ঘুমধুম করাতকলে চোরাই কাঠ চিরাই হচ্ছে হরদম

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

ফরহাদ রহমান, উখিয়া টেকনাফ প্রতিনিধি।
ঘুমধুম করাতকলে চোরাই কাঠ চিরাই হচ্ছে হরদমকক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ঘুমধুম কচুবনিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করাতকলে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ চিরাই হচ্ছে। নিরাপদ স্থানে করাতকল হওয়ার সুবাদে সংঘবদ্ধ কাঠচোর চক্র সরকারি ও সামাজিক বনায়নের লুটপাট করা গাছ-গাছালি এ করাতকলে সাইজ করে বাজারজাত করলেও দেখার বা বলার কেউ নেই। বন সম্পদ লুটপাটের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার ফলে উখিয়া ও তৎসংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির বৃহত্তর বনাঞ্চল বিরাম ভূমিতে পরিণত হতে চলছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থল কচুবনিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি দুই উপজেলা সদর থেকে অধিকতর দুরত্বে এক দুর্গম এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এ করাতকলের মালিক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সুগত বড়–য়া। তার করাতকলে চিরাই করার জন্য মওজুদ রাখা প্রায় হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠের মালিক কারা জানতে চাওয়া হলে এ সময় উপস্থিত লোকজন কথা বলতে নারাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২/৩ জন লোক জানালেন, তার হাত অনেক লম্বা। লিখেও কোন কাজ হবে না। তারা আরো জানান, এ করাতকলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ চিরাই করা হয়। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও কাঠ ব্যবসায়ীরা এ করাতকল থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে আসেন। করাতকল মালিকের সাথে বিভিন্ন প্রশাসনের লোকজন ম্যানেজ থাকার কারণে তার করাতকলে কোন দিন পুলিশ বা প্রশাসনের লোকজন আসেনি। এ সময় করাতকলের মালিক ছবি তুলতে নিষেধ করে বলেন, তার করাতকলের পারমিশন আছে। কাগজ পত্র দেখাতে বলা হলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলেন, আপনি এসব দেখার কে?
স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষক কনসালটেটিভ বিষয়ের সদস্য খাইরুল বশর চৌধুরী জানান, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মত পার্থক্যের কারণে সমিল বৈধতা পাচ্ছে। তিনি জেলা প্রশাসকের উদ্বৃতি দিয়ে আরো বলেন, সর্ব সাধারণের প্রয়োজন বশত: জেলা প্রশাসক করাতকলের অনুমতি দিতে পারে। ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করে তিনি বলেন, করাতকল বৈধ হলেও অবৈধ চোরাই কাঠ চিরাই করার জন্য তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। নাইক্ষ্যংছড়ির রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু বকর ছিদ্দিক জানান, উক্ত সমিলের ব্যাপারে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম অজপাড়া গায়ে প্রতিষ্ঠিত সমিলের বৈধতা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে পার্বত্য বান্দরবানের লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকায় কোন সমিলের বৈধতা দেওয়া হয়নি। উক্ত সমিল উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।