চট্টগ্রামের বাজারে প্রচুর কোরবানির পশু

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০৯ অপরাহ্ণ

‘ভারত থেকে গরু আসবে না’- এমন কথা চাউর হলেও, সব শঙ্কা কাটিয়ে চট্টগ্রামের বাজারে প্রচুর কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়ে গরু আমদানি বেড়েছে। ফলে কোরবানির পশু নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল সেটি কেটে যেতে শুরু করেছে।

কোরবানির ঈদে পশুর আমদানির জন্য দেশের বিভিন্ন সীমান্তে থাকা চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের পাশাপাশি এবার মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান থেকেও গরু আমদানি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটগুলোতে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসতে শুরু করেছে।

এবারের ঈদে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৯টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ২টি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী। এছাড়াও জেলার ১৪টি উপজেলার প্রায় শতাধিক স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাটে চলবে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।

সীমান্তে গরু কিনতে যাওয়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথা মানুষের মুখে মুখে রটে গেলেও আসলে অতটা কঠোর নয়। সীমান্তের ৩১টি করিডোর দিয়ে গত কয়েক দিনে প্রায় দেড় লাখ গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ঈদ ঘনিয়ে এলে গরু আমদানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাপারীরা।

কুষ্টিয়া থেকে গরু আনতে যাওয়া হাটজারীর ব্যবসায়ী আবদুল হালিম শুক্রবার মুঠোফোনে বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় ভারতের ব্যবসায়ীরা গরু এনে জড়ো করছেন। যদিও অন্য বছরের মতোই এবারও দু’পারে গরু ব্যবসায়ীদের নানাভাবে মাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও এখানে বৈধ পথের চেয়ে অবৈধ পথে বেশি গরু আমদানি হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চারজন এক সপ্তাহ থেকে কয়েক ট্রাক গরু ইতোমধ্যে ক্রয় করেছি, দু-এক দিনের মধ্যেই গরু নিয়ে চট্টগ্রামে আসছি।’

এছাড়া শুরুতে ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানিতে কড়াকড়ির কারণে মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকেছেন বেপারীরা। এক থেকে তিন দিনের টোকেন নিয়ে গরু আনতে মিয়ানমার যাচ্ছেন বেপারীরা। এছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকেও এবার গরু আমদানি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নগরীর সর্ববৃহৎ কোরবানির পশুর হাট সাগরিকা গরু বাজারের বিট মালিক মো. আলী আকবর খাঁন জানিয়েছেন, মিয়ানমারের গরু গুলো দেখতে অনেকটাই দেশীয় গরুর মতো আবার দামও কম। তাই এবার বেপারিরা মিয়ানমারের গরুর দিকে ঝুঁকেছেন। কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বৈধভাবে গরু আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন চোরাইপথে প্রবেশ করছে মিয়ানমারের গরু।
তিনি আরো জানান, বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মিস্ত্রিপাড়া, নয়াপাড়া, সাবরুম, নাজিরপাড়া, জালিয়াপাড়া, উখিয়ার রেজু আমতলী, ফাঁড়িরখিল, বালুটিয়া এবং উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকায় ঘুমধুমসহ আরও দু-একটি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারের গরু আসছে। অন্তত এক মাস আগে থেকেই এসব পথ দিয়ে মিয়ানমারের গরু এনে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য মজুদ করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রবাসী অধ্যুষিত বলে খ্যাত উত্তর চট্টগ্রামে প্রতিবছর মহানগরী থেকেও বেশি কুরবানির পশুর প্রয়োজন হয়। এখানে বড় গরুর চাহিদা একটু বেশি থাকে, এছাড়া দামটাও বেশি পাওয়া যায়। তাই ঈদুল আযহা আসার অনেক আগ থেকেই কুরবানির পশুর আনা শুরু হয়ে যায়। এমনকি শুধু ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে অনেক ব্যাপারীরা সারা বছর ধরে গরু সংগ্রহ করেন।

শুক্রবার সরজমিনে দেখো গেছে,  হাটহাজারীর সবচেয়ে বড় অস্থায়ী গরুর হাট বালুরটাল, বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেইট, মার্দাসা, আইল্লা পাড়া, ছড়ারকূল, হাটহাজারী বাজার, রাউজানের মুন্সিরঘাটা, গহিরা, নোয়াপাড়া, মদের মহালসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপারি ও খামারীদের এখন ঘরে ঘরে দেশি-বিদেশি গরু। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে যা হাটে উঠানো হবে।

এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকেও আসছে দেশীয় ও পাহাড়ী গরু। ইতোমদ্ধে এসব জেলার পাইকারি বাজার গুলোতে কুরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে।

দক্ষিন চট্টগ্রামের গরু ব্যাবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, এবার দক্ষিন চট্টগ্রামে মিয়ানমারের গরুর আধিক্য বেশি থাকবে। সাথে সাথে স্থানীয় ভাবে খামারিদের মোটাতাজাকৃত গরুও কুরবানির হাটে পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সালে জেলায় কোরবানি হয় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৭টি পশু। এরমধ্যে গরু ৩ লাখ ৬৩ হাজার, ছাগল এক লাখ ১০ হাজার ৫৬৭ ও মহিষ ১২ হাজার ৩০০।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই বলেন, ‘এবার দুই হাজার ৬৯টি খামারে ২৭ হাজার এবং ব্যক্তি পর্যায়ে এক লাখ ৯১ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় দেড় লাখ ছাগল আছে। এছাড়া রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা থেকে আগত প্রায় ৫০ হাজার দেশি গরু। সীমান্ত দিয়েও গরু আসছে, তাই এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর সংকট আপাতত দেখছি না।’