চবি ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রক্টরসহ আহত ১৭

প্রকাশ:| সোমবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরসহ আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য।চবি ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ
চবিতে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ, প্রক্টরসহ আহত ১৭

এছাড়া আহত হয়েছেন ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ১০ নেতাকর্মী। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আহসানুল করিম জনিও।

সোমবার দুপুর আড়াটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ অনুষদ, শাহজালাল ও আমানত হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ দশ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস এবং বিশ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এ সময় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ জনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে শিবিরের নেতাকর্মীরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিলি শুরু করে। এ সময় চবি ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জমির উদ্দিন শিবিরের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়।

এতে শুরু হয় উত্তেজনা। এরপর শিবির নেতাকর্মীরা সংঘঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্বরে মিছিল শুরু করে। এ সময় পাল্টা মিছিল করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। দুইপক্ষের মধ্যে ঘটে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা। ছাত্রলীগ কর্মীরা এরপর বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইট ও শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেয়।

শিবির নেতাকর্মীরা এ সময় শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী হল থেকে বের হলে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।

পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি ছাত্রলীগ ও শিবিরের মাঝখানে অবস্থান নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি শিবিরের নেতাকর্মীদের হলে সরিয়ে নেয়। এ সময় আহত হন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আহসানুল করিম জনি। আহত হয় ছাত্রলীগ-শিবিরের দশ নেতকর্মী।

পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা আমানত হলের ভেতর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় তারা হলের সামনে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলামসহ দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আহত হন পুলিশের পাঁচ সদস্য।

এ ঘটনায় আরো আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও লিটন মিত্র।

পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাংচুর চালায়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় দোকানের চেয়ার টেবিলে। এছাড়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরপর হাটহাজারী সার্কেল এএসপি আফম নিজাম উদ্দিন, হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে আমানত হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসহ ১৮ জন শিক্ষার্থীকে আটক হয়।

সাংবাদিকের ওপর হামলা:

ঘটনার শেষ দিকে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ভোরের ডাক প্রতিনিধি আব্দুল হান্নান হাসিবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রসংগঠনের বক্তব্য:

এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ-শিবির পরস্পরকে দায়ী করেছে।

চবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে লিফলেট দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় ছাত্রলীগ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আমাদের চারজন আহত হয়েছে। শিবিরকে প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত।”

শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায় করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের হামলায় প্রক্টর পুলিশসহ প্রশাসনিক লোকজন আহত হয়েছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।”

চবি উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রসংগঠনগুলোর অস্বাভাবিক আচরণে আমরা বিব্রত। বিশৃঙ্খলাকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।”

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সংঘর্ষে দুই প্রক্টর আহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।”