চবির তিন সহকারি প্রক্টরকে অব্যাহতি

প্রকাশ:| শনিবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহকারি প্রক্টরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অব্যাহতি প্রদানের আদেশ সংক্রান্ত চিঠি তাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে ৩ অক্টোবর।

আকস্মিকভাবে এ আদেশ পেয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত তিন সহকারি প্রক্টর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টিকে নিজেদের জন্য অবমাননাকর বলেছেন তারা।

অব্যাহতি প্রদানের প্রশাসনিক আদেশে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ কামরুল হুদা বাংলানিউজকে বলেন, সহকারি প্রক্টরদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রক্টরের কার্যালয় থেকে আমাদের বলা হয়েছে, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন ঘটনার সময় তারা উপস্থিত থাকছেন না। এজন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, তিনজন সহকারি প্রক্টরকে অনেক আগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে নতুনভাবে কিছু বলার নেই।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত তিন সহকারি প্রক্টর হলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক এস এম জিয়াউল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ ইয়াকুব এবং নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোক্তার আহমেদ চৌধুরী।

তিন শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের যে মোর্চা আছে এর সক্রিয় সদস্য। ছাত্রজীবনে তিন শিক্ষকই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিন শিক্ষক আগের উপাচার্য ড.আনোয়ারুল আজিম আরিফের মেয়াদে সহকারি প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমান উপাচার্য ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী চলতি বছরের ১৫ জুন দায়িত্ব নেন।

এরপর চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী তিন সহকারি প্রক্টরকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য রেজিস্ট্রার বরাবরে চিঠি দেন। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।

১৯৭৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর ও সহকারি প্রক্টরদের এক বছরের জন্য নিয়োগ দেন উপাচার্য।

নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোক্তার আহমেদ চৌধুরী ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর সহকারি প্রক্টর হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মোক্তার আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, এতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু কোন কারণ না দর্শিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় হুট করে যেভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেটাতেই আমার আপত্তি। আমরা শিক্ষক, আমাদের এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ ইয়াকুব সহকারি প্রক্টরের দায়িত্ব পান ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর। ছাত্রজীবনে ২০০৪ সালে গঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ইয়াকুব বলেন, আমরা শিক্ষক, আমাদের কাজ শিক্ষকতা করা। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা প্রক্টর-সহকারি প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পান। এটা অনেকটা সেবামূলক দায়িত্ব। সেবামূলক কাজ করতে গিয়ে এভাবে অপমানিত হওয়ার বিষয়টা আমরা মানতে পারছিনা। যে প্রক্রিয়ায় আমাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাতে পুরো শিক্ষক সমাজকে অপমান করা হয়েছে।

‘আমরা ছাত্রলীগ করেছি। অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল চিন্তাচেতনায় বিশ্বাসী। এখন হলুদ দলের সঙ্গে যুক্ত আছি। আমরা তো বিএনপি-জামায়াত করিনা। তাহলে আমাদের উপর এ খড়গ কেন ?’ বলেন ইয়াকুব।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক এস এম জিয়াউল ইসলাম নিয়োগ পেয়েছেন ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর।

জিয়াউল বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর আরও দু’জন সহকারি প্রক্টরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সুতারং আমরা তিনজনকে যখন অব্যাহতি দেয়া হল, আমি বিস্মিত হইনি। কিন্তু আমার আপত্তি অন্যখানে। সামনে ভর্তি পরীক্ষা। সাধারণ শিক্ষকরা ভর্তি পরীক্ষায় যে ভাতা পান, সহকারি প্রক্টররা দায়িত্ব ভাতা পান তার দ্বিগুণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনোই কোন প্রক্টর কিংবা সহকারি প্রক্টরকে ভর্তি পরীক্ষার আগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নজির নেই। শুধু আমাদের তিনজনকে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটা না করলেও পারত। আগের দু’জনকে যখন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, একইসঙ্গে আমাদেরও দিলে পারত।

এর আগে চবি উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়াহিদুল আলম এবং অরুপ বড়ুয়া নামে আরও দু’জন শিক্ষককে সহকারি প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে ‍অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, অব্যাহতি পাওয়া সহকারি প্রক্টররা আগের উপাচার্য ড.আনোয়ারুল আজিমের অনুসারী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। নতুন উপাচার্য যোগদানের পর তার অনুসারী শিক্ষকদের দায়িত্বপূর্ণ পদে বসাতেই পুরনোদের অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ কামরুল হুদা বলেন, প্রক্টরের কার্যালয় একটা সংবেদনশীল জায়গা। এখানে যদি দুই মাস ধরে কেউ কোন দায়িত্ব পালন না করে, ঘটনার সময় যদি এগিয়ে না আসে তাহলে তাদের রাখার তো কোন যৌক্তিকতা নেই। এখানে এক মাস, দুই মাস আগে, এটা কোন বড় ব্যাপার নয়।