চবিতে ফের শিবিরের ধর্মঘট

প্রকাশ:| শনিবার, ১১ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

আগামীকাল রোববার থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের শুরু হচ্ছে ‍সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডাকা ছাত্রশিবিরের ধর্মঘট। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদ ও পুজার ছুটি উপলক্ষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল খুলে না দেওয়ায় রোববার থেকে পুনরায় সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে।

ধর্মঘট আহ্বানকারীরা দাবি করেন, গত ১২ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা আমানত হল দীর্ঘ আট মাস পর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও কোন ধরণের প্রজ্ঞাপন জারি না করেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের বৈধ সিটগুলো বাতিল করা হয়েছে যা নজিরবিহীন। আমানত হলের এ সংকট কাটানোর কোন উদ্যোগ না নিয়েই সোহরাওয়ার্দী হলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই শাহজালাল হলে বৈধ ছাত্ররা অবস্থান করতে পারছে না।

“ছয়টি ছাত্র হলের মধ্যে তিনটি হল বৈধ ছাত্রদের জন্য বন্ধ করে দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুচক্রী মহল শিক্ষক বাসে ভাংচুর ও ককটেল হামলা চালিয়ে ছাত্র ধর্মঘটকে বিতর্কিত করতে তৎপর। এ ধরণের ষড়যন্ত্র সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। বৈধ শিক্ষার্থীদের হাতে হল তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

বিজ্ঞপ্তিতে, প্রশাসন কর্তৃক পুলিশকে ‘অনৈতিক ক্ষমতা’ প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহে তল্লাশির নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি, আবাসিক কক্ষ ভাঙ্চুর ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুটপাট করার মত ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন ধর্মঘট আহ্বানকারীরা।

“বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কটেজগুলো থেকে দোষীদের গ্রেফতারের নামে গণহারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অসাধু বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। যার ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং কটেজসমূহ কার্যত শিক্ষার্থীশূণ্য। ”

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রেরণ করেন আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দাবিদার আশিকুল ইসলাম। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ থাকা হল চালু ও সকল হল বৈধ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে গত ৩০ আগস্ট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই ধর্মঘট শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী বলা হলেও শিবির নেতাকর্মীরাই এ ধর্মঘট পালন করছেন। তবে, বরাবরেই এই অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ঈদ ও পূজার ছুটি শেষে ‌রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা রোববার থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। একে লক্ষ্য করেই মূলত ছাত্র ধর্মঘটের পুণরায় ডাক দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হবে ৯ নভেম্বর থেকে।


আরোও সংবাদ