চট্টগ্রামেই তৈরি হবে সম্পূর্ণ নতুন সেডান মিৎসুবিশি প্রাইভেট কার

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

জাপানের গাড়ি নির্মাতা মিৎসুবিশি কোম্পানির সঙ্গে তিন বছর আগে সম্পাদিত এক চুক্তির আওতায় চলতি বছর থেকে চট্টগ্রামেই তৈরি হবে সম্পূর্ণ নতুন সেডান মিৎসুবিশি প্রাইভেট কার।

নতুন গাড়ি তৈরি ও বাজারজাত করনের প্রকল্পটি চালু করতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত গাড়ি সংযোজন কারখানায় কাজটি করা হবে।

প্রগতির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানের মিৎসুবিশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রামের কারখানায় সেডান কার সংযোজনের বিষয়ে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি হওয়ার পরও কারখানায় প্রাইভেট কার সংযোজন বা তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা মেশিনারি না থাকায় প্রকল্পটি গত তিন বছরেও চালু করা হয়নি।

প্রগতি মূলত নতুন জিপ গাড়ির সংযোজন বা তৈরির পর্যাপ্ত মেশিনারি, যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রাইভেট কার তৈরির সঙ্গে জিপ গাড়ি তৈরির যন্ত্রাংশে ভিন্নতা থাকায় এতদিন এই কার তৈরি উদ্যোগ গ্রহণ করেনি প্রগতি।

সম্প্রতি প্রগতির নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার তৈরির যন্ত্রপাতি ও মেশিনারীজ সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে চট্টগ্রামের কারখানায় মিৎসুবিশি ব্র্যান্ডের নতুন প্রাইভেট কার তৈরির উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম প্রগতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী জানান, মার্চ মাস থেকেই চট্টগ্রামের কারখানায় সেডান প্রাইভেট কার তৈরির উদ্যোগ পূর্ণতা পাবে।

চুক্তির আওতায় মিৎসুবিশি থেকে খোলা যন্ত্রাংশ কিনে এনে চট্টগ্রামের কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন সেডান মিৎসুবিশি প্রাইভেট কার উৎপাদন করা হবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রথম ধাপে প্রথম বছরে আমরা কমপক্ষে দেড় হাজার কার তৈরি ও বাজারজাত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দেশে উৎপাদিত সম্পূর্ণ নতুন এসব সেডান কারের মূল্য হতে পারে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকা। উৎপাদন শুরু হলে চট্টগ্রামের প্রগতি থেকেই প্রতিবছর এক হাজার প্রাইভেট কার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে প্রগতি।

উল্লেখ্য প্রগতি সরাসরি গাড়ি নির্মাণ না করলেও দেশের একমাত্র গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম রয়েছে। প্রগতির দেয়া পরিসংখ্যান মতে বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৪০ ধরনের প্রায় সাত হাজার ৪০০ পার্টস একসঙ্গে সম্মিলিত করে এই কারখানায় বর্তমানে পাজেরো জিপ তৈরি হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শামাল দিতে প্রগতি কারখানায় রয়েছে ১৫ জন দক্ষ প্রকৌশলী। প্রকৌশলীদের মাধ্যমে কারখানায় কাজ করেন গাড়ি সংযোজনে দক্ষ ২৩০ জনের একটি বড় ইউনিট।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বারবকুণ্ডে ২৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় দৈনিক তিনটি পাজেরো জিপ সংযোজন করা সম্ভব বলে কারখানার প্রকৌশলীরা জানান।

উল্লেখ্য ১৯৭২ সালে জিএম ভক্সহলের তত্ত্বাবধানে প্রগতি বের করেছিল ভিভা নামক একটি সেডান। এ গাড়ীটি এশিয়া ১৯৭২ ট্রেড শো, ভারতে দেখানো হয়েছিল। এ সময় প্রগতি বেডফোর্ড ট্রাকও সংযোজন করতো। এ বিজ্ঞাপনের মূল শ্লোগান ছিল, ‘বাংলাদেশ ভালো জিনিস তৈরি করে’ (bangladesh produces quality)


আরোও সংবাদ