চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব চট্টগ্রামবাসীকেই নিতে হবে

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার ভ্যান গাড়ি ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন

চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়লে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে চট্টগ্রামের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে

চট্টগ্রাম সমিতি- ঢাকা’র উদ্যোগে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ১৪০ জন অসচ্ছল ব্যক্তির জীবনে স্বনির্ভরতা আনয়নের লক্ষ্যে ৭০টি ভ্যানগাড়ি ও ৭০টি সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠান আজ শনিবার ২১ জানুয়ারি,২০১৭ সকাল ১১টায় চকবাজারস্থ কিশলয় কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সমিতি- ঢাকা’র সভাপতি সাবেক মূখ্যসচিব মোঃ আবদুল করিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব আ জ ম নাছির উদ্দিন ।
সমিতির স্বনির্ভর কর্মসূচির সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শফিক ও প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট নাসরীন সিদ্দিকা লিনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক। বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ- সভাপতি ও স্বনির্ভর কর্মসূচির আহবায়ক মোঃ মহিউল ইসলাম মহিম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি কানাডার সভাপতি মোঃ ইলিয়াছ মিয়া এবং চট্টগ্রাম সমিতি কাতারের সভাপতি শফিউল ইসলাম বাবু।

প্রধান অতিথি সিটি মেয়র জনাব আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সমিতি চট্টগ্রামের অসচ্ছল ১৪০জন মানুষকে তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনয়নের লক্ষে আজ যে ভ্যানগাড়ি ও সেলাই মেশিন বিতরণ করলো তা সমিতির সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে চট্টগ্রামের ১৪০টি দরিদ্র পরিবার বিশেষভাবে উপকৃত হবে।সিটি মেয়র বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামকে শুধুমাত্র জেলা হিসেবে দেখার কোন সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়লে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
মেয়র বলেন, পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থায় থেকে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব চট্টগ্রামবাসীকেই নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন কিন্তু আমরা চট্টগ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ না হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।তিনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন করতে হবে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে গেলে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বাঁধাগ্রস্ত হবে, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। দেশ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, গরীবের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে । ২০৩০ সালে দেশে কোন গরীব মানুষ থাকবে না। দারিদ্রতাকে জয় করার জন্য প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে চট্টগ্রাম সমিতি রাজধানী থেকে এসে চট্টগ্রামের গরিব মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচি পালন করছে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী শুধুমাত্র কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার সভাপতি সাবেক মুখ্য সচিব মোঃ আবদুল করিম বলেন, ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রাম একটি উন্নত শহর। প্রাচীনকালে চট্টগ্রাম বন্ধরে ঐতিহাসিক চীনা পরিভ্রাজকরা ভ্রমণ করে চট্টগ্রামকে উন্নত বন্দর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০৪০ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। সেভাবে চট্টগ্রামকে আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করে যাবে।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতার আন্দোলন সবকিছুর সূচনা চট্টগ্রামেই, কিন্তু চট্টগ্রাম সবসময় তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বরাবরই বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সমিতি- ঢাকা ‘জাতীয় সমৃদ্ধির স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়ন অপরিহার্য’ শ্লোগানের প্রবর্তন করে। চট্টগ্রাম সমিতি মনে করে, চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। কেননা প্রাকৃতিকভাবে চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময়ী এলাকা। এখানকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলেই দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সমিতির সহ- সভাপতি ও স্বনির্ভর কর্মসূচির আহবায়ক মোঃ মহিউল ইসলাম মহিম বলেন, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা সমাজসেবার একটি রোল মডেল । সমাজসেবার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম সমিতি ১৯১২ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সমিতির নেতৃবৃন্দ এখনো সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। আজ শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে নয়, জাতীয় দুর্যোগ-বিপর্যয়ের সময়ও চট্টগ্রাম সমিতি সাহায্যের হাত প্রসারিত করে থাকে, বিগত সময়ে আইলা ও সিডর উপদ্রুত এলাকার মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সমিতির নিজস্ব ফান্ড থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছে। সূচনালগ্ন হতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবামূলক কাজ পরিচালনা, শিক্ষা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে ।
সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন,২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম সমিতি – ঢাকা দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। ২০১৪ সালে ৮০ জন দরিদ্র মানুষের মাঝে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করা হয়। এবার ৭০টি ভ্যান গাড়ি ও ৭০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতেও এই কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী শুধু মুখেই,চট্টগ্রাম থেকে একে একে বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও সবকিছু এখন ঢাকাকেন্দ্রীক। এ রকমের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক সুবিধা ক্রমেই কমছে,ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার উপর নির্ভরতা ,আমদানি রপ্তানি বাড়লেও বন্দরের সক্ষমতা কমেছে ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি- ঢাকা সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম পিয়ারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদের সহ সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাবুদ, মোঃ শাহাদাত হোসেন চৌধুরী হিরো, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম সাইফুদ্দিন আহম্মদ বাবুল, সাহিত্য ও সেমিনার সম্পাদক প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক, দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাছির (নাছের), নির্বাহী সদস্য মোঃ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী , মোস্তফা ইকবাল চৌধুরী মুকুল, শাহাজাহান মন্টু, মোঃ মনসুর আলী চৌধুরী, মোঃ কামাল হোসেন তালুকদার, প্রকৌশলী জাহিদ আবছার চৌধুরী, মোঃ মামুনুর রশীদ রাসেল,নির্বাহী পরিচালক রশিদ আহমদ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ, জীবন সদস্য রশীদ এনাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের উপস্থিতিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগতদের মাঝে ৭০টি রিকশা ভ্যান ও ৭০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।