গ্যাসের অভাবে চালু হচ্ছে না সিইউএফএল

প্রকাশ:| বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:২৩ অপরাহ্ণ

ইমরান এমি. আনোয়ারা প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম সার উৎপাদন কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড সিইউএফএল চালু হচ্ছে না পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে।
জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ যান্ত্রিক ক্রুটির কারনে বন্ধ হয়ে যায়, এরপর দীর্ঘ দুই বছর প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে চলতি বছরের জানুয়ারির ১৫ তারিখে প্লান্টের প্রি-স্টার্টাআপ কার্যক্রম শুরু কওে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম ২৩ জানুয়ারি প্লান্টের লেঅড ৯০% এ উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু আগে দৈনিক চাহিদা ছিল ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট, এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস প্রয়োজন। দেশের গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের ঘাটতি থাকার বাইওে চটটগ্রাম অঞ্চলের পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতার কারনে জাতীয় গ্রীড হতে বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থায় কেজিডিএল নেটওয়ার্কে বাড়তি গ্যাস প্রবাহ সম্ভব নয়। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে কেজিডিসিএল বর্তমানে গড়ে দৈনিক ২৩০-২৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করতে সক্ষম হচ্ছে। তার মধ্যে কাফকোতে দৈনিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট, রাউজান বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট ও নন-বাল্ক খাতে দৈনিক ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
দৈনিক ৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস না পাওয়ায় দীর্ঘ দুই বছর পর চালু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও গ্যাসের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না বিপুল অর্থ ব্যায়ে করা অণ্যতম ইউরিয়া সার কারখানা সিইউএফএল। যার কারনে অসহায় হয়ে পড়ছে কর্মরত কর্মচারিরা।
তাই গতকাল বুধবার সকালে সিইউএফএল এক সংবাদ সম্মেলনে করে সিইউএফএল সিবিএ। সিবিএ কার্যকরী সভাপতি বজলুর রহমান ভূইয়ার মূল প্রবন্ধ উপাস্থপন করে। এতে বক্তব্য সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. আলম মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদ আনোয়ারুল আজিম সবুজ,
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম শাহ, বৈরাগ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোলায়মান, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের এ্যাডহক কমিটির সদস্য ফজলুল করিম চৌধুরী বাবুল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সিবিএ নেতৃবৃন্দ বলেন দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর চালু করার প্রক্রিয়া যখন সম্পন্ন ঠিক তখনই গ্যাসের অভাবে চালু হচ্ছে না দেশের অন্যতম সার কারখানা সিইউএফএল। অথচ সরকারের দামে একমাত্র সিইউএফএলই সার সরবরাহ কওে থাকে সারা দেশে, অন্য সার কারখানাগুলোর সার দেশের মানুষ পায় না। অথচ তাদেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবারহ করা হচ্ছে। অথচ তাদেও সার ক্রয় করতে গেলে আমাদেও থেকে তা তিনগুন বাড়তি দিয়ে নিতে হয়। বিপুল অর্থ ব্যায়ে মেরামদেও বিষয়টি যেমন পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তেমনিভাবে দীর্ঘদিন পর সিইউএফএল চালুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালের বিদ্যুৎ চাহিদা কম থাকায় দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সমন্বয় কওে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়টি বিবেচনা কওে, জাতীয় স্বার্থে রাউজান বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাস প্রত্যাহার করে সিইউএফএল এ গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সরকারের সুনজর কামনা করেছে সিবিএ ।
আরো জানা যায়, ইউরিয়া সিনথেসিস রিয়্যাক্টরের লাইনার পরিবর্তন ও কুলিং টাওয়ারগুলোর রিনোভেশনসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে গত ২০ জানুয়ারি অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের স্টার্ট-আপ শুরু করা হয়। চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রেসার ৮৩/৮০ পিএসআইজিতে চলে আসায় স্টার্ট-আপ কার্যক্রমের ব্যাখাত ঘটে, ৫ ফেব্রুয়ারি তা ৬৯/৬৬ পিএসআইজিতে নেমে যায়। গ্যাস স্বল্পতার কারনে প্রসেস অব্যহত রাখায় ফিড স্টক হিটার কয়েলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। লো সাকশন প্রেসারের কারনে ফিড গ্যাস কমপ্রেসারের স্পিড বেড়ে যাওয়ায় ফিড গ্যাস কমপ্রেসারের অস্বাভাবিক শ্বদ হয়। তাছাড়া প্রাইমারি রিফরমারের ইনলেট ফ্লোএর উঠা নামার কারনে সেকেন্ডারি রিফরমারের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অস্থিতিশীল হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্লান্ট স্টার্ট-আপ অথ্যন্ত ঝ’কিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সিইউএফএলের স্টার্ট-আপ সম্পন্ন করতে এবং নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য ন্যূনতম ১০০ পিএসআইজি প্রেসাওে ৪৯ এমএমসিএফডি গ্যাসের প্রয়োজন। ছলতি মাসের ৪ তারিখে গ্যাসের পরিমান ছিল ৩৪.৩৪ এমএমসিএফডি। বর্তমানে গ্যাস প্রেসার অত্যধিক কমে যাওয়ায় স্টার্ট-আপ কাজের অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে। এধরনেল স্বল্প গ্যাস প্রেসাওে কারখানা স্টার্ট-আপ অভ্যহত রাখলে বিভিন্ন মেশিনারিজ ক্ষতিগ্রস্তসহ যে কোন সময় বড় কোন দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।