চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আটক

প্রকাশ:| শনিবার, ৬ জুন , ২০১৫ সময় ০৬:২৩ অপরাহ্ণ

পূর্ব বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাসহ ১০জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে তাদের অাটক করা হয়।

ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন কনকর্ড নেতা মিজানুর রহমান মিজানসহ উভয় গ্রুপের ১০জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সালাউ্দ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় গ্রুপের ৫জন করে মোট ১০জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানা হাজতে রাখা হয়েছে।’

এর আগে শনিবার বেলা আড়াইটায় চবির রেল স্টেশনে এ দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর বিকেল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিকেল ৪টায় শাহ আমানত হলের সামনে আগে থেকে অবস্থান করা কনকর্ডের কর্মীরা। এসময় একাকার গ্রুপের কর্মীরা পাশ্ববর্তী শাহজালাল হলের সামনে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা প্রক্টর ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

এর আগে দুপুরে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় আহতরা হলেন, একাকার গ্রপের কর্মী পদার্থবিদ্যা বিভাগের নিয়াজ আরেফিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে রাহুল মজুমদার, রসায়ন বিভাগের মিতুল চৌধুরী, ভুগোল বিভাগের জিহাদ রশিদ, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জাহিদ ও আইইআরটি ইনস্টিটিউট এর মোহাম্মদ বিল্লাল। এদের মধ্যে নিয়াজ আরেফিন, রাহুল মজুমদার ও মিতুল চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া ছোটন নামের কনকর্ডের এক কর্মী আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা আড়াইটার দিকে চবি রেলষ্টেশনে কনকর্ড গ্রুপের দশ বারো জন কর্মী ধারালো অস্ত্র নিয়ে একাকারের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে কনকর্ডের কর্মীরা আমানত হলে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে একাকার গ্রুপের কর্মীরাও শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ।

এ বিষয়ে একাকার গ্রুপের নেতা ও সাবেক উপ দফতর সম্পাদক ইমাদ আহমেদ সাহিল বলেন , ‘আগের সমস্যাটি আমরা মীমাংসা করেছিলাম। কিন্তু তাদের (কনকর্ড) নেতৃত্ব শুণ্যতার কারনেই জুনিয়ররা এমন সাহস পেয়েছে।’

এদিকে কনকর্ড গ্রুপের নেতা ও সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক চৌধুরী মহসিন একরাম বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।’

চবি প্রক্টর সিরাজ উদ্দৌল্লা বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে সমস্যা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে থেকে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।’


আরোও সংবাদ