চরম নৈরাজ্যে ভোগান্তিতে নারী শ্রমিক ও সাধারনজনগন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২১ মে , ২০১৫ সময় ০৩:২২ অপরাহ্ণ

ভোগান্তির দৃশ্য

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ’মা ও শিশু’নিরাপদ বাহন বাস সার্ভিসযান্ত্রিক ও আর্থিকসহ নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে এক প্রকার ধুঁকে ধুঁকে চলছে। সংকট নিরসনে এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে নারী যাত্রীদের স্বল্পতা থাকায় শুধুমাত্র নারীনির্ভর বাস সার্ভিস অলাভজনক। শুধু একটি রুটে চলে নারীদের জন্য সুবিধা সম্বলিত এই বাস সার্ভিসটি।সিটি সার্ভিসে নারীদের হয়রানির বিষয়ে বিবেচনা করে ২০০৬ সালে তৎকালীন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী এ সার্ভিস চালু করেন।শুরুতে ভালভাবে চললেও পরবর্তীতে নারী যাত্রীদের স্বল্পতা দেখা দেয়। এরপর বাসে বিভাজন দিয়ে একপাশে নারী ও একপাশে পুরুষ বসানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বর্তমানে বিভাজন তুলে দিয়ে বাসগুলো চলছে।বাসে লেখা আছে নারীদের জন্য সংরক্ষিতসিট মোট ৮ টি।অবশ্য যাত্রী বেশি থাকলে পুরো বাসেই নারীরা বসতে পারে।শুরুতে ১৯টি বাস রাস্তায় নামানো হয়।সিটি কর্পোরেশনের সূত্র মতে, এ বাসগুলোর মধ্যে ১টি দূর্ঘটনাকবলিত হয়েবিকল হয়ে যায়।১৮টি গাড়ির মধ্যে ৫টি ছোট বাস সিটি কর্পোরেশনের ষ্টাফদের জন্য ব্যবহৃত হয়।বাকি ১৩টির মধ্যে ১টি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে যায়।বর্তমানে ১১টি ছোট ও বড় গাড়ি ১০ নম্বর বদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গা রুটে চলাচল করে।অনুসন্ধানে জানা গেছে চসিকের ’মা ও শিশু নিরাপদ বাহন’বাস সার্ভিসের নানা সমস্যার চিত্র।শুধু যাত্রী স্বল্পতাই একমাত্র কারন নয়;যান্ত্রিকত্রুটি,অপ্রতুল বাস ,অভিন্ন রুট ,আরামহীন সীট,অতিরিক্ত রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ এমন নানা সমস্যায় জর্জরিত নারীবান্ধব এই সেবা।যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে অসহায় নারী শ্রমিকদের।সারা দিন কষ্টে কাজ করার পরও কষ্ট পিছু ছারে না তাদের যাত্রাপথে।বাসে উঠতে পারে না পুরুষদের মত হাতাহাতি করে।আর তাই নিরুপায় হয়ে বাস ষ্টপে দাড়িয়ে প্রহর গুনতে হয় ফাঁকা বাসের জন্য।

তেমনি নগরীর ইপিজেড মোড়ে একজন অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকা নারী শ্রমিককে তার দাড়িয়ে থাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,মহিলাদের জন্য ’মা ও শিশু বাহন’ বাস সার্ভিস অনেক সুবিধাজনক ও নিরাপদ।এ বাসে নারীদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্ধ করে রাখা হয়।যার ফলে আমরা খুব নিরাপদ যাতায়ত করতে পারি। তবে প্রকল্প পরিচালকদের বক্তব্য অনুযায়ি শুধুমাত্র নারী নির্ভর বাস সার্ভিস লাভজনক নয়।এছাড়া দিনের একটা সময়েই নারীরা বাস ব্যবহার করেন। অন্য সময় তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই আমরা বাসের সংখ্যা আর বাড়াইনি।মূলত নারী যাত্রী স্বল্পতার কারনে এখনো পর্যন্ত এ বাস সার্ভিসের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নব-নির্বাচিত মেয়র সিদ্ধান্ত নিলে তখন কোনো ব্যবস্থা হতে পারে এ বাস সার্ভিসের ।