চট্টগ্রামের উন্নয়নে মন্ত্রী-এমপি, চসিক ও চউকের সমন্বয় নেই

প্রকাশ:| শনিবার, ৬ মে , ২০১৭ সময় ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

খাল দখল করে নির্মিত চট্টগ্রাম শহরের ১৩৯টি ভবন ভাঙ্গতে বিজিএমইএ এর জন্য দেয়া সুপ্রীম কোর্টের রায়ই যথেষ্ট-টিআইসিতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্ত নাগরিক সংলাপ 

জলাবদ্ধতা দূর করাসহ সামগ্রিক নগর উন্নয়নে চট্টগ্রামে একজন সমন্বয়কারি দরকার। খাল দখল করে নির্মিত শহরের ১৩৯টি ভবন বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গতে দেয়া সুপ্রীম কোর্টের রায়ের আলোকেই ভাঙ্গতে কোন বাধা নেই। চট্টগ্রামের উন্নয়নে মহানগরের সংসদ সদস্যদের সমন্বিত উদ্যোগ নেই, অথচ তা জরুরী। চসিকের সাথে চউকের সমন্বয় নেই, যা অপরিহার্য।
‘জলাবদ্ধতা রোধে নাগরিক করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত নাগরিক সংলাপে আলোচকগণ এমনটি বলেন। এতে একই দিনে একই দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত ঢাকার দুইমেয়র মন্ত্রী মর্যাদা পেলেও, এমনকি নারায়নগনজ ও অন্য কোন কোন শহরের মেয়কে প্রতিমন্ত্রী আর উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হলেও চট্টগ্রামের মেয়রকে এখনো ন্যায্য মর্যাদা না দেয়ায় দেয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
মুক্তসংলাপে আলোচকগণ নগর উন্নয়নে চট্টগ্রামে সমন্বয়কারি হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে মেয়রকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন। এলক্ষে প্রয়োজনে আইনি ভিত্তি দিয়ে মেয়রকে দায়িত্ব প্রদানের দাবী ওঠে। মুক্তসংলাপটিতে এক টেবিলে বসে জলাবদ্ধতা সংকটের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন তিনজন ভিসিসহ শিক্ষাবিদ সাংবাদিক স্হপতি প্রকৌশলী, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশার নাগরিক প্রতিনিধিগণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন(চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(চউক), চট্টগ্রাম ওয়াসার নগর পরিকল্পনাবিদ, প্যানেলমেয়র, জলাবদ্ধতা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানসহ দায়িত্বশীলরা। জলাবদ্ধতার সংকট তারা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দিয়েছেন কিছু পরামর্শ আর প্রস্তবনায়। থিয়েটার ইন্সটিটিউট,চট্টগ্রাম(টিআইসি)এ আয়োজক সংগঠন চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহবায়ক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সন্চালনায় এতে কী নোট উপস্হাপন করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাদার্ণ ইউনিভার্সিটির উপউপাচার্য প্রকৌশলী আলী আশরাফ। আলোচনায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( চুয়েট)র উপাচার্য প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিজ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়(ইউএসটিসি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর এড. রানা দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: সেলিম জাহাঙ্গীর, বিএমএ’র সভাপতি ডা: মুজিবুল হক খান, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মুজিবুল হক,চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) প্রকৌশলী নাজমুল হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম, , চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. মুজিবুল হক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের সদস্য সচিব নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক প্রদৗপ খাস্তগীর, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. তপন কান্তি দাশ, দৈনিক মুক্তবাণী সম্পাদক ববিতা বড়–য়া, চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, লায়ন সন্তোষ কুমার নন্দী, ইয়ং ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী রাজীব বড়–য়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী স্বপন বড়–য়া, চসিকের প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, শিক্ষক নেতা কবি শিব প্রসাদ ও আবদুর রহিম চৌধুরী, শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, নগর যুবলীগের সদস্য তানভীর আহমেদ রিংকু, জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভি.পি কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, এড. টিপুশীল জয়দেব, সংস্কৃতিকর্মী কবি সজল দাশ, দেবু বড়–য়া, শ্রাবণী দে প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সমাপনী বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগে চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার দেব।
পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৫ সালে প্রণীত নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা গত বাইশ বছরেও হল না কেন? এর বাধা কোথায়? আজকে মুক্তসংলাপে সকলেই সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলেছেন। যে কোন সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে একজন প্রধান সমন্বয়কারী দরকার। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে সিটি গর্ভণমেন্ট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছিলেন। এই প্রস্তাবের প্রতি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়রেরা সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন জনপ্রতিনিধি সংস্থার প্রধান হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কারী হতে পারেন। তার ক্ষমতার আইনী ভিত্তি দিতে হবে। তাহলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বাধা দূর হবে এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত।
তিনি রাজনৈতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্যোগেরও প্রয়োজণ এবং এজন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন চট্টগ্রাম নগরীর ৫টি নির্বাচনী এলাকা, ৫জন সংসদ সদস্য চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন ও এবং চট্টগ্রামের স্বার্থরক্ষা ও উন্নয়নের ব্যাপারে সংসদে কিছুই বলেন না।
