চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুল হক মামুনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ

cuছচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুল হক মামুনের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন তারই অনুসারীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মামুনের অনুসারী ও ছাত্রলীগ চবি শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তিনি বলেন,‘সভাপতি মামুনুল হক মামুনের অনুসারী হয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আজ বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এখন তিনি ও সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ চৌধুরীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে। আমরা প্রাণপ্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগকে বাঁচাতে চাই।’

টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ দলে আন্তকোন্দল লাগিয়ে রাখায় সভাপতি মামুনুল হক মামুনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ও ক্যাম্পাসে তার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সভাপতি মামুনুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে অনেক প্রার্থী স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবির সর্মথিত।

এছাড়া টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বহীনতা, সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী কর্মকান্ডে অকার্যকর ভুমিকার অভিযোগও করেন তারা।

মামুনের অনুসারীরা ছাত্রলীগ নেতারা বলেন,‘ বিভিন্ন সময় সংর্ঘেষর ঘটনায় শিবিরের দায়ের করা মামলায় তার নাম নেই। এমনকি কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তিনি সব সময় ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্ত:কোন্দল লাগিয়ে রাখেন।’

এছাড়া ছাত্রলীগ চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ বিবাহিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ, জুনায়েদ ইয়াকুব, যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার পারভেজ জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল জাভেদ, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মামুনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ চবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিলুপ্তের দাবি জানিয়েছেন।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমেদ বলেন,‘বর্তমান কমিটিতে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতার কোন ছাত্রত্ব নেই। তাই অযোগ্য ও অছাত্রদের বাতিল করে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের নতুন দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুল হক মামুন বলেন,‘ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে তারা এসব কর্মকান্ড করছে। আমিতো দূরের কথা ছাত্রলীগের কেউ এসব অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত নয়।’

প্রসঙ্গত, মামুনুল হক মামুন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অন্যদিকে খালেদ নগর আওয়ামী লীগ নেতা আজম নাসির ‍উদ্দিনের অনুসারী।