গুমের সঙ্গে জড়িত সরকার ও সরকার দলীয় লোকজন

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ মে , ২০১৪ সময় ০৬:৪১ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ৪ মে : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ziaএ নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আন্দোলনে যাবার আগেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। এ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য নয়। গুমের সঙ্গে সরকার ও সরকার দলীয় লোকজন জড়িত বলে দাবি করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

রোববার প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিএনপির গণঅনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, গুম ও খুন বিএনপির আমলে হয়নি। সিরাজ শিকদারকেও এভাবে হত্যা করা হয়েছিলো স্বাধীনতার পর।

তিনি বলেন, সরকারকে এসব গুম ও খুনের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন এ সব গুম ও খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের সম্মুখীন করে শাস্তি দেয়া হবে।

খালেদা জিয়া এ সময় দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশে ভোট হয়নি। সারাদেশেই কোনো ভোট হয়নি। ঢাকা শহরের কেন্দ্রগুলোও ছিলো ফাঁকা।

‘যেখানে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি সেখানে কিভাবে ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে’ প্রশ্ন রাখেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ছিলো শুধু কুকুর আর পুলিশ।

বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রিসভার সদস্য হন কিভাবে প্রশ্ন রেখে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ একদলীয় শাসন চলছে, আরেক দিকে শোষণ।

নারায়ণগঞ্জে গুম ও খুনের প্রতিবাদে শনিবার সংসদ ভবনের সামনে সুশীল সমাজের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেয়ার ঘটনা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তাদের সেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে দেয়নি। ব্যানার কেড়ে নিয়েছে।।

খুন, গুম-অপহরণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে এই গণ-অনশন কর্মসূচি ডাকা হয়।

এর আগে, বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রেসক্লাবে পৌঁছে গণঅনশনে সংহতি জানান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় গণঅনশন কর্মসূচি।

অনশন শুরুর পর বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ফুঁসে ওঠা মানুষদের ‘আই-ওয়াশ’ করতেই এতদিন পর অভিযান চালানো হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান, কিন্তু এতদিন পরে কেন? তদন্তের নামে আই-ওয়াশ দিচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দল-মত নির্বিশেষে এই অবস্থা প্রতিহত করতে হবে। দেশে এখন এক ব্যক্তির শাসন চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে হবে। কাউকে যেন গুম হতে না হয় সেজন্য বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যদি এমন কথা বলেন, তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত কখনোই হতে পারে না।

ফখরুল বলেন, গুম অপহরণে নাকি বিএনপির হাত আছে। বিএনপি তো ভিকটিম। বিএনপিকে নির্মূল করতেই তো এসব করছে সরকার।

ফখরুল অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকার আজ বিরোধীদল দমনে ব্যবহার করছে।

প্রেসক্লাব মিলনায়তনের সামনে উত্তরম‍ুখী অনশন মঞ্চে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, এমকে আনোয়ার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শমসের মোবিন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, এনাম আহমেদ চৌধুরী, মুশফিকুর রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম


আরোও সংবাদ