গৃহবধু ইয়াসমিন হত্যা মামলা দায়ের, স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১১ মে , ২০১৭ সময় ০৫:৫০ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান ঃ রাউজানের বড়ঠাকুর পাড়া এলাকায় গৃহবধু ইয়াসমিন আকতার হত্যা মামলা দায়ের হত্যাকন্ডের ঘটনার সাথে জড়িত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । রাউজান উপজেলার ১০ নং পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের বড়ঠাকুর পাড়া এলাকায় স্বামী ও শ্বাশুর শাশুরীর নির্যাতেনে নিহত গৃহবধুর ইয়াসমিন আকতার হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইয়াসমিন আকতারের ভাই কামাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ মে বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন । মামলায় ইয়াসমিন আকতারের স্বামী জানে আলম(৪০)শ্বাশুর আবদুল লতিফ (৬৫) শ্বাশুরী হালিমা আকতার (৫৫) কে আসামী করা হয় । মামলার এজাহারে মামলার বাদী কামাল হোসেন উল্লেখ করেন তার বোন ইয়াসমিন আকতারকে গত তিন বৎসর পুর্বে বিয়ে করেন রাউজানের বড়ঠাকুর পাড়া এলাকার আবদুল লতিফের পুত্র জানে আলম । বিয়ের পর যৌতুকের জন্য ইয়াসমিন আকতারকে মারধর করতো স্বামী জানে আলম, শাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন । ইয়াসমিন আকতারকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় স্বামী জানে আলমকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয় । ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়ার পর ও স্বামী জানে আলম,শ্বাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন আবারো যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত ইয়াসমিন আকতারকে চাপ দেয় । ইয়াসমিন আকতার যৌতুকের টাকা দিতে পারবেনা অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী জানে আলম, শাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন শারিরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে । নিয়াতন সহ্য করে স্বামী ঘরে জীবন যাপন করেন । ইয়াসমিন আকতারের এক কন্যা সন্তান জম্মলাভ করেন । ইয়াসমিন আকতার তার পিতার বাড়ী থেকে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় তাকে মারধর করে তার বাপের বাড়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শরফভাটায় পাঠিয়ে দেয় স্বামী জানে আলম, শাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন। গত দুই মাস পুর্বে স্বামী জানে আলম, শাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন যৌতুকের জন্য আর নির্যাতন করবেনা বলে অঙ্গিকার করে ইয়াসমিন আকতারকে তার বাপের বাড়ী থেকে নিয়ে আসেন আসামীরা । গত ১০ মে বুধবার দুপুরে ইয়াসমিন আকতার (২৫) কে যৌতুকের জন্য স্বামী জানে আলম, শাশুর আবদুল লতিফ, শ্বাশুরী হালিমা খাতুন একজোট হয়ে মারধর করে পরিকল্পিত ভাবে ইয়াসমিন আকতারকে হত্যা করে ইয়াসমিন আকতার ঘরের পেছনে পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচারনা চালায় । এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে রাউজান থানা পুলিশকে সংবাদ দেয় এলাকার লোকজন । রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইয়াসমিণ আকতারের লাশ তার শ্বাশুর ঘর থেকে উদ্বার করে। রাউজান থানার এস আই নুর নবী নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধু ইয়াসমিন আকতারের লাশঁ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয় । লাশের ময়না তদন্ত শেষে ইয়াসমিন আকতারের লাশঁ তার পিতার বাড়ী রাঙ্গুনিয়ার শরফভাটা এলাকায় নিয়ে যায় তারভাই কামাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা । ইয়াসমিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এজাহার নামীয় আসামী ঘাতক স্বামী জানে আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করেছে । মামলার তদন্ত করছেন পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়ির ইনচার্জ এস আই মহসিন রেজা ।