চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ আর কাটে না

প্রকাশ:| শনিবার, ১৫ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কাজী আবুল মনসুর । চট্টগ্রামের দুঃখ বলে খ্যাত চাক্তাই খালের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। কর্ণফুলির নদীর সঙ্গে যুক্ত চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় খাল এটি। নগরীর প্রাণকেন্দ্র বহদ্দারহাট হতে ৬ মাইল এলাকা ঘুরে কয়েকটি ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে এটি কর্ণফুলি নদীতে পড়েছে। caktai jpgএ খালটির অনেক অংশ দখল করে উঠেছে বহুতল ভবন। খালটির খনন নিয়ে এ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে, কিন্তু খাল পাড়ের মানুষের কষ্ট লাঘব হয়নি। পুঞ্জিভূত ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে চাক্তাই খাল খনন কমিটিও গঠন করা হয়। বর্ষায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করলে সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। বছরের পর বছর ধরে খাল খননের নামে অর্থ লোপাট হচ্ছে। কিন্তু জলবদ্ধতার অভিশাপ থেকে নগরবাসী মুক্তি পাচ্ছে না। প্রতি বারের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির একটি নাম চাক্তাই খাল খনন। খালের পাড়ে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক ভোটার। বর্ষার পর লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি থাকে চাক্তাই খাল ভরাটের কারণে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চাক্তাই খালের শুরু নগরীর বহদ্দারহাট এলাকা থেকে। চলমান খালের অনেকস্থানে এসে পড়েছে অবৈধ দখলদারদের বাড়ির দেয়াল। অনেকে খালের ভেতরে স্থাপনা করেছে। দেওয়ানবাজার সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় চাক্তাই খালের দখল চিত্র ব্যাপক। এখানে গড়ে উঠা স্থাপনা ভাঙার জন্য দফায় দফায় সিদ্ধান্ত হলেও শেষপর্যন্ত কার্যকর হয়নি। মাস্টারপুল এলাকার চিত্রও একই রকম। নগরীর চন্দনপুরা, মিয়ারবাপের পুল, দেওয়ানবাজার, মাস্টারপুল, চাক্তাই ব্রিজ, চামড়ার গুদাম পর্যন্ত চাক্তাই খালের উপর দিয়ে রয়েছে ৯টি ব্রিজ। এসব ব্রিজের নিচে ভরাট এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যাতে দেখা যায়, বছরের পর বছর এসব এলাকা থেকে কোনো মাটি উত্তোলন হয়নি। চাক্তাই খালের সঙ্গে নগরীর পুরো এলাকার ১৩টি উপখালের সংযোগ রয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ মধ্যম বদরখাল, জামাল খান সাব-এরিয়া খাল, চট্টেশ্বরী হিজরা খাল, মির্জাখালসহ বিভিন্ন বড় বড় নালার সংযোগ হয়েছে চাক্তাই খালের সঙ্গে। বর্ষার সময় পাহাড়ি মাটি এসব নালা দিয়ে চাক্তাই খালে এসে মিশে। ফলে প্রতি বছরেই খালের ভরাট চিত্র বাড়তে থাকে। পরিকল্পিতভাবে খাল খনন না হওয়ার কারণে মানুষের দুঃখের শেষ নেই। চাক্তাই খাল নগরবাসীর দুঃখ হলেও কারও কারও জন্য এ খাল আশীর্বাদ হিসেবেই কাজ করছে। এ খাল খননের জন্য প্রতি বছরই করপোরেশনের বাজেট থাকে। তাছাড়া বছর বছর টিআর কর্মসূচি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, নগদ টাকা দিয়ে খাল খনন তো রয়েছেই। চাক্তাই খাল দিয়ে আগে নৌকা-সাম্পান চলত। তা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। জায়গার দাম বাড়ার সঙ্গে খালটির অনেকাংশ বেদখল হয়ে গেছে। থেমে নেই দখলদাররা। সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলেই চাক্তাই খাল নিয়ে ব্যাপক মাতামাতি হয়। মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন। নির্বাচিত হওয়ার পর খাল নিয়ে দুর্নীতি, লুটপাট চলে। গত ২০ বছর ধরে এমনটি হয়ে আসছে। নগরবাসী জানে না চাক্তাই খাল আর কতকাল চট্টগ্রামের দুঃখ হয়ে থাকবে।