চকরিয়া-পেকুয়ায় ঝুঁকিতে ৫ লাখ মানুষ

প্রকাশ:| শনিবার, ২৯ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

 

চকরিয়া প্রতিনিধি:  ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নিয়েছিল কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণ। পাশাপাশি হাজার হাজার গবাদি পশুও মারা যায়। ওই দিন উপকূলীয় এলাকা বিরানভূমিতে পরিণত হয়। ঘুর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়।

প্রতি বছর ২৯ এপ্রিল আসার আগেপরে আকাশে মেঘ দেখলে শিউরে উঠেন উপকূলীয় এলাকার মানুষ। ওই দিন দুই উপজেলায় বিভিন্ন সংগঠন স্মরণসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের পর দুই উপজেলায় দেশিবিদেশি অর্থায়নে শতাধিক সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৯৯১ সালের পরে নতুন করে আর কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। ফলে চকরিয়াপেকুয়ার ৫ লাখ মানুষ এখনো ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এছাড়া দুই উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হয়নি। যেগুলো আছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওগুলোর অবস্থাও করুণ। টেকসই বেড়িবাঁধও নির্মিত হয়নি। এতে করে বেশিরভাগ উপকূলীয় ইউনিয়ন এখনো অরক্ষিত রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য দুই উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (প্যারাবন) সৃষ্টি করা হলেও তা উজাড় করে দুবৃর্ত্তরা চিংড়ি চাষ করছে। অভিজ্ঞমহলের অভিমত, এখানে ১৯৯১ সালের মতো দুর্যোগ হলে প্রাণহানি আগের চেয়েও ভয়াবহ হবে।

চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ার সত্তরোর্ধ খতিজা বেগম। ওই দিনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ওইদিন সকালে আমির ছিল, রাতের মধ্যেই তারা ফকির হয়ে যায়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, রেড ক্রিসেন্ট ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের ত্রাণ শাখার অধীনে যেসব সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে, সেগুলো ভালোই আছে। স্থানীয়ভাবে জিম্মায় দেয়া শেল্টারগুলো দেখভাল করার জন্য স্বস্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

বাসস জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় ১ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। কর্ণফুলী নদীর তীরে কংক্রিটের বাঁধ থাকলেও জলোচ্ছ্বাসে ধ্বংস হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ১০০ টন ওজনের একটি ক্রেন ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে স্থানচ্যুত হয় এবং আঘাতের কারণে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বন্দরে নোঙর করা বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ, লঞ্চ ও অন্যান্য জলযান নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অনেক যানও ছিল। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।