চবি ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে শনিবার দুপুরে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে

প্রকাশ:| শনিবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৫:০৬ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগআধিপত্য বিস্তারের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে শনিবার দুপুরে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়েছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

এরপর ক্যাম্পাসে দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে উভয় গ্রুপ এখনও মুখোমুখি অবস্থান করছে।

শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ছাত্রলীগের সংগঠন ‘ভিএক্স’ এবং ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা হাটহাজারী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাশেম বাংলানিউজকে বলেন, ‘দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের অনেক বোঝানোর পরও তারা শান্ত হচ্ছেন না। ক্যাম্পাসে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের কর্মীদের দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন, মারামারি করছেন। এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা ১৪ রাউন্ড টিয়ারশেল এবং ৯২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়েছি।’

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ভিএক্স গ্রুপ বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে তাদের বর্ষপূর্তি উদযাপন করছিল। সেখানে সিক্সটি নাইন গ্রুপের মিজানের সঙ্গে ভিএক্স গ্রুপের সিয়ামের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর দু’জনের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।

বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ঝুপড়িতে, বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে এবং সর্বশেষ রেলস্টেশনে এসে বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরও দু’গ্রুপ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, রাব্বি, মিজান, সিয়াম, আকাশ মিত্র, প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় এবং অমিয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. খান তৌহিদ ওসমান বাংলানিউজকে বলেন,‘আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিএক্স গ্রুপ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মামুনুল হক মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এ গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন।

আর সিক্সটি নাইন গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপু নিয়ন্ত্রণ করেন। গত ২৪ জুন নগরীর সিআরবিতে টেন্ডার নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগ মারামারির ঘটনার অন্যতম আসামী টিপু। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।