ঘূর্ণিঝড় ‘হুদ হুদ’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে আরো শক্তি নিয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ্র ও দক্ষিণ উড়িষ্যার উপকূল-সংলগ্ন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘হুদ হুদ’।
ঘূর্ণিঝড় ‘হুদ হুদ’

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর বলছে, হুদ হুদ আরো শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে রোববার বিকাল নাগাদ বিশাখাপত্তম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সে সময় ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগের বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূল।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

এটি আরও ঘণীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার হুদহুদ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ে এবং প্রবল বৃষ্টিতে কয়েক জায়গায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন ছিঁড়ে গেছে। গাছ পড়ে দ্বীপের মূল সড়ক আন্দামান ট্রাঙ্ক রোড বন্ধ হয়ে গেছে।

দক্ষিণ আন্দামান জেলার কমিশনার তানভি গার্গ রয়টার্সকে জানান, তার এলাকায় সব স্কুল এবং ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে পাইলিন, হেলেন ও লহর নামে তিনটি ঘূর্ণিঝড় ওই উপকূলে আঘাত হানলে কয়েক লাখ লোককে সরিয়ে নেয়া হয়।

এর আগে ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে উড়িষ্যায় তাণ্ডব চালিয়ে যায় একটি সুপার সাইক্লোন, যাতে অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে ‘হুদ হুদ’ নামটি প্রস্তাব করে ওমান।

হুদহুদ আরবের একটি পাখি, যার মাধ্যমে নবী সুলাইমান সেবার রানী বিলকিসকে পত্র পাঠাতেন।