চট্টগ্রামে পুলিশ ফোর্স বৃদ্ধির পরিকল্পনা : পুলিশ সুপার

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৮:১২ অপরাহ্ণ

হটকসন্ত্রাসী যে দলেরই হোক ছাড় নয়, তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার(এসপি) একেএম হাফিজ আক্তার।

সন্দ্বীপে গরুর বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার দলীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামী ফজলে এলাহী মিশুকে অস্ত্র ও সহযোগীসহ গ্রেফতারের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

শুক্রবার দুপুরে নগরীর দুই নম্বর গেইটে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ নাঈমুল হাছান।

পুলিশ সুপার ‍হাফিজ আক্তার বলেন,‘সন্ত্রাসী যে রাজনৈতিক দলের হোক না কেন, সে যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

তিনি বলেন,‘সীতাকুণ্ডে যারা বখাটে সন্ত্রাসী, যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারা এখন এলাকা ছাড়া। তাদের অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। কোথাও এ ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হলে সে যে রাজনৈতিক দলের হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিকভাবে আমাকে চাপ দেওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারো চাপে আমরা কাজ করিও না। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক গ্রেফতার হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন,‘গত ২১ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে সন্দ্বীপের একটি গরুর হাটে বিবদমান দুইটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সেখানে দুইজন নিরীহ লোক মারা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা হয় সন্দ্বীপ থানায়। হত্যা মামলা নেওয়ার পরপর থানা পুলিশ তদন্ত করে। এজাহার নামীয় ত্রিশজন আসামী ছিল। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করতে পারি। মূল খুনী এবং তার সহযোগী যারা ছিল তাদের ধরতে আমরা সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ইতিমধ্যে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড সেখানে অভিযান চালায়। ’

তিনি জানান,‘মূল কিলার যে ছিল সে খুলনায় পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ খুলনা থেকে খুনী ফজলে এলাহী মিশুকে গ্রেফতার করে। খুলনা থেকে তাকে নিয়ে আসার পথে সে তার অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে পুলিশকে তথ্য দেয়। অস্ত্র উদ্ধারে তাকে সন্দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্দ্বীপ থেকে মূল আসামী মিশু ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করি। তার সহযোগীদেরও গ্রেফতার করা হয়।’

পুলিশ সুপার বলেন,‘ফজলে এলাহী মিশু ভয়ংকর সন্ত্রাসী। সে পৌর যুবলীগের সেক্রেটারী। লোকজনকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য সে প্রতিরাতে ফাঁকা গুলি করতো। তার বাড়ি ও আশপাশ এলাকা থেকে প্রচুর কিরিচও পাওয়া যায়। তাকে রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও অস্ত্র উদ্ধার হবে।’

একেএম হাফিজ আক্তার বলেন,‘সন্দ্বীপে যারা এ ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। চট্টগ্রামের কোথাও এ ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যে এ ধরণের বন্দুক প্রদর্শন বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত হবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। সন্দ্বীপে এ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে যাতে এ ধরণের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হতে না পারে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন,‘শুধু সন্দ্বীপ নয়, উপকূলীয় সব এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা আসলে আমাদের জন্য একটু কঠিন। যেহেতু সমুদ্র পার হয়ে যেতে হয়। এসব এলাকায় নরমাল পুলিশিংয়ের পাশাপাশি র‌্যাব, কোস্টগার্ড মিলে এক সাথে কাজ করার পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।’

তিনি বলেন,‘এখানে ব্যাপক পুলিশ ফোর্স বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোস্টগার্ডও বাড়াতে হবে। কারণ এখান থেকে যদি আমরা পুলিশ পাঠায়। খবর পেয়ে তারা সমুদ্রে চলে যেতে থাকে। আশপাশের বিভিন্ন দ্বীপগুলোতে চলে যেতে থাকে। সমন্বিত একটা প্রচেষ্টা এরমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। ’

পুলিশ সুপার জানান, আপনারা দেখেছেন যে হাতিয়া থেকেও পুলিশ ও কোস্টগার্ড এসে রেইড করছে। মাঝে মাঝে এটাকে জোরদার করা হয়। খোলা অনেক জায়গা থাকায় অনেক সময় জলদস্যু এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের জন্য উপকূলীয় এলাকা তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাদের জন্য সুবিধা হয়। এটা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে আমরা আরো অভিযান বৃদ্ধি করবো। সন্ত্রাসী নির্মূল করার যে প্রচেষ্টা এটা অব্যাহত থাকবে।’

ঈদুল আজহার আগে গরুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্দ্বীপে জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী মিশু গ্রুপের প্রধান ফজলে এলাহী মিশুকে অস্ত্র ও তিনসহযোগী গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিশু সন্দ্বীপ পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।

বুধবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ও সন্তোষপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ২টি এক নলা বন্দুক, ২টি শট গান, ৫ রাউন্ড থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, শতাধিক গুলির খোসা ও ১০টি কিরিচ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


আরোও সংবাদ