এডভোকেট রাণাদাশ গুপ্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন. ঢাকার দুই মেয়রকে পুর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মেয়রকে প্রতিমন্ত্রী এবং রংপুরের মেয়রকে উপ-মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের ২য় বৃহত্তম নগরী এবং জাতীয় অর্থনৈতিক হৃৎপিন্ডের চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম নগরীর মেয়রকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়নি। এতে চট্টগ্রামে সাধারণ নাগরিকরা মর্মাহত ও হতাশ। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি খালের মুখে প্রায় ১৪৯টি অবৈধ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। উচ্চতর আদালতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে পারবেন। ঢাকায় হাতিরঝিলে হাইকোর্টের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রামেও এসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে আইনী কোন বাধা নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাউর্দান ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য্য প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেছেন চট্টগ্রামে ১৯৬৫ সাল থেকে জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল। আমেরিকার মিসিগিনির একটি সংস্থার রির্পোটে এই তথ্য দেওয়া আছে। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে রাস্তায় ৩ ফুট পানি দাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়নের জন্য ওয়াসা ও সিডিএর একাধিক মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এ সমস্ত মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন শেষ হয়নি। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওয়াসার প-নিষ্কাশনে সুষ্ঠু কোন ব্যবস্থাপনা নেই। ১৯৯৫ সালের প্রণীত মহাপরিকল্পনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০ কোটি টাকা। এখন লাগবে কয়েক হাজার কোটি টাকা। তিনি উল্লেখ করেন ১৯৬৯ সালে নেভাল ব্যাচ থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ৩৪টি খাল ছিল। এখন আছে মাত্র ২১টি। এ সমস্ত খালের অস্তিত্ব পিএস এবং আরএসে এসব খালের অস্থিত্ব থাকলেও বিএসে নেই। যে সমস্ত খালের জরিপে বিএসে নেই সেগুলোকে বিএসভুক্ত করতে হবে। তিনি আরো বলেন প্রতিটি মহাপরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে একাধিক খাল খাননের কথা বলা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজন ভূমি অধিগ্রহণের অর্থের সংস্থান করা। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব। যত দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে ততই নতুন করে খাল খননের উদ্যোগ সফল হবে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রকৌশলী ড. রফিকুল আলম বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতা ছাড়া কোন সমন্বয় সম্ভব নই। তাই আইনগত কাঠামোতে সমন্বয় সম্ভব হলে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
ইউএসটিসি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া নগরীর খাল নালাগুলোর বর্তমান ধারণ ক্ষমতা, দিনের বেলায় শহরের লোকসংখ্যা নির্ধারণ ও তার প্রভাব চিহ্নিতকরণে একটি রেপিট সার্ভে করা ও জনসচেতনতা তৈরিতে ডকুমেন্টরির তৈরির তাগিদ দেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা বহুমাত্রিক সমস্যা। ভূ-প্রাকৃতিক কারণে অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তন এ্ই সমস্যার ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের জন্য সরকারি টাকা জুলাই মাসের মধ্যে পাওয়া গেলে তা কাজে লাগে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাটালের অধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিম মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেনচট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই সমন্বিত উদ্যোগ ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা। এ জন্য শুধুমাত্র কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থাকে দায়ী করা যাবে না। কারণ এ সমস্যা সমাধানে একাধিক মহাপরিকল্পনা প্রণীত রয়েছে। কিন্তু কোনটি বাস্তবায়ন হয়নি। সমন্বিত উদ্যোগ ও সমন্বয়ের অভাবে এগুলো বাস্তবায়ণ হয়নি। আজ সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা রোধে নাগরিক করণীয় শীর্ষক এক মুক্তসংলাপে বক্তাগণ এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রাম শহর পানিতে ডুবে থাকলে দেখা গেছে খালের মুখে পাঁচশ গজের মধ্যে কোন পানিপ্রবাহ নেই। প্রায় প্রতিটি মুখগুলোতে ৫-১০টি অবৈধ স্থাপনা আছে। এই অবৈধ স্থাপনার তালিকা আমাদের কাছে আছে। কিন্তু স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের কাছে ম্যাজিষ্ট্রেসি পাওয়ার নেই। আমার প্রায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ি। তিনি আশা প্রকাশ করেন স্বাভাবিক খালগুলোর পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা গেলে শতকরা জলাবদ্ধতার সমস্যার ৮০ ভাগ নিরসন হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ.কে.এম ফজলুল্লাহ বলেন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের সময় সকল সংস্থাকে যুক্ত করার চেষ্টা হয়। ১৯৮৮ সালের আগে চট্টগ্রাম ওয়াসায় ওয়াল্ড ব্যাংক আসেনি। তারপরেও আমরা একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ণ করতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, ওয়াসা চট্টগ্রামে পানি সরবরাহ ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিপ টিউবওয়েলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইন নতুন করে বসানোর সম্ভব হলে সিস্টেম লসের আর কোন আশঙ্কা থাকবে না। তিনি বলেন ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে দিতে চাই। যেহেতু নগরীর খালগুলো তারা নিয়ন্ত্রণ করেন। আমার একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন শেষ করেছি। জুনের মধ্যেই এর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মো: হারুন বলেছেন আমরা যদি এই মুক্ত সংলাপের আলোচনার সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে তুলে ধরতে পারি তাহলে এই উদ্যোগ সফল হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ঢুকতে পারে। বন্দরের জেটিগুলোকে নাব্যতার কোন সমস্যা নেই। তিনি মহেশখাল বাঁধ প্রসঙ্গে বলেন জোয়ারের পানি যেন সিডিএ আবাসিক এলাকা সহ আগ্রাবাদে প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য এ বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। জোয়ারের পানি চার মিটারের বেশি হলে খালের সুইচ গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাঁধের ভিতরে বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য পাম্পের মাধ্যমে পানি কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি রেজাউল করিম বলেন-চাকতাই খাল ভরাটের জন্য আশেপাশের অধিবাসীরাই দায়ী। তাদের মধ্যে নাগরিক সচেতনতার অভাব রয়েছে।
অন্য আলোচকগণ বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যাটি তিন দশকেরও বেশি। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা না থাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। মনে রাখতে হবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সিডিএ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপদ বিভাগ, ওয়াসা, পানি সম্পদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমান দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বিত উদ্যোগের অভাব সমস্যা দিন দিন প্রকটতর হচ্ছে।