চবি: আবারো মহিউদ্দীন-নাছির গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

আবারো মহিউদ্দীন-নাছির গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়েছেহলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের একদফা সংঘর্ষের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এ সময় দুজন আহত হলে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪-তে।

খবর পাওয়া গেছে, নগর আওয়ামীলীগ সভাপতি মহিউদ্দীন সমর্থিত চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের অনুসারীরা শাহ আমানত হলের সামনে ও আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুর অনুসারীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

এরআগে বিকেল ৪টার দিকে সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। তখন এক পুলিশসহ ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে তখন পুলিশকে প্রায় ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে হয়।

বিকেলে সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরা ছুবি তুলতে গেলে তাদের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরপর সংঘর্ষ চললেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। যেকেনো সময় আবার সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে আলমগীর টিপুর অনুসারীরা সোহরাওয়ার্দী হলে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের রাত ১০টার মধ্যে হল ছেড়ে দিতে আল্টিমেটাম দেন। তার ১০ মিনিট পর ফজলে রাব্বি সুজনের অনুসারীরা শাহ আমানত হলের সামনে গেলে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় আহত হন চবি ছাত্রলীগের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জমির উদ্দিন এবং উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ইমাদ আহমেদ সাহিল। উভয় গ্রপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- পুলিশের এসআই মো. ইউনুস, ইতিহাস বিভাগের রুবেল, সংস্কৃত বিভাগের নিপেন সরকার, লোক প্রশাসন বিভাগের সাঈদ, গণিত বিভাগের নাজমুল, সায়মন, রাফি, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের নুরুজ্জামান। রাতে আহতরা হলেন- মামুন ও রাফি।

আহতদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সন্ধ্যার দিকে বলেছিলেন, ‘আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি এবং পুলিশকে বলেছি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।’

ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন  বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী বলেই সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু তারাই আমাদের জুনিয়রদের উপর হামলা করেছে। আমার সন্দেহ হয় ওদের মধ্যে কোনো শিবিরের অনুপ্রবেশকারী আছে কি না। না হয় শোকের মাসে তারা কেন আমাদের জুনিয়রদের মধ্যে হামলা করলো।’

এদিকে রাত ৯টার দিকে আলমগীর টিপুর অনুসারীরা চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক অবরোধ করে রাখে। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেছিলেন, ‘আমরা রাস্তায় অবরোধ করার ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্স পাঠাচ্ছি’।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসার পরপরই ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দুই সংগঠন  সিএফসি ও ভিএক্সের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন সংস্কৃত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার।