চরম অবহেলায় চারুকলার ৬০০ শিক্ষার্থী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তৎকালীন নগরীর চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজকে একীভূত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) চারুকলা ইন্সটিটিউট রুপান্তর করে। রুপান্তর করার ওই সময়ে নানা সুযোগ সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল চবি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রতিষ্ঠা হওয়ার চার বছর পার হলেও মূল ক্যাম্পাসের অন্যান্য বিভাগের মত সুযোগ সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, চবির চারুকলা ইন্সটিটিউটের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০০ তার বিপরীতে ‘শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল’ নামে হোস্টেল আছে একটি। যেটি আছে  তাও ছেলেদের জন্য। মেয়েদের জন্য নেই কোনো হোস্টেল। তবে মেয়েদের জন্য ‘প্রীতিলতা হল’ বরাদ্ধ হিসেবে রাখলেও হল দূরে হওয়ার কারণে কেউ ক্যাম্পাসে থাকে না। থাকে শহরে বাসা ভাড়া কিংবা বেসরকারি ছাত্রীনিবাসে। যা তাদের জন্য কতটা নিরাপদ তা কর্তৃপক্ষ কখনোই আমলে নেন নি বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।

শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ক্যাম্পাস থেকে চারুকলা ইন্সস্টিটিউট শহরে নিয়ে আসার সময় চবি কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নানা স্বপ্ন দেখানো কথা বললেও পূরণ হয়নি তার কোন কিছুই। মূল ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকা একটি ইন্সস্টিটিউটের যেটুকু সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা, দেয়া হয়নি তার একাংশও। নেই কোনো আবাসিক সুবিধা বা ডাইনিং সুবিধা।

cu2সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নামমাত্র যে ‘শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল’ এ ছাত্ররা অবস্থান করে সেটি মূলত স্বা¯্য’ মন্ত্রানালয়ের দখলকৃত একটি ঝুকিপুর্ন একতলা ভবন, যেটিতে এবারের ভুমিকম্পে ২-৩ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ভবনে ছাত্রদের স্বল্পমূল্যে খাবার জন্য ক্যান্টিন থাকলেও চারুকলার শিক্ষার্থীদের প্রতিবেলায় খাবার জন্য গুনতে হয় বেশি টাকার বিল।

ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এ ইন্সস্টিটিউটে একবারে বসে মাত্র ১৬ জনই খেতে পারে। অন্যরা বাহিরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থালা হাত ধরে খেতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবনে যখন অত্যাধুনিক ইন্টারনেট সুবিধা নিয়ে ওয়াইফাই হটস্পট, সেখানে শহরে অবস্থিত এ ইন্সস্টিটিউটে নেই, ওয়াইফাই হটস্পটের  সুবিধা। নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশ। কাজের জন্য নিত্যদিনের ব্যাবহৃত ইজেল ও ডংকির অভাব সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ভোগায় ।

cu3এদিকে এ সকল সমস্যা সমাধান চেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গেলেও তার কোনো সুষ্ঠু সমাধান মেলেনি বলে ‘বাংলামেইলকে২৪ডটকম’কে অভিযোগ করেন।

এ প্রতিবেদকের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলেও একজন ছাড়া বাকি কেউ প্রতিবেদনে তাদের নাম না লিখতে অনুরোধ করেন।

চারুকলা ইন্সটিটিউটের ৩য় বর্ষের অনিমেশ মজুমদার বলেন, ‘প্রায় চার মাস ধরে পানি নেই আমাদের এ হোস্টেলে। পানির জন্য বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল হতে হয়। পানি না থাকায় প্রাকৃতিক কাজ করতে হোস্টেলের বাহিরে গিয়ে করে আসতে হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চারুকলা ইন্সটিটিউটের ৪র্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মুল ক্যম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে আমরা চারুকলা ব্যতিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা হয়ে রয়েছি যেটা কারোই কাম্য নয় ’।

cu4নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৪র্থ (পুরাতন) বর্ষের আরেক শিক্ষাথী বাংলামেইলকে বলেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে মূল যেসব প্রাপ্য যেমন- শিক্ষার পরিবেশ, আবাসন, চিকিৎস্যা সেবা এসব সুবিধা থেকে আমরা পুরোপুরি বঞ্চিত। একমাত্র মূল ক্যম্পাসে গেলেই তা সম্ভব’।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চবির রেজিস্ট্রার কামরুল হুদা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা অবিহিত আছি। খুব শিগগিরই  চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সম্যাসা দূর করতে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিছি। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের এ দাবি দাওয়া পূরণ করব।’>>>বাংলামেইল