চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যক্তির নামে খতিয়ান

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৪ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

লক্ষ্যারচর ভুমি অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য
মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ফারুক,চকরিয়া
১৯৯৪-৯৫ সনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ভুমি অধিগ্রহণের সময় চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকার অধিকাংশ জমি সরকারি একোয়ারভুক্ত হয়। ওই সময় হাইওয়ে মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট ভুমি অধিগ্রহণ করা হলেও তথ্য গোপন রেখে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অধিগ্রহণকৃত ওই জমি রেজিষ্ট্রি ও ভুমি অফিসের মাধ্যমে খতিয়ান সৃজনের মহোৎসব চলছে।
অভিযোগে জানাগেছে, ১৯৯৪-৯৫সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে মহাসড়ক নির্মাণের সময় জমির উপর স্থিত সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দাগ নাম্বার সহকারে এল মামলা নং ১৫/৯৪-৯৫ এর আলোকে ভূমি অধিগ্রহণ (একোয়ারভুক্ত) করে নেয়। এবং সংশ্লিষ্ট জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য স্ব স্ব জমির মালিককে নোটিশ্র প্রদান করে। এনিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভুমি অধিগ্রহণের বিষয়ে নোটিশ ও অবগতি প্রত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরে এসে জমি মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় জমির মালিকরা তথ্য গোপন করে প্রতারকচক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময় ইউনিয়ন ও উপজেলা ভুমি অফিস থেকে খতিয়ান সৃজন করে নিচ্ছে। উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার ষ্টেশন এলাকায় বিএস ১০২৪নং খতিয়ান থেকে মৃত ছিদ্দিক আহমদ সওদাগরের পুত্র ছরওয়ার কামালের নামে নতুন করে বিএস খতিয়ান নং ২৪৩৬সৃজন করেন। বিষয়টি সংবাদপত্রের আসার পর প্রশাসনের উর্ধ্বতন বিভাগের হস্তক্ষেপে ওই খতিয়ান বাতিল করেন উপজেলা ভুমি অফিস। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কাকারা ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা কাজল কুমার সুশিলের সহায়তায় ওই স্থানের ৩৭৪নং বিএস খতিয়ান থেকে স্থানীয় জনৈক আবদুল কাদের ও রফিক আহমদের নামে ৫শতক এবং ফজল করিমের নামে ৩.১২শতক (১০কড়া) মহাসড়কের জমিতে তথ্য গোপন রেখে পূণরায় ২৬৪২নং বিএস খতিয়ান সৃজন করেছেন।
এছাড়াও চকরিয়ার ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা ভুমি অফিস সীমাহীন দূর্নীতির আকড়ায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ এলাকার দখলবাজরা অর্থের বিনিময়ে নামে-বেনামে বিএস খতিয়ান সৃজন করে নিলেও প্রকৃত জমি মালিকরা পথে বসেছে ।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) অফিসের কানুনগো আশিষ তরু চাকমা জানান, চকরিয়ায় অধিগ্রহণকৃত মহাসড়ক খতিয়ান সৃজনের বিষয়টি তাদের জানা নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার’র সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো: মাঈন উদ্দিন জানান, সরকারি মহাসড়কের জমি খতিয়ান সৃজনের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এরপরও তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে ওইসব খতিয়ান অবশ্যই বাতিল করা হবে। ইতিপূর্বে ওই এলাকায় সরওয়ার কামালের নামে সৃজিত আরো ১টি খতিয়ান বাতিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোয়াজ্জম হোছাইন জানান, সরকারি ভুমি অধিগ্রহণকৃত জমি ব্যক্তির নামে খতিয়ানের বিষয়ে মৌখিকভাবে শুনেছেন। এনিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন এবং এ বিষয়টি অত্যন্ত দু:খ জনক বলে জানান।

চকরিয়ায় মন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের অপচেষ্টা
চকরিয়া পৌর এলাকার চিরিংগা হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জবর দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সময় থেকে উল্টো নানাভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
জমি মালিক মৃত ননী গোপাল দাশের পুত্র সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পানির জাহাজ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুনিল কান্তি দাশ মহাজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় মৃত অন্নদা চরণ দাশের পুত্র কাউন্সিলর লক্ষণ দাশ, সাঁচি রামদাশের পুত্র সন্তোশ কুমার দাশ, মৃত পুলিন বিহারীর পুত্র নেপাল দে,মৃত অনিল বরণ দাশের পুত্র রতন বরণ দাশ ও মৃত সচিন্দ্র প্রকাশ বান্টুর পুত্র উত্তম দাশসহ একদল সংঘবদ্ধ চক্র মন্দির লাগোয়া তার (সুনিল মহাজনের) ৬শতক (১৭কড়া) জমি রয়েছে। তিনি মৃত শশী কুমার দে ও অজিত রঞ্জন দে গংয়ের কাছ থেকে ওই জমি ২০০২ সালে রেজি:মূলে ক্রয় করেন। উক্ত জমিতে সে সেমি পাকা বাড়ী নির্মাণ করে ভোগ দখলে রয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধী করার পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তার জমি মন্দিরের নাম দিয়ে জবর দখলের চেষ্টাও চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নেতা পরিচয় দিয়ে তার জমি দখল চেষ্টার পাশাপাশি নির্বাচনে অপপ্রচারে অন্তত তার ২কোটি টাকার মানহানী হয়েছে বলে দাবী করেন। তিনি আরো জানান, আমার দখলে মন্দিরের জমি আছে প্রমান করতে পারলে সবটুকু জমি আমি ছেড়ে দেব।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০হাজারের উর্ধ্বে ভোটার থাকলে নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কারণে তার পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৭হাজারের কিছু বেশি। এদিকে সমাজে তার মান সম্মান হেয় প্রতিপন্ন করার ধর্মীয় প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এনিয়ে নির্বাচনের দিনই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।