চট্টগ্রামের ২০হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীসহ ঢাকায় পৌছে গেছি-এড ইফতেখার মহসিন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

পথে পথে বাধা, রেল ষ্টেশন ও বাস ষ্টেশনে অভিযান, গণগ্রেফতারের মধ্যেও চট্টগ্রাম থেকে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি সফল করতে বিএনপি, ১৮দলের শরিক ও অঙ্গ সংগঠনের ২০হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীসহ আমরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌছে গেছি। পুলিশি বাধা এড়াতে ঢাকায় যেতে চট্টগ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যানবাহন ভাড়া করা হয়নি। নেতাকর্মীরা কৌশল অবলম্বন করে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন পথে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌছাতে সফল হয়েছেন বলে জানান দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট ইফতেখার মহসিন। তিনি জানান চট্টগ্রাম দক্ষিণ-উত্তর -মহানগর থেকে আরো ৫০ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী কালকের মধ্যে কৌশল অবলম্বন করে ঢাকায় পৌছে যাবে ইনশাআল্লাহ, তাদের বেশির ভাগই ঢাকার খুব কাছাকাছি আছেন।

এদিকে যাত্রাপথে বাস ও ট্রেনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তল্লাশির নামে হয়রানি ও গণগ্রেফতার করছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সাতকানিয়া সীতাকু- এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৮ দলীয় জোটের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ ও যৌথবাহিনী। গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা বলেছেন, এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে চট্টগ্রাম থেকে হরতালসহ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারী করেছেন।

নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শুধু নগরী থেকেই ২০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকা যাচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই গতকাল ঢাকায় পৌঁছে গেছে। তবে ট্রেন ও বাসে তল্লাশির নামে কিছু নেতাকর্মীকে আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে পৃথকভাবে আরো অন্তত ১০ হাজার নেতাকর্মীর ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। তাদেরও অধিকাংশই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এরইমধ্যে ঢাকা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা পড়ার আশংকায় নেতাকর্মীরা আগেভাগেই ঢাকা চলে গেছে। তবে বাধা না পেলে আরও নেতাকর্মী ঢাকা যেতে পারতো বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তুর্ণা ও ঢাকা মেইলে ট্রেনযোগে ১৮ দলীয় জোটের কয়েকশ নেতাকর্মী ঢাকা যাওয়ার সময় শতাধিক পুলিশের একটি দল যাত্রীদের তল্লাশি চালায়। এ সময় কয়েকজনকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের তল্লাশির কারণে যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোতে একইভাবে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। রেল স্টেশন থেকে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে। বাসেও ছিলো পুলিশি হয়রানি। নগরীর অলংকার আন্ত:জেলা বাস টার্মিনালে পুলিশকে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসে চড়াও হয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। পুলিশের হয়রানির কারণে দুপুর থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল কমে গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান এক যুক্ত বিবৃতিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।