চকরিয়া পৌর নির্বাচন: বিএনপি প্রার্থী হায়দারকে গুলি, আহত ৫

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

বিএনপি লগো

পেকুয়া প্র‌তি‌নি‌ধি

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র
প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারকে খুব কাছ থেকে গুলি করা
হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহর নিয়ে পথসভায় যাওয়ার
পথে ওই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,
নুরুল ইসলাম হায়দারের শরীরের একাধিক অংশে গুলি
লেগেছে।
এছাড়াও এই ঘটনায় মেয়র প্রার্থীর সাথে থাকা জেলা বিএনপির
সহ-সভাপতি এনামুল হকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে চকরিয়া
গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে এই ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনাটি চকরিয়া
থানা থেকে মাত্র ২৫০ গজ দূরে।
এই ঘটনায় মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার ও তাঁর গাড়ি
চালকসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে জেলা
বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক, নুরুল ইসলাম হায়দারের গাড়ি
চালক এনামুল হক ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর
রহমান চৌধুরী খোকন মিয়াও রয়েছেন।
বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র
প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাই এই হামলা চালিয়েছে।
পুলিশ অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছে। পুলিশের দাবি, নুরুল
ইসলামকে গুলি করা হয়নি। তিনি ধস্তাধস্তিতে রাস্তায় পড়ে
গিয়ে সামান্য আহত হয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার পরপরই নুরুল ইসলাম হায়দারের উপর
হামলাকারি দুর্বৃত্তরা চকরিয়া আদালত এলাকায় ৬নং ওয়ার্ডের
কাউন্সিলর প্রার্থী শিব্বির আহমদের প্রচারণা মাইক ভাংচুর
করে। এই প্রার্থীও বিএনপি সমর্থিত।
চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ফখরুদ্দিন ফরাজী
জানান, সন্ধ্যার পর চকরিয়ার থানার অদূরে গ্রামীণ ব্যাংকের
কাছে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম
হায়দারের পথসভা ছিল। তিনি ওই পথসভায় যোগ দিতে অন্য
এলাকা থেকে গণসংযোগ শেষ করে একটি গাড়িতে
পথসভাস্থলে আসছিলেন।
তিনি দাবি করেন, পথসভাস্থলের কাছাকাছি আসলে একদল
দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম
হায়দারকে গুলি করে। ওই সময় তাঁর পাশে থাকা জেলা বিএনপির
সহ-সভাপতি এনামুল হকও গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি জানান, মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারের মাথা,
কোমর ও বুকে গুলি লেগেছে।
বিএনপি নেতা ফখরুদ্দিন ফরাজী জানান, গুলিবিদ্ধ ও আহতদের
দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া
হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম
হায়দার ও বিএনপি নেতা এনামুল হককে চট্টগ্রাম মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম
হায়দারের স্ত্রী রিফাত সাবরিনসহ পরিবারের একাধিক সদস্য
এই ঘটনার পর অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। তাদের চিকিৎসা
দেয়া হচ্ছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান
জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম হায়দার গুলিবিদ্ধ হননি। তবে তিনি
সামান্য আহত হয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, পথসভা শেষ করে ফেরার পথে প্রতিপক্ষ
প্রার্থীর একটি মিছিল পার হওয়ার সময় দুইপক্ষের মধ্যে
ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ওই সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে বিএনপি
প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার পায়ে ও বুকে আঘাত
পেয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম খান জানান, নুরুল ইসলাম হায়দার
ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী হওয়ায় তার অনুরোধে
উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলমগীর
চৌধুরীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।