চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীরের কুশপুত্তলিকা দাহ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর প্রথম ময়নাতদন্তের রির্পোটে আত্মহত্যা করেছে এমন প্রতিবেদন জমা দেয়ায় চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চবির শহীদ মিনারের সামনে এই কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। এসময় আন্দোলনরত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চমেক অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানান। আন্দোলনরত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, দিয়াজের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তাররা যখন ময়নাতদন্ত করেন তখন তাঁর শরীরে আঘাতে চিহ্ন পেয়েছেন। কিন্তু চমেক হাসপাতালের করা প্রথম ময়নাতদন্তে ডাক্তাররা তার কোনো আঘাতের চিহ্ন পাননি। তারা বলেছিলো দিয়াজ আত্মহত্যা করেছে। এ থেকে বোঝা যায় প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষের ইন্ধনে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ ছিল। আমরা তার অপসারণ চাই।

তিনি বলেন, প্রতিহিংসার শিকারে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। না হয় ছাত্রলীগ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে। এ হত্যা নিয়ে আমরা কোনো প্রকার প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না।
উল্লেখ্য: ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। ২৩ নভেম্বর ময়নাতদন্ততের রিপোর্টে বলা হয় দিয়াজ আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু দিয়াজ ইরফানের পরিবারের দাবি দিয়াজকে খুন করে ঝুলিয়ে রেখেছে।

২৪ নভেম্বর দিয়াজ ইরফানের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আসাসি করে আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত এ মামলা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

৬ ডিসেম্বর দিয়াজের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিআইডি আদালতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। ১০ ডিসেম্বর সকালে সিআইডি দিয়াজের মরদেহ চবির কেন্দ্রীয় মসজিদের কবরস্থান থেকে তুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরনেসিক বিভাগের পাঠানা। ১১ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে ডাক্তাররা জানান দিয়াজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।


আরোও সংবাদ