গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালকদের বিবৃতি; নির্বাচনপদ্ধতি পরিবর্তন ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকেরা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনপদ্ধতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। ‘আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পরিষদ গঠন করতে যাচ্ছে’—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন তথ্য উপস্থাপন করে এটিকে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তাঁরা।
গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকদের পক্ষে গতকাল শুক্রবার তাহসিনা খাতুনের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় যে বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা বুঝতে কারও কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
প্রসঙ্গত সরকার গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা, ২০১৪ প্রণয়ন করেছে। গত ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বিধিমালা জারির দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন হবে। এর মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে ভোটার তালিকা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান পরিষদের সদস্যদের পদ শূন্য বলে বিবেচিত হবে। এই বিধিমালা জারির দিন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। অন্যান্য নির্বাচন যেভাবে হয়, সেভাবেই হবে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালকদের নির্বাচনও। নির্বাচনে যেসব পরিচালক জয়ী হবেন, তাঁরাই পরিচালনা করবেন গ্রামীণ ব্যাংক।
বিদ্যমান গ্রামীণ ব্যাংক আইন অনুযায়ী, ১২ জন পরিষদ সদস্যের মধ্যে নয়জন তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। বাকি তিনজনকে নিয়োগ দেবে সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দশক ধরে যে পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে এ নির্বাচন হয়, তাতে এ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ কারও নেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ বা উপজেলা নির্বাচনের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের আড়াই হাজার শাখার ৮৪ লাখ সদস্য নিয়ে একযোগে নির্বাচন করতে গেলে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও রাজনৈতিক রূপ পাবে। কোন্দল, টাকার খেলা, পারস্পরিক কুৎসা—এগুলো ভোটের আগে ও পরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি ও হানাহানি তৈরি করবে। এভাবে নির্বাচিত একটি পরিচালনা পরিষদ যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি মোক্ষম হাতিয়ারে পরিণত হবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লিপ্ত গভীর ষড়যন্ত্র থেকে সরকার সরে আসবে। তা না হলে গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ সদস্য সম্মিলিতভাবে তাদের ব্যাংক ধ্বংসের অপচেষ্টা প্রতিহত করবেন।


আরোও সংবাদ