গ্রুপ ফোর সিকিউরিটি কার্যালয় থেকে তিন কোটি টাকা চুরি

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সি জি ফোর এস-সিকিউর সলিসন্স বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড (গ্রুপ ফোর সিকিউরিটি) কার্যালয় থেকে তিন কোটি টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। নকল চাবি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির খুলশী কার্যালয়ের একটি ভল্ট থেকে এসব টাকা চুরি করা হয়।

এ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় রোববার গভীর রাতে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রুপ ফোর সিকিউরিটির সিনিয়র ম্যানেজার তারেক মনসুর বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন মামলার বাদি।

খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই মামুনুর রশিদ জানান, খুলশী আবাসিক এলাকার চার নম্বর সড়কে কার্যালয়টি অবস্থিত। ভল্টের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যবেক্ষণে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েছে। মুখোশধারী এক চোর ভল্টের নকল চাবি ব্যবহার করে এ চুরির ঘটনা সংঘটিত করেছে।

এস আই মামুনুর রশিদ বলেন, মামলা দায়েরের পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

গ্রুপ ফোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকাপয়সা নিরাপদে পরিবহন করে। তাদের ভল্টে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্ডার মোতাবেক প্রাপ্ত টাকা সংরক্ষিত থাকে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ঘেরা পুরো অফিসে সার্বক্ষণিকভাবে একজন ফ্রন্ট ডেস্ক অপারেটর আছেন। তার কাছে ভল্টের চাবি থাকে এবং ভল্টের সিকিউরিটির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে দু’জন নিরাপত্তারক্ষী থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজার তারেক মনসুর জানান, ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আরমান ওই ভল্টে ৩০ কোটি টাকা গচ্ছিত রাখেন। এরপর ভল্টে মোট জমা টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ কোটি টাকা।

১১ অক্টোবর রাত ১০টার সময় ভল্ট অফিসার জসিম উদ্দিন ও তোফাজ্জল হোসেন ভল্টের টাকা হিসাব করে ৫৪ কোটি টাকা দেখতে পান। কিন্তু ১২ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টার দিকে বদলি ভল্ট অফিসার নিজাম ‍উদ্দিন ও আবুল আরমান ফজলুল করিম ভল্ট খুলে হিসাব করে তিন কোটি টাকা কম দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তারা শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানান।

এরপর কর্মকর্তারা সবাই মিলে ভল্টের টাকা হিসাব করে তিন কোটি টাকা কম দেখতে পান। এর মধ্যে রোববার সন্ধ্যার দিকে ভল্টের গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, রোববার ভোর ৪টা ৫ মিনিটে মুখোশধারী এক লোক চাবি দিয়ে ভল্টের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় টাকা ভর্তি করে বের হয়ে যায়।

তারেক মনসুরের দায়ের করা মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪৬১/৩৮০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।