গোপনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের পাঁয়তারা

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত উপকূলের সবচেয়ে প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্টান পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনে বর্তমানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রায় সময়ই আমেরিকায় অবস্থান করা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকদের নানা অনিয়মের কারনে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্টানটি আজ ধ্বংসের ধারপ্রান্তে। এ নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন সুশীল সমাজ।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত কয়েক বছর ধরে পত্রিকায় বেশ কয়েকবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও রহস্যহনক কারনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছেনা। আর বিদ্যালয়ে কোন ধরনের অর্থ উপ-কমিটিও নেই। বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের সঠিক কোন পরিসংখ্যানও নেই। কয়েকজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ে কোচিং এর নামে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চালায় প্রাইভেট বানিজ্য। ফলে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশি¬ষ্ট সচেতন সমাজ ,অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। আর গত কয়েক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাষ্টার এনামুল হক চৌধুরী।

অভিযোগ উঠেছে, বেশ কয়েকবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি প্রধান শিক্ষক পদটি পূরণে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৌশলে প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে আকড়ে ধরে রাখদে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের যেকোন অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে কয়েকজন অসাধু শিক্ষক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি চালিয়ে গেলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী আহসান চৌধূরী এ নিয়ে কোন ধরনের মাথা ব্যথা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের কোন খোঁজ খবর রাখেন না আলী আহসান চৌধুরী। চলতি বছরের ৯ আগষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আশি দিন পূর্বে প্রবিধানমাল ২০০৯ এর ৭ধারা মোতাবেক পুনরায় নিয়মিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর বিধান রয়েছে। এ বিধানের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জন্য প্রধান শিক্ষক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে তা শিক্ষার্থীদের সরবরাহ বা প্রকাশের নিয়মও রয়েছে। কিন্তু পেকুয়া জিএমসি‘র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষা বোর্ডের সেই বিধি মানছেননা বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য কোন ধরনের কাজ শুরু করছেনা। উল্টো গোপনে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা গোপনে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য কমিটি করলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাষ্টার এনামুল হক চৌধুরী গোপনে রেজুলেশন করে তার ইচ্ছেমতো পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা চালাচ্ছেন। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য দুই বছরের জন্য একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। আর কমিটিতে ৫জন অভিভাবক সদস্য এরমধ্যে একজন নারী, ৩জন শিক্ষক প্রতিনিধি এর মধ্যে একজন নারী শিক্ষক, দাতা সদস্য ১জন, প্রতিষ্টাতা সদস্য ১জন, পদাধিকার বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর অভিভাবক সদস্য ও অন্যান্য সদস্যদের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে দুই বছরের একজন সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রত্যেক পদে একাধিক প্রার্থী হলে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাষ্টার এনামুল হক চৌধুরী গোপনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য সম্প্রতি নানা ধরনের তোড়জোড় শুরু করেছেন।

বিশ্বস্থ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের এক নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার জন্য কাজ করছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পেকুয়ার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।