চট্টগ্রামে মহাজোটের শরীক এমপিদের নিয়ে বেকায়দায় আ’লীগ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

 

নজরুল ইসলাম:
আওয়ামী লীগের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি, জাসদ, তরিকত ফেডারেশনসহ শরীক দলের চারজন সংসদ সদস্য রয়েছে চট্টগ্রামে। শরীক সংসদ সদস্যদের সাথে আওয়ামী লীগের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্ঠি হয়েছে। শরীক দলের এমপিরাও আওয়ামী লীগের ঘাঁড়ে ভর করে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। শরীক দলের এমপিদের কারণে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সাথে চরম বিরোধ গ্রুপিং সৃষ্ঠি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে শরীক দলের এমপিদের মধ্যে দা কুমড়ার ভাব। আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীকদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এছাড়া শরীকেরা নির্বাচনে পাস করার মত কোন অবস্থানও নেই বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা জানিয়েছে। মহাজোটের শরীকদলগুলো সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার-প্রচারণা করছে না। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথেও কোনো ধরনের সমন্বয় নেই বলে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের অভিমত। আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলোর প্রধান প্রধানদের বাড়ি চট্টগ্রামে হলেও চট্টগ্রামে সাংগঠনিক অবস্থান তেমন একটা নেই বলেও চলে।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শরীকদের ৪জন এমপি মন্ত্রী রয়েছে। এরমধ্যে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। জাসদ কার্যকরী কমিটির সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সভাপতি ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এমপির বাড়িও বোয়ালখালীতে। তারা মূলত দলের প্রধান হলেও নিজ বাড়ি ঘরেও এসব দলের সাংগঠনিক অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়না বলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামে শরীকদের সংসদীয় আসনে স্থানীয় এমপিদের সাথে আওয়ামী লীগের চরম গ্রুপিং বিরোধ রয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানায়, হাটহাজারীতে ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপির সাথে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম ছালাম, ফটিকছড়িতে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপির সাথে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম রফিকুল আনোয়ায়ের ময়ে খতিজাতুল আনোয়ার সনির সাথে বিরোধ।বোয়ালখালীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদের সাথে মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপির মধ্যে বিরোধ। কোতোয়ালী আসনের জাতীয় পার্টির এমপি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমদ বাবলুর সাথে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অরনুসারীদের সাথে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে তরিকত ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফটিকছড়ি উপজেলার সভাপতি আলহাজ্ব মো. বেলাল উদ্দীন শাহ বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল, বড় দলের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকতে পারে, নৌকা মার্কায় মনোনয়ন পাওয়ার পর ঠিক হয়ে যাবে। প্রার্থী মনোয়ান দেয়ার পর নির্বাচনের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির দিদার বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে এখন জাতীয় পার্টি ৮০টি আসন দাবি করেছে। আওয়ামী লীগও প্রার্থী দিবে ২০০ আসনে ২০টি শরীকদের মধ্যে দিতে পারে। ৮০টি আসন জাতীয় পার্টির জন্য দেয়া হলে চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টিকে আরো কয়েকটি আসন বেশী দিতে পারে বলে তিনি জানায়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে জোটে থাকা না থাকা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত পরিস্কার হয়নি। এককভাবে বা জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ৫৬ দলীয় জোটের অধিনে সারা দেশে ৩০০ আসনে নির্বাচনও যেতে পারে, যদিও মহাজোজোটের সাথে থেকে নির্বাচন করে তাহলে চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টি আরো বেশী আসন দাবি করবে বলে তিনি জানায়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, মহাজাটের শরীক এমপিদের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধরনের সমন্বয় নেই। যার কারণে শরীক এমপিদের এলাকায় আওয়ামী লীগের মধ্যে বেশৃঙ্খলা রয়েছে। দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে পাস করবে বলেও তিনি জানান।


আরোও সংবাদ