চট্টগ্রাম ২৮৩ রাউজান- ৬ সংসদীয় আসনে আগামী দশম জাতীয় নির্বাচন

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ

আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী ফজলে করিম, বিএনপি’র দুই প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন, গোলাম আকবর ও জাতীয় পাটির একক প্রার্থী জিয়াউদ্দিন বাবলু
আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হারানো আসন ফিরে পেতে মরিয়া, আওয়ামী লীগ বিজয়ের ধারা ধরে রাখতে মাঠে চষে বেড়াচ্ছে

raw 13শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধি. চট্টগ্রাম ২৮৩ রাউজান- ৬ সংসদীয় আসনে আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দুই দল নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে আওয়ামী লীগ রাউজানের মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি মাঠে নেই । চট্টগ্রাম শহরে রাউজান উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম চলছে । আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে গত সাড়ে চার বছর মাঠ পর্যায়ে দলকে চাঙ্গা রেখেছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগনের সামনে তুলে ধরার সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। বিএনপি প্রতিপক্ষের মামলা-হামলা এড়াতে গত সাড়ে চার বছর মাঠ পর্ষায়ে নিস্ক্রিয় ছিল। তবে দলীয় কর্মীদের ধরে রাখতে বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম শহরে কর্মসূচি দিয়ে দলকে চাঙ্গা রেখেছে। জাতীয় পাটি একক প্রার্থী দেয়ার সিন্ধান্ত নিয়ে এলাকায় আসা যাওয়া শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থী। আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা যায়, সত্তর ও তিয়াত্তরের সংসদ নির্বচনের পর আওয়ামী লীগ বার বার পরাজিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সাবেক স্পীকার মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরী কে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্র্থী দৈনিক আজাদীর সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । স্বাধীনআর পরবর্তী ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তৎকালিন ভাসানী ন্যাপের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দৈনিক আজাদীর সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । এরপর থেকে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী হয়ে বর্তমানে কারাগারে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাউজান, রাঙ্গুনিয়া দুইটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া আসন রেখে রাউজান আসনটি ছেড়ে দিলে, রাউজান আসনে উপ নির্বাচনে বর্তমান উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিল্প মন্ত্রী মরহুম জহির উদ্দিন খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের শাসন আমলে অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির প্রার্থী হয়ে বর্তমানে কারাগারে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৮ সালে অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির প্রার্থী সাবেক জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহাম্মদ বাবলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান, মুসলিম লীগ প্রার্থী এম এ হাসানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম আবদুল্লাহ আল হারুনকে পরাজিত করে রাউজান আসন থেকে বর্তমানে কারাগারে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তৎকালীন এনডিপির প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাউজান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯৬ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশ গ্রহন ছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার বিনা প্রতিদন্দিতায় নির্বাচিত হয় । এই সংসদ পনর দিনের মধ্যে ভেঙ্গে দিয়ে পুণরায় তত্ববধায়ক সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউদ্দিন আহাম্মদ বাবলু নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করেন । ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউদ্দিন আহাম্মদ বাবল পাচঁ হাজার ভোট পেয়ে রাউজান থেকে হতাশ হয়ে রাউজানে বহদিন আসেনি । ২০০১. ২০০৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্র্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের হারানো আসন পুণঃরুদ্বার করেন । ,
রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জীবণ হারাতে হয়েছে উভয় দলের শতাধিক নেতা কর্মীকে। কোনষ্ঠায় আর ঝুঁকি মধ্যে বিশাল ভোট ব্যাংক থাকা শর্তেও পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে বাওে বারে আওয়ামী লীগকে । ১৯৯৬ সালে বর্তমান সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করলে রাউজান আওয়ামীলীগে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ভাই পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা মরহুম ফজলুল কবির চৌধুরীর সন্তান ফজলে করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদানের ফলে মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে এই আসনের সাবেক সাংসদ সাকা চৌধুরী ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী অনেকেই চলে যায় আওয়ামী লীগের সাথে। যার ফলে বিশাল ফাটল ধরে মরহুম দুই চৌধুরী পরিবারে। আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনেও হবে দুই ভাইয়ের ভোটের লড়াই এবং নির্বাচন হবে প্রধান দুই দলের ব্যানারে নৌকা প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকে। জানাযায়, বিএনপি আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদের পর থেকে রাউজানের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা চালাছে। তাদের লক্ষ্য আগামী নির্বচনে রাউজানে হারানো আসন পুনরায় উদ্ধার। ইতিমধ্যে বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনকে মাঠ মূখি করতে কাজ করছে দলটি। এই প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছালামত আলী বলেন. আগামী নির্বাচনে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে জয়ী করার জন্য রাউজানের প্রতিটি এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করা হয়েছে । নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দল থেকে মনোয়নয়ন দেবেন এইটা নিশ্চিত বলে দাবী করেন উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছালামত আলী ।আপর দিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার সমর্থিত পক্ষ মনে করেন বিগত দুইটি নির্বচনে গিয়াস উদ্দিন কাদের আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছে। সেই কারনে দলের সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিন্ধান্ত পরিবর্তন করবে। সেই ক্ষেত্রে গোলাম আকবর খন্দকার মনোনয়ন পাবে বলে তারা আশাবাদী। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ গোলাম আকবর খোন্দকার সমকাল কে বলেন, দল আমাকে প্রার্থী দিলে রাউজান আসন থেকে আমি নির্বাচন করবো । রাউজানের সাধারণ মানুষ আমাকে ক্লিন ইমেজ রাজনৈতিক নেতা হিসাবে ভালবাসেন । আমাকে প্রার্থী দিলে বিএনপির হারানো রাউজানের আসনটি আমি দলকে উপহার দেব । আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী বর্তমান সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলে দাবি করে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান বলেন, রাউজানে ফজলে করিম চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই। দলের ইমেজ রক্ষা করতে পারেন শুধু তিনি। রাউজানে সাংগঠনিক ভাবে কোন গ্র“পিং নেই। রাউজানের উন্নয়নে একহাজার দুই শত কোটি টাকার কাজ হয়েছে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর হাত দিয়ে। সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিত রাউজান কে এখন শান্তির জনপদে পরিণত করেছে । রাউজানের মানুষ সন্ত্রাস চাইনা। রাউজানের সাধারন মানুষ সন্ত্রাসের বিপক্ষে উন্নয়নের স্বপক্ষে এবার নৌকা র্মাকা ভোট দিবে। একটি সূত্র জানায়, দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফজলে করিম চৌধুরীকে মনোয়ন দেবে অনেকটা তা নিশ্চিত। আপাতত আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী কাহারো নাম শুনা যাচ্ছেন। অপর দিকে জাতীয় পাটি সূত্রে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে রাউজান সংসদীয় আসনে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এরশাদের আস্তাভাজন হিসাবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু নির্বচন করবেন বলে জানা গেছে। যদি মহাজোট ভেঙ্গে হুসানই মুহাম্মদ এরশাদ একক নির্বাচন করেন তাহলে জিয়াউদ্দিন বাবলু’র মনোনয়ন এক প্রকার নিশ্চিত। গত নির্বাচনে জিয়া উদ্দিন আহম্মদ বাবলু মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লবিং করেও মনোনয়ন পায়নি। তারস্থলে মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিল আওয়ামীলীগ নেতা ফজলে করিম চৌধুরী। তবে মহাজোট ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করলে তখন মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়ন কে পাবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে আরো তিন মাস। জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক মন্ত্রী সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন আহাম্ম বাবলু বলেন, আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় রাউজান তাপ বিদুৎ কেন্দ্র নির্মান, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক এর উন্নয়ন কাজ সহ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্টানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি । জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক জ্বালানী মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহাম্ম বাবলু বলেন আমি মহাজোটে আছি, মহাজোট থেকে প্রার্থী যদি না দেয় জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে দলের চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ আমাকে নিশ্চিত করেছেন । আমি প্রতি সাপ্তাহে রাউজানে গিয়ে দলের নেতা কর্মীদের চাঙ্গাঁ করছি । এক সময়ের জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতা ছালামত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম সহ অনেক নেতা কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়াছেন তারা বিএনপির পদে অধিষ্টিত রয়েছে ।এক সময়ের জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতা সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম চৌধুরী, চেয়ারম্যান কাজী দিদরুল আলম, জাতীয় পার্টির নেতা বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, কামাল উদ্দিন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে অধিষ্টিত হয়েছে ।
গত সংসদ নির্বাচনে রাউজান আসনের সাথে হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়ন সংযুক্ত করেন ।গত সংসদ নির্বাচনে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের মানুষ রাউজান আসনের সাথে সংযুক্ত থাকলে ও বর্তমানে নির্বাচন কমিশন গড়দুয়ারা ইউনিয়ন রাউজান আসন থেকে বাদ দেয় । রাউজান আসনে ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বর্তমানে ভোটার হচ্ছে দুই লক্ষ আটত্রিশ হাজার তিরানব্বই জন । তার মধ্যে এক লক্ষ বিশ হাজার তিনশত চব্বিশজন পুরুষ । এক লক্ষ সতর হাজার সাত শত উনসত্তর জন মহিলা ভোটার । ভোট কেন্দ্র ৮২ টি । গত ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারী অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী চুরাশী হাজার পাচঁশত আট চল্লিশ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । বিএনপির প্রার্র্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পচাঁত্তর হাজার আটশত চারশত একচল্লিশ ভোট পায় । নয় হাজার সাতশত সাত ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় ।


আরোও সংবাদ