চবি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ জুন , ২০১৪ সময় ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপের জ্বরে ভূগছে চবি ক্যাম্পাসও
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বৃহস্পতিবার বার রাত দুইটা থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ববাসীর প্রানের উৎসব ফটুবল বিশ্বকাপ। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এ বিশ্বকাপ শুরু হলেও ভাইরাসের মত বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে গেছে এ আনন্দের জ্বর। ব্যতিক্রম নয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও। ২২ হাজার শিক্ষার্থীর মিলনমেলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। শুধু তা-ই নয়, তার পাশে স্পেন-জার্মানিও আছে আলোচনার মধ্যে । শুধু আলোচনা নয় পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে পতাকায়। তাই তো পুরো ক্যাম্পাস যেন মেতে উঠেছে বিশ্বকাপ উৎসবে। বছর-মাস-দিনের ক্ষণগণনা শেষে রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ালো স্বপেনর বিশ্বকাপ খেলা। আর এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়েই শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। খাবারের টেবিলে, ঝুপড়ির আড্ডা কিংবা ক্লাসে আলোচনা এখন শুধুই বিশ্বকাপ। চলছে পক্ষে-বিপক্ষে চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিতর্ক, মান-অভিমান আর বাজি ধরা।

ছেলেদের ছাত্রাবাস ঘুরে দেখা গেছে,প্রায় প্রতিটি ছাত্রাবাসেই প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে সে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থক বেশি হলেও ইতালি, স্পেন কিংবা জার্মানির সমর্থকও কম না। সমর্থন জানানোর দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। তাঁরাও প্রতিটি ছাত্রীনিবাসে পছন্দের দেশের পতাকা টাঙিয়েছেন। আর্জেন্টিনার সমর্থক শাহ জালাল ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী আবদুল মালেক বাজি ধরেছেন একই ছাত্রাবাসে অবস্থান করা ব্রাজিল-সমর্থক বন্ধু রেজাউল করিমের সঙ্গে। তবে সেই বাজি টাকার না। শুধু চ্যাম্পিয়ন হলেই এক বেলা দামি হোটেলে খাওয়ানো।

এদিকে রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল জোর প্রস্তুতি। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ঝুপড়ি ও ২ নম্বর ফটকে বড় পর্দায়, রেলস্টেশনসহ ছাত্রাবাসের মাঠগুলোতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখবেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ছাত্রাবাসের টিভিকক্ষে খেলা দেখবেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কক্ষেই খেলা দেখার আয়োজন করছেন। শিক্ষকদের মধ্যেও বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনা কম নয়। যেমন: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক নিয়াজ মোরশেদ তো পুরোই জ্যোতিষী হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ‘সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্ব ফুটবল লিগগুলো নিয়ে করা আমার সব ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এবার মন বলছে, ব্রাজিলের হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি। আশা করছি, এবারের ভবিষ্যদ্বাণীও সত্য হবে।’প্রীতিলতা ছাত্রীনিবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী সানজিদা জিনিয়া তাঁর কক্ষের জানালায় সাঁটিয়েছেন প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পতাকা। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ব্যর্থ করে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ জিতবে মেসির দেশ আর্জেন্টিনা।’

তবে অপেক্ষা করতে হবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। যেদিন নিশ্চিত হবে আগামী চার বছরের জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান কারা। সবারই প্রত্যাশা, প্রিয় দলের হাতেই শোভা পাক সোনায় মোড়ানো ট্রফিটা।

৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম চবিতে হামলাকারীদের বিচারের দাবি ছাত্রলীগের একাংশ
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট :চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি) ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো: মজিবুর রহমান মামুন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক একরামুল করিম মহসিন ও সহ সম্পাদক আনোয়ারুল আলম রকির উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ। ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম সহ চারদফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলে ঘটনার সাথে সকল সন্ত্রাসীদের অতিসত্ত্বর গ্রেফতার করা,হামলার সাথে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহি:স্কার,ঘটনার দিন সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা ও ঘটনায় আহতদের সু-কিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন “কনকর্ড” ও “একাকার” এর কর্মীরা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরা সকলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম.নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

একাকার বগির সিনিয়র নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আহসানুল করিম জনি বলেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে হামলকারীদের বচিার না করলে আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করব।

কনকর্ড বগির শীর্ষনেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন,ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের উপর হামলা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ভিএক্সের কর্মীরা বিগত কয়েক মাসে ছাত্রলীগের নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে তার দায়ভার ছাত্রলীগ নিতে পারে না। এর আগে বুধবার রাতে ছাত্রলীগনেতা আনোয়ারুল আলম রকি ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা করে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার আসামিরা হলেন, আসিফ ইকবাল (উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), অমি (ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), মো. সাফায়েত ( বাংলা বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), মুন্না (উদ্ভিদবিজ্ঞান, শিক্ষাবর্ষ ২০১২-১৩), মো. জোবায়ের করিম চৌধুরী ( মার্কেটিং বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১০-১১), নাঈম ( ফিন্যান্স, শিক্ষাবর্ষ ২০১২-১৩), মো. তারেক ইকবাল (ইতিহাস বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), দূর্জয় (ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১০-১১), জাহিদ (অর্থনীতি বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২) মো. সাদ্দাম হোসেন (ইংরেজী বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), সজল ( সমাজ তত্ত্ব বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০), মো. বাবলু (ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), রিয়েল ( ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ২০১১-১২), মিশু (আইইআরটি ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ)সহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন কনকর্ড ও একাকারের তিন নেতাকে হামলা চালিয়ে আহত করার জের ধরে প্রতিপক্ষ ভিএক্স নেতা-কর্মীদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় পুরো ক্যা¤পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুপক্ষের সিনিয়র নেতাদের সাথে পুলিশ ও চবি প্রশাসনের সাথে সমঝোতা বৈঠকের পর সংঘর্ষ থামলেও এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কনকর্ড ও একাকার এর কর্মীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম.নাছির উদ্দিন এবং ভিএক্সের কর্মীরা সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বলে ক্যা¤পাসে পরিচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট ঘোষনা

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেটের ৫০তম যৌথ সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ। সভায় ২০১৩-২০১৪ আর্থিক সনের সংশোধিত বাজেট ১৫৪৬০ লক্ষ টাকা এবং ২০১৪-২০১৫ সনের প্রাক্কলিত বাজেট ১৬৮৫০লক্ষ টাকা মাত্র অনুমোদন করা হয়।
সভার শুরুতে উপাচার্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর তাঁর নাতিদীর্ঘ ও বিশে¬ষনধর্মী বক্তৃতায় বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিকসমূহ তুলে ধরে বলেন, আমাদের চাহিদার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে প্রাপ্ত বাজেট নিতান্তই অপ্রতুল। এই অপ্রতুল বাজেটের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করার প্রয়াসে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দানশীল ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণা এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। তিনি আরও বলেন এ বাজেটে সরকারী নিয়মনীতি সমুন্নত রেখে এবং সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে ছাত্র-শিক্ষকদের একাডেমিক উন্নয়নে শিক্ষা আনুষাঙ্গিক ও ছাত্র সহায়ক তহবিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া অপচয় রোধ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সেশনজট মুক্ত, আধুনিক ও বিশ্বমানের বিদ্যাপিঠে পরিণত করতে তাঁর প্রশাসন অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি সংশি¬ষ্ট সকল মহলকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
সভায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সহ বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ বাজেটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। দেশের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে একটি সময়োপযোগী আধুনিক ধ্যান-ধারণা সম্বলিত বাজেট পেশ করায় সম্মানিত আলোচকবৃন্দ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী বাজেট উপস্থাপন করেন এবং তা আগামী সিনেট সভায় পেশ করার জন্য অনুমোদন করা হয়।