চরম অনিশ্চয়তা এইচএসসি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৪:০৮ অপরাহ্ণ

এইচএসসিশিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আগামীর কর্ণধার। তাদের সামনে যদি আমরা উজ্জ্বল কোনো দৃষ্টান্ত রাখতে না পারি তবে তা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ভালোভাবে পরীক্ষা দিক। তবে টানা হরতাল অবরোধের কারণে এসএসসির মতো এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ হবে কিনা এনিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আসন্ন ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। আর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল হতে ৮ টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, একটি কারিগরি ও একটি মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ জুন এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর ১৩ থেকে ২২ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার সূচি রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন একটাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কি পরীক্ষা শেষ হবে? এসএসসি পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী এবারে একটিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারি ছুটি ছাড়া কোনোদিন পরীক্ষার হলে বসতে পারেনি পরীক্ষার্থীরা। এভাবে হতাশা আর উৎকন্ঠায় পরীক্ষা দিচ্ছে তাঁরা। ইতোমধ্যে এসএসসি পরীক্ষার মত এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশার ছাপ পড়তে শুরু করেছে। আর এই হতাশার মধ্যে গতকাল শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, হরতাল ও অবরোধ যা-ই হোক না কেন, আগামী ১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়েই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের লাগাতার হরতাল ও অবরোধের কারণে বেশ কয়েক দফায় পেছানো হয় ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা। বারবার পরীক্ষা পেছানোর কারণে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা শেষ হয়নি এখনো। এরই মধ্যে ১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে এসএসসি পরীক্ষার ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ২০ দলের হরতাল-অবরোধ চলছে এখনো। তার ওপর আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই দিন এইচএসসির দুটি বিষয়ের পরীক্ষার দিন নির্ধারিত রয়েছে। দুদিন আগে ২৬ এপ্রিলও রয়েছে পরীক্ষা।

আর এখন জনমনে প্রশ্ন আদৌ কি ঘোষিত সময়সূচির কোনো ব্যত্যয় হবে না। আর নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী কি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে? কেননা দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা এখনো স্বাভাবিক নয়। পরীক্ষা চলাকালীন বিরোধী দলগুলোর একের পর এক হরতালের কারণে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে দাখিল ভোকেশনাল ও এসএসসি ভোকেশনালের ৩৭টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। পেছানো পরীক্ষা নিয়ে আমাদের শিক্ষাবীদরা যতই বলুন না কেন তাঁরা ভালো পরীক্ষা দিয়েছে আসলে তাঁরা ভালো পরীক্ষা দিতে পারেনি। অনেকে বলবেন সপ্তাহে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন তাঁরা ভালো পরীক্ষা দিতে পারেনি। যাদের মনে এই প্রশ্নের আর্বিভাব তাঁদেরকে আমি বলতে চাই, একজন পরীক্ষার্থী ঘর থেকে বের হয় পরীক্ষার উদ্দেশ্যে কিন্তু এখন তাকে একথাও চিন্তা করতে হয় তিনি ভালোভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন তো? এখন আপনি বলুন, যে শিক্ষার্থী প্রতিমুহূর্তে মানসিক যন্ত্রনায় ভোগে সেই শিক্ষার্থী কিভাবে ভালো পরীক্ষা দিতে পারে। ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে বোঝা যায়, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-সরকার পতনের আন্দোলনে অনঢ় রয়েছেন। ফলে এমতাবস্থায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন আগামীতে রাজনৈতিক আন্দোলন আরো বেগবান হতে পারে। আর তাই যদি সত্যি হয় তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎকণ্ঠায় পড়তে হবে।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। হরতালের কারণে পরীক্ষা পেছালে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেমন ব্যাহত হয়, তেমনিভাবে তাদের প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটে। আমরা কেউ-ই চাই না তাঁদের সকল প্রস্তুতি লন্ড-ভন্ড হয়ে যাক এবং এসএসসির মতো এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও সপ্তাহে দু-দিন পরীক্ষা দিক। যখন একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি শেষ করে আবার যখন শোনে পরীক্ষা হবে না তখন তাকে পড়তে হয় মানসিক যন্ত্রনায়। আর এই যন্ত্রনা সেই পরীক্ষার্থীরা ছাড়া কারো বোঝার ক্ষমতা নেই।

আমি মনে করি, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। রাজনৈতিক সমস্যাকে রাজপথে টেনে আনা দেশ এবং দেশের মানুষ কারো জন্যই শুভ নয়। রাজনৈতিক সমস্যা রাজপথে টেনে এনে মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি বাড়ানো কোনোভাবেই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করছি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। তাই রাজনীতিবীদদের প্রতি আমার একটাই চাওয়া, যারা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তাঁরা কেউ হয়ত আপনার সন্তান,ভাই,বোন কিংবা প্রতিবেশী। আর আগামীতে যারা দেশ গড়ার দায়িত্ব নিবে আপনারা তাঁদের ভবিষ্যত নষ্ট করবেন না। আর এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।