গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায়ের আপিলে নীরব কামরুল

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ জুলাই , ২০১৩ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দায়ের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়ার রায়ে সরকার আপিল B-B-C--songlop-bg20130720090920করবে কিনা এ বিষয়ে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

শনিবার বিকেলে রাজধানী বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই নীরবতা পালন করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদণ্ডের রায় দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে গণজাগরণ মঞ্চসহ প্রগতিশীল কয়েকটি সংগঠন।

জামায়াতকে কখন নিষিদ্ধ করবেন এ প্রশ্নের জবাবে কোনো সময়-তারিখ বলেননি আইন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যথাসময়ে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।”

কী সিদ্ধান্ত নেবেন সঞ্চালক জানতে চাইলে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন “ওয়েট অ্যান্ড সি”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ৩৬তম পর্বের আজকের প্যানেল আলোচক ছিলেন, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাবেক সচিব ও কলামিস্ট শাহ আব্দুল হান্নান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদণ্ড দিয়ে সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি কেন উপস্থিত এক দর্শক-শ্রোতার এ প্রশ্নের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, “গোলাম আযম ছিলেন নাটের গুরু। আমরা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শান্তির আশা করেছিলাম। তবে যে রায় হয়েছে, তাতে সরকার সন্তষ্ট প্রকাশ করেছে, তা ঠিক না। মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর বিচার শুরু করতে পারায় সরকার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।”

তিনি আরো বলেন, “সরকার মুজাহিদের রায়ে সন্তুষ্ট।”

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সরকার আপিল করবে কিনা সঞ্চালক জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

তবে মীর নাসির বলেন, “আদালত রায়ের কপি পাওয়ার পর আমরা প্রতিক্রিয়া জানাবো। আমরা চাই, সর্বোচ্চ ও আন্তর্জাতিকমানের বিচার। কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা না করার পক্ষে বিএনপি।”

তিনি বলেন, “বিচারটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এ বিচার হবে না এটা ঠিক নয়।”

তিনি বলেন, “বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি কখনও এ বিচারে হস্তক্ষেপ করবে না।”

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই বিচার শুরু করেনি কেন প্রশ্ন রেখে মীর নাসির বলেন, “স্বাধীনতার পর চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। বর্তমানে কেবল কয়েকজনের বিচার হচ্ছে কেন?”

এ প্রসঙ্গে শাহ আব্দুল হান্নান বলেন, “টাইব্যুনাল আন্তর্জাতিকমানের নয়। বিশ্বের কোনো সংস্থা বা সংগঠন এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৩ সালে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, তা কেবল পাকিস্তানি অফিসারদের বিচার করার জন্য। কিন্তু, এরপর ট্রাইব্যুনাল রাখা হয়েছে কেন? এখন পর্যন্ত যে রায় এসেছে, তা আন্তর্জাতিকমানের নয়।”

গীতি আর নাসরিন বলেন, “আমরা চাই, সর্বোচ্চ শাস্তি। শুধু ফাঁসি নয়।”

তিনি বলেন, “রায়ের বিধান কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে জনগণের সংশয় আছে।”

ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে ‘অপরাধী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করায় এই দলটির ভবিষৎ কী খালেদ ইমরানের এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আব্দুল হান্নান বলেন, “রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ দেওয়া আদালতের ঠিক নয়।”

তিনি বলেন, “জামায়াত বড় একটি রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিকভাবে এই দলকে নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।”

জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে আমার কোনো আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের যে তরুণ ও মাঝারি নেতা আছে, তারাই এই দলের হাল ধরতে পারবে।”

গীতি আরা নাসরিন বলেন, “যে দলটি ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”

মীর নাসির বলেন, “জামায়াত তার নিজস্ব আঙ্গিকে রাজনীতি করছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে আরো শক্তিশালী করছে।”

তিনি বলেন, “দল নিষিদ্ধের ইতিহাস আছে। কিন্তু, এর ফল ভালো নয়। মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করলেও ৪০ বছর পর তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এসেছে। সুতারাং জামায়াতকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করবে না। এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।”

শফীর নারী বিরোধী বক্তব্যের পর তাকে সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এক দর্শক জানাতে চাইলে, কামরুল ইসলাম বলেন, “ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে শফী দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে দেশের সব প্রগতিশীল ও নারী সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।”

কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন বোর্ডের পদ থেকে তাকে সরানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি নিয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে।”

মীর নাসির বলেন, “সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে? তারা উল্টো হেফাজতকে ৫০টি আসন দিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে গিয়েছিল। এছাড়া গাজীপুরে আজমতের পক্ষে ভোটও চেয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আমি মনে করি, এগুলো সরকারের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি।”

তিনি বলেন, “মানুষের বাক স্বাধীনতা আছে। শফীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক না।”

আব্দুল হান্নান বলেন, “শফী যা বলেছেন তা উদাহরণ স্বরূপ বলেছেন। তার বাক স্বাধীনতা আছে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে আদালতে যেতে হবে।”