চট্টগ্রাম মহানগরীতে আবার গুপ্তহত্যার ঘটনা বেড়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আবার গুপ্তহত্যার ঘটনা বেড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নগরীতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও এক সরকারী কর্মকর্তাসহ ৪ জন।
তাদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গেলেও বাকী দু’জনের নাম পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। নিহতরা হলো-রাষ্ট্রয়াত্ব প্রতিষ্ঠান পিডিবি (বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রীড বাংলাদেশ) এর হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা চম্পক দেওয়ানজী (৩৫), কনষ্টেবল ফরিদুল আলম (৪২) এবং অন্য দুজন অজ্ঞাত যুবক।
মঙ্গলবার সকালে লাশ পাওয়া গেছে নগরীর আমবাগান ও সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায়। তাদের একজনকে গলা কেটে হত্যা অন্যজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু পুলিশ এসব হত্যাকান্ডের কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। গ্রেফতার হয়নি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কেউ। পুলিশের দাবি এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে সোমবার রাতে ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকায় খুন হয়েছে স্পেশাল রির্জাভ ফোর্সের কনষ্টেবল ফরিদুল আলম (৪২)। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে পুলিশ তা উদঘাটন করতে পারেনি। রাত ১১টার দিকে আগ্রাবাদ জাম্বুরী ফিল্ড এলাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ফরিদুলের পায়ে দুটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এবং ডাক্তাররা জানিয়েছেন তার শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু প্রবেশ করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন এক সিএনজি আটোরিক্সা চালকসহ ২ জনকে আটক করলেও তাদের কাছ থেকে কোন তথ্যই পায়নি।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মতিউর ইসলাম জানান, এব্যাপারে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। আমরা দুজনকে আটক করেছি কিন্তু এখনো হত্যার কারণ জানতে পারিনি।

সিএমপি’র ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হাসানুজ্জামান জানান, রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ফরিদুল দামপাড়া পুলিশ লাইনে কর্মরত। তার বাসা নগরীর আগ্রাবাদের সিএন্ডবি কলোনীতে। রাতে বাসায় যাবার সময় সে হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা কিভাবে হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি।

এর আগে সোমবার সকালে গরীর টাইগার পাস সিআরবি এলাকা থেকে এক পিডিবি কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মৃত দেহটি উদ্ধারের পর বিকেলে তার পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তির নাম চম্পক দেওয়ানজী (৩৫)। পিডিবি’র সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব ও প্রশাসন) ছিলেন। তাকে দূবৃর্ত্তরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। মাত্র দেড়মাস আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। প্রতিদিন ভোরে মনিং ওর্য়াকে সিআরবি এলাকায় যান চম্পক দেওয়ানজী। কে বা কারা কি কারণে সরকারী এ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে পুলিশ দুদিনেও সে তথ্য বের করতে পারেনি। এ হত্যার দায়ে কেউ গ্রেফতারও হয়নি। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই চিরঞ্জীব দেওয়ানজী বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছে কোতয়ালি থানায়।

কোতয়ালি থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম জানান, চম্পক দেওয়ানজি হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। আমাদের ধারণা ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হয়েছেন তিনি। আশা করি আসামি দ্রুত ধরা পড়বে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ইপিজেড থানা সিমেস্ট ক্রসিং সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করেছে। রাস্তার পাশে নালায় লাশ পড়ে ছিল। পরে পুলিশ অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আইডিতে ছবি এবং তথ্য দিয়ে লাশটি পরিচয় জানানোর অনুরোধ জানায় সিএমপি।

এতে সিএমপি জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় যে, কেউ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার কাছে থাকা টাকা পয়সা ও জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তার পরনে চেক লুঙ্গি, গায়ে শার্ট ও কালো জ্যাকেট। ভিকটিমের দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত জ্যাকেটের পকেটে একটি চাবি পাওয়া গেছে। তার লাশ বর্তমানে চমেক হাসপাতাল মর্গে আছে। লোকটির বয়স অানুমানিক ৩৫ বছর। এই বিষয়ে সিএমপি’র ইপিজেড থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে মঙ্গলবার ভোরে খুলশী থানার আমবাগান এলাকা থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমবাগান রেলওয়ে যাদুঘর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যার পর সেখানে লাশ ফেলে যায়। নিহত যুবকের কোন পরিচয় পুলিশ পায়নি।

খুলশী থানার এস আই রাসেল মিয়া জানান, সকালে এলাকার লোকজন একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। আমরা গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। যুবকের পকেটে কিছু কাগজপত্র দেখে এলাকাবাসী জানান, নিহত যুবক সম্ভবত ক্ষুদে ব্যবসায়ী। আনুমানিক ২০ বছর বয়সের মুসলিম যুবককে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর ধারণা সোমবার রাতের কোন এক সময় গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবককে জবাই করা হয়। আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে কিছুদুর গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।

একদিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ জন খুন হওয়া এবং হত্যার কোন ধরণের ক্লু বের না হওয়া কিংবা আসামি ধরা না পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল যে দুটি লাশ পাওয়া গেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এসব হত্যাকান্ডের ব্যাপারে স্ব স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। কিছুদিন রাজনৈতিক ঝামেলার কারণে ছিনতাইকারীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। তাই পরপর কয়েকটি খুনে ঘটনা ঘটেছে।
>>সূত্র-শীর্ষ নিউজ ডটকম,চট্টগ্রাম


আরোও সংবাদ