চট্টগ্রামে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি

প্রকাশ:| সোমবার, ১৭ জুন , ২০১৩ সময় ০৯:২৪ পূর্বাহ্ণ

জরুরি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এখন আর জরুরি পাওয়া যায় না।mrp pasport2 ১০ দিনের পাসপোর্ট পেতে ক’দিন লাগে সংশ্লিষ্টরা কেউ জানেন না। এক মাসের সাধারণ পাসপোর্ট প্রার্থীদের অবস্থা আরও নাজুক। এমআরপি পদ্ধতি ডিজিটাল হলেও তার অর্ধেক কাজ এখনও হাতে-কলমে রয়ে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দফতরের কেউ কারও দায়িত্ব পালন করেন না। ফলে এ সুযোগটি কাজে লাগায় এক শ্রেণীর দালাল। নিয়ম মেনে পাসপোর্ট পেতে হলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে এটাই নিয়ম। সাধারণ পাসপোর্টের সরকারি ফি ৩ হাজার টাকা ও জরুরি পাসপোর্ট পেতে সরকারি ফি ৬ হাজার টাকা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। অথচ বাড়তি ১ হাজার টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে পাসপোর্টে প্রার্থীদের দিতে হয়। এটি এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। ইতালী থেকে পরিবার নিয়ে বেরাতে আসা বাংলাদেশের সফল নারী আসমা সুমাইয়া। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘ ১৩ দিন ঘুরেও তার জরুরি এমআরপি পাসপোর্ট হাতে পাননি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ইতালীতে বসবাস করেন। ইতালীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এখন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) পাওয়া যায় না। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে এমআরপি পাসপোর্ট নিতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। সেজন্য বাংলাদেশ দূতাবাস এ দায়িত্বও কাঁধে নিতে চায় না। তাই যাদের বাচ্চা বাইরে জন্মগ্রহণ করে তাদের অধিকাংশ পরিবার বাংলাদেশে এসে এমআরপি পাসপোর্ট করে নিয়ে যান। তিনি জানান, ৪ জুন পাসপোর্ট জমা দিলেও ১৫ জুন পর্যন্ত আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকে টাকা জমার বিবরণী চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এসে পৌঁছেনি। দুই ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান এবং রেহানুর রহমানের পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে জমা হয়নি। মজার ব্যাপার হলো পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট চেয়ে রেহানুর রহমানের কাগজপত্র ষোলশহর জেলা পুলিশে পৌঁছলেও মোস্তাফিজুর রহমানের কাগজপত্র এখনও পৌঁছেনি। এতে জরুরি এমআরপি পাসপোর্টটি পেতে আর কতদিন সময় লাগবে সংশ্লিষ্টরা কেউ জানেন না। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশের ঊর্ধŸতন এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনা মাঝে-মধ্যে হয়। এতে জরুরি বা সাধারণ পাসপোর্ট প্রার্থীদের হয়রানির কথা স্বীকার করেন তিনি। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অধিদফতরের টেলিফোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।