চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি শিশুপার্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী!

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:৩২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম হাউসের নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি শিশুপার্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

নগরীর কাজির দেউড়ি সার্কিট হাউজ সংলগ্ন জিয়া শিশুপার্ক চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এসময় পার্কটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল মান্নানকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতেও নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে অনেকবার সার্কিট হাউসের মতো স্পর্শকাতর একটি স্থাপনার পাশেই এই পার্কটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তারা সার্কিট হাউসের নিরাপত্তার জন্য পার্কটি সেখান থেকে তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিঠিও দিয়ে আসছিল অনেক দিন ধরে।

প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করে থাকেন। সার্কিট হাউসের পাশেই পার্কটির অবস্থান হওয়ায় এতে করে নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে থাকে গোয়েন্দারা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম শিশুপার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএমএম রহমান ব্যক্তিগত উদ্যোগে পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম এ পার্কের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৪ সালের ২৪ নভেম্বর, নগরীর কাজীর দেউড়ী এলাকায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ২৫ বছরের জন্য জায়গা ইজারা নিয়ে ‘ভাইয়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান পার্কটি নির্মাণ করেন। প্রথমে চার-পাঁচটি রাইড নিয়ে এটি শুরু হলেও দিনে দিনে নতুন রাইড যুক্ত হয়, বাড়ে জৌলুস।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, পার্কে ২৫ থেকে ৩০টি বিনোদনের রাইডার রয়েছে। তবে এর অধিকাংশ রাইডার নষ্ট। টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে একটি রাইডারে চড়াসহ ৩০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় খুলে দেয়া হয় পার্ক, বন্ধ হয় রাত সাড়ে ৮টায়। শুক্রবার খোলা থাকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এম হাফিজ আক্তার। এছাড়া বন্দর, সিডিএ, ওয়াসা, পিডিবিসহ সরকারি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।