাদাম দেশের নানাস্থানে পাইকারে ক্রেতারা কিনে সরবরাহ করছে। জেলায় উৎপাদিত বাদাম উন্নতমানের এবং পুষ্টিও বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকারক তামাকচাষ বদল করে জেলার কৃষক বাদামচাষের দিকে ঝূঁকে পড়ছে বলেও স্থানীয় সমাজনেতারা জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা ক্য হ্লা উ মার্মা বলেন,জেলায় উৎপাদিত বাদামের জাতের মধ্যে রয়েছে– ত্রিদানাঢাকা–১, ঝিঙ্গাবারি–৫ ও স্থানীয় জাতের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে এবারে জেলায় ৩৫০জন বাদামচাষীকে ২০কেজি করে উন্নয়তমানের বিজ প্রদান করা হয়। ৫০জন চাষীকে ৫০টি প্রদর্শনী বাদাম প্লটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে গত বছর জেলায় ৮৫৯ হেক্টর জমিতে ১হাজার ৯৮৬ মেট্রিক টন বাদাম উৎপন্ন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৯৭১ হেক্টর জমিতে ২হাজার ৭শ’মেট্রিকটন বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।