গ্রেফতারকৃত ৮জঙ্গি দুই দিনের রিমাণ্ডে

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:০৯ অপরাহ্ণ

৮জঙ্গিচট্টগ্রাম ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’র সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ হাটহাজারীর আলীপুর মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড নিয়েছে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।

রোববার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এরআগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-৭ এর এএসপি রহুল আমীন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আদেশের পর র‌্যাব হেফাজতে যাওয়া চার জঙ্গি হলেন, মোবাশ্বের হোসেন,আমিনুল ইসলাম, হাবীবুর রহমান, আমির হোসেন,আজিজুল হক,আব্দুল্লাহ,রাকিব হাসান, মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।

চট্টগ্রাম আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মসিউর রহমান বলেন, ‘হাটহাজারীর আলীপুর মাদ্রাসা থেকে আটক ৮ জঙ্গি সদস্যকে বাঁশখালীর মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত শুনানি শেষে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।’

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারীর আলুপুরে মাদ্রাসাতুল আবু বক্কর মাদ্রসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগে ১২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছি। পরে তাদের দেয়া তথ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর সাধনপুরে পাহাড়ে খামার বাড়ী থেকে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যবা-৭। ওই সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ গোলা বারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর হালিশহরের একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকেও বিপুল বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছিল র‌্যাব।

পরবর্তীতে এই কার্যক্রমের সাথে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠন আবিস্কারের কথা জানায় র‌্যাব। এরপর বিভিন্ন সময়ে একে একে অভিযান চালিয়ে হামজা ব্রিগেডের ২৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সম্প্রতি হামজা ব্রিগেডকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা অর্থয়ানের অভিযোগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদিকা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান চৌধুরী লিটন ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ঢাকার তুরাগ এলাকা থেকে ১৬ লাখ টাকা অর্থায়নের অভিযোগে পোশাক ব্যবসায়ী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। যদিও ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শাকিলার সাথে গ্রেপ্তার অপর দুই আইনজীবী।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর প্রধান লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে জঙ্গিদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো হাটহাজারীর আলিপুরে অবস্থিত মাদ্রাসাতুল আবু বক্কও মাদ্রাসায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের বাছাই করে হাটহাজারীতে নিয়ে আসা হয়। তারপর তাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে জেহাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পরে একে-৪৭ রাইফেল চালনার কৌশল, আইএস, আল নুসরা, আল কায়েদা, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফের প্রশিক্ষণের ভিডিও দেখানো হয়। এসব ভিডিও ফুটেজ আমরা উদ্ধার করেছি।

তিনি আরো বলেছিলেন, আটক ১২ জনের প্রত্যেকের কাছে একটি করে মেমোরি কার্ড রয়েছে। তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সেখানে লুকিয়ে রাখতো। এসব মেমোরি কার্ড থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ৬২ জিবি ডাটা উদ্ধার করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে তারা কখনো মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা যোগাযোগ করতো এবং কথা বলা শেষে তা মুছে দিত। যার কারণে তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আটককৃতদের দাবির বিষয়ে র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, তারা যদি আরবী সাহিত্য শিখতে আসে তাহলে তাদের কাছে কেন একে-৪৭ চালানোর ভিডিও, বিমান অপহরণ ও শিশুদের অস্ত্র চালনার ভিডিও থাকবে?