গ্রেফতারকৃত বৌদ্ধ ভিক্ষু’সহ দুই পাচারকারী ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৭:২৮ অপরাহ্ণ

রিমাণ্ড
বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ১১ শিশু কন্যা মিয়ানমারে পাচারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বৌদ্ধ ভান্তে উসিরি ভিক্ষুসহ ২ পাচারকারীকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে নিয়েছে পুলিশ। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শিশুদের সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা পুলিশের কাছে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছে দাবী ডিবি পুলিশের। আজ রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, মিয়ানমারের বান্দরবানের ১১ শিশু পাচারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ২ পাচারকারী’সহ উদ্ধার হওয়া শিশুদের বান্দরবান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তাহমিনা আফরোজ চৌধুরীর আদালতে হাজির করে অভিযুক্তদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত যুক্তিতর্ক শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে মিয়ানমার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত ২ পাচারকারী বৌদ্ধ ভান্তে উসিরি ভিক্ষু এবং সহযোগী উচা থোয়াই’কে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের শারীরিক চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিশুদের পুনরায় সোমবার আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন আদালত।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শিশুদের কয়েকজনকে ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শিশুদের অভিভাবক মেদো মারমা অভিযোগ, মিয়ানমার থেকে তাদের শিশুদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার পর এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের স্বাক্ষাত করতে দেয়া হয়নি। শিশুদের সঙ্গে স্বাক্ষাত করতে না পারায় অভিভাবকরা নানা ধরনের শঙ্কায় রয়েছেন।
গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মিয়ানমার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুরা তাদের সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতে হাজির করা হবে। গ্রেফতারকৃত দুই পাচারকারীকে আদালতের নির্দেশে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অপর দুই শিশুর এখনো কোনো ধরণের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত: উসিরি ভিক্ষু আশ্রমে নেয়ার কথা জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে ১৪ শিশু কন্যাকে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিংঙ্গ্যা ছড়ি বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নেয়ার কথা বলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ১৩ শিশু কন্যাকে মিয়ানমারে পাচার করে। আশ্রম থেকে ১ জন শিশু কন্যা পালিয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলায় বাড়ি ফিরে ঘটনাটি অভিভাবকদের জানালে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায় অভিভাবকরা রোয়াংছড়ি থানায় একটি মামলা করেন।