চকরিয়ার বদরখালীতে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৫১ অপরাহ্ণ

অবৈধ অস্ত্রকক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীতে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

সবর্ত্র খুন-হত্যা, রাহাজানি, মারামারি, ডাকাতি এবং বিচার বর্হিভূত সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। চলতি বছরে পিতা তার নিজ ৩ শিশু কন্যকে জবাই করে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বদরখালী কুতুবদিয়া পাড়া গ্রামে জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংর্ঘষে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে এবং গুলিতে দুবাই প্রবাসী হেলাল উদ্দিন সিপু ( ৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়। আহত হয়েছে নারী-পুরুষসহ ৮জন। তাই বলা যায় খুন দাঙ্গা-হাঙ্গামা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পেকুয়া- মহেশখালীর চেয়ে বদরখালী একেবারেই পিছিয়ে নেই।

জানা যায়, সাগরও নদীবেষ্টিত উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নে হঠাৎ বেড়েছে অস্ত্রের ব্যবহার। খুন, ডাকাতি, দখলসহ নানা অপরাধে ব্যবহ্নত হচ্ছে ক্ষুদ্র অবৈধ অস্ত্রের পাশা-পাশি অত্যাধুনিক অস্ত্র। বদরখালীতে হঠাৎ করে অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, যারা অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ এবং ব্যবহার করছে তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ করছে পুলিশ। চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্রধরে’র নেতৃত্বে বদরখালী নৌ-পুলিশের সহকারী আইসি এ.এস আই আবুল কালাম আজাদের দুঃসাহসিক অভিযানে দাগী অপরাধীদের গ্রেফতার করায় কিছুদিন অপরাধীরা গা- ঢাকা দিলে আবার সক্রিয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন যদি বদরখালী উপকূলীয় এলাকার সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করতে বদরখালী নৌ-পুলিশকে নির্দেশ না দেয় তা হলে এর বিস্তার মহামারী আকার ধারন করবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

জানা যায়, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে কয়েক বছর বদরখালী উপকূলীয় এলাকায় অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ভাটা পড়লে ফের শুরু হয় এসব অস্ত্রের ব্যবহার। সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলো খুন, ডাকাতি,চিংড়ি ঘের দখল-বেদখল সৃষ্টিসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করছে এসব অস্ত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লালিত ক্যাডারদের হাতে অস্ত্র রয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। ক্ষুদ্র অস্ত্রের সাথে ভারি অস্ত্র ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। এ ব্যাপারে জানতে বদরখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুলত বদরখালী উপকূলীয় ইউনিয়ন হওয়ায় বেশির ভাগ অপরাধ ইউনিয়নের সাতডালিয়া পাড়া থেকে সংগঠতি হচ্ছে, বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া কিলার ওই নদীবেষ্টিত এলাকাতে কিছু মুখোশধারী গডফাদারদের সহযোগিতায় আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি এক প্রতিক্রিয়া জানান, বদরখালীর নৌ-পুলিশের সামান্য জনবলের পক্ষে এসব দাগী সন্ত্রীদের গ্রেফতার অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব নয়, উর্ধ্বতন প্রশাসন সু-নজর রাখলে দাগী সন্ত্রাসীসহ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভাব হতে পারে।

জানা গেছে, গত ১০ মাসে খুন,ডাকাতি,মাদক,ছিনতাই, চাঁদাবাজি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে বহুগুনো। সম্প্রতি যে ঘটনা গুলো ঘটছে তার বেশি ভাগই বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের এমন কথা ও শোনা যাচ্ছে। পুলিশ তৎপর থাকলেও কিছুতেই রোধ হচ্ছে না ডাকাতি, চাঁদাবাজি দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মাদকের চালান কিংবা হত্যার ঘটনা। চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মহোৎসব !এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। অপরদিকে বদরখালীতে জায়গা জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দখল-বেধখলকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক দলের ক্যাডারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ লোকজন জানান। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজন মনে করছে এলাকাবাসী।

বদরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ বলেন, ৪০ হাজার জনগোষ্টির আবাসস্থল বদরখালী ছিল এক সময়ের শান্তির এলাকা। এখানে তেমন কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা, দখল-বেদখল মাস্তানী ও সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্য ছিল না। কিন্তু ভূমি মূল্য বেড়ে যাওয়া বদরখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু সন্ত্রাসী সৃষ্টি হয়। তাদের জন্মের ইতিহাস এক যুগের বেশী হয়নি। তারা বাচ বিচার না করেই অন্যের জমি দখল-বেদখল করে নিচ্ছে। এসব করতে গিয়ে বহু নিরীহ মানুষ তাদের হাতে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, আমরা বদরখালীকে আলাদা ভাবে দেখছি তবে সন্ত্রাসীরা কোথাও মাথাচড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে। তিনি আরো ও জানান, এলাকার লোকজন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভাব হবে